কক্সবাজারে ইউএনওর বিরুদ্ধে আদালতে এনজিও কর্মীর অভিযোগ

কক্সবাজার প্রতিনিধি

সোমবার , ১৮ নভেম্বর, ২০১৯ at ৪:১৩ পূর্বাহ্ণ
139

কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচএম মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে হাজতে দেয়ার ভয় দেখিয়ে ঘুষ গ্রহণ ও মামলার আসামি করে কারারুদ্ধ রাখার হুমকি দিয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর আদায় করার অভিযোগে আদালতে ফৌজদারি দরখাস্ত করেছেন এক নারী এনজিও কর্মী। দরখাস্তের বাদী মমতাজ সফিনা আজিম স্কাস নামের এক এনজিও’র সমন্বয়কারী। কক্সবাজার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে দুর্নীতি দমন আইনে করা এ ফৌজদারি দরখাস্তের বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ ও পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আগামী ২০ নভেম্বর দিনধার্য রয়েছে। কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচএম মাহফুজুর রহমান তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিন ইউনিয়নে অসংখ্য নারীর ভিজিডির জমানো টাকা ফেরত প্রদান না করায় ওই নারী এনজিও কর্মীকে অফিসে ডেকে এনে উপস্থিত চেয়ারম্যান ও ভূক্তভোগীদের সামনে তাৎক্ষণিকভাবে সাদা কাগজে মোচলেকা নেয়া হয়েছিল টাকা ফেরত দেয়ার শর্তে। কিন্তু সেই টাকা প্রদান না করে উল্টো আমার বিরুদ্ধে তিনি সংবাদ সম্মেলন করছেন।
‘স্কাস’ এর কক্সবাজারস্থ সমন্বয়কারি ও জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম নুরুল আজিম চৌধুরীর মেয়ে মমতাজ সফিনা আজিম দাবি করেন, তার সংস্থা কক্সবাজার সদর ও পেকুয়া উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে সুবিধাভোগীদের মাঝে ভিজিডি’র টাকা বিলি করার দায়িত্বে রয়েছে। সংস্থাটি ভিজিডির টাকা বিলিকালে সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ২০০ টাকা হারে সঞ্চয় হিসেবে রাখে। পরে তা বিলি করে দেয়া হয়। বিলির পর ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে প্রত্যয়নপত্র নিতে হয়।
তিনি দাবি করেন, নিয়ম মোতাবেক পিএমখালী ইউনিয়নে ভিজিডি’র টাকা বিলির পর ইউপি থেকে প্রত্যয়নপত্র গ্রহণ করা হয়। পরে গত ১৭ অক্টোবর কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচএম মাহফুজুর রহমানের কাছে প্রত্যয়নপত্রের জন্য গেলে সেখানে তাঁর (মমতাজ সফিনা আজিম) সাথে দুর্ব্যবহার করা হয়। এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে ‘আটকে রেখে’ ভয় দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ আদায় করার অভিযোগ করেন মমতাজ সফিনা আজিম।ওই সময় অলিখিত সাদা কাগজে এনজিও সংস্থার সমন্বয়কারি হিসেবে তাঁর স্বাক্ষরও নিয়ে রাখা হয় বলে দাবি করেন মমতাজ সফিনা আজিম।
তিনি জানান, গত ৭ নভেম্বর কক্সবাজার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে তিনি অভিযোগটি করেন। কিন্তু তার আইনজীবীর অসুস্থতার কারণে ওইদিন ফৌজদারি কার্যবিধির ২০০ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করা সম্ভব হয়নি।

x