ওয়াসার স্বার্থেই দূষণমুক্ত রাখতে হবে হালদা ও কর্ণফুলীকে

পানিসম্পদের বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব

আজাদী প্রতিবেদন

বুধবার , ১৫ মে, ২০১৯ at ৫:১৫ পূর্বাহ্ণ
168

চট্টগ্রাম ওয়াসার এমডি একেএম ফজলুল্লাহ বলেন, পুরনো পাইপ লাইনের কারণে আমাদের সক্ষমতা সত্ত্বেও পানি উচ্চ চাপে সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে ৬০ পিএসআই’র বেশি চাপ দেওয়া হলে অনেক পাইপ লাইন ফেটে যায়। অথচ ওয়াসা একশত পিএসআই’র ব্যবহারের সক্ষমতা রাখে। জনসচেতনতা ছাড়া পরিষ্কার পানি সরবরাহ সম্ভব নয়। কারণ আমরা যদি আমাদের পানির ট্যাংক নিয়মিত পরিষ্কার না করি তাহলে সেই পানি দূষিত হয়ে যায়। এসডিজি ইয়ুথ ফোরামের উদ্যোগে চট্টগ্রাম ওয়াসার কনফারেন্স হলে গতকাল মঙ্গলবার এসডিজি (৬) ‘নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনের অগ্রগতি, সমস্যা ও করণীয়’ বিষয়ক সেমিনারে প্যানেল আলোচকের বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথা বলেন।
মূল প্রবন্ধকার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক এসএম আরাফাত বলেন, স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিয়ে চট্টগ্রাম ওয়াসার চেষ্টার ইতিহাস বহু পুরনো। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ১৯৮৪ সালে চট্টগ্রামের প্রথম স্যানিটেশন মাস্টার প্ল্যান তৈরি হয়। কিন্তু তা অর্থ সংকটের কারণে বাস্তবায়ন হয়নি। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে কোরিয়ান সরকারের অর্থায়নে স্যানিটেশন মাস্টার প্ল্যান তৈরি করা হলেও অদৃশ্য কারণে আলোর মুখ দেখেনি। সর্বশেষ বাংলাদেশ সরকার ২০১৬ সালে এসডিজি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চট্টগ্রামের স্যানিটেশন মাস্টার প্ল্যান তৈরি করার উদ্যোগ নেয়। ২০১৭ সালে সেই প্ল্যান অনুমোদন পায়। এই প্ল্যান ৬টি ধাপে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রথম ধাপের জন্য ৩০৮৪ কোটি টাকা বরাদ্দ পায়। এখন প্রথম ধাপের প্রকল্পের কার্যক্রম চলমান। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনজুরুল কিবরীয়া বলেন, হালদা ও কর্ণফুলী নদী যদি কোন কারণে দূষিত হয়ে পড়ে, ওয়াসার কোন বিকল্প পানি সরবরাহ ব্যবস্থা নেই। তাই আমাদের নদীগুলোকে দূষণমুক্ত রাখতে হবে।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা: আজিজুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, জনস্বাস্থ্যর ব্যাপারে আমাদের নাগরিকদের সচেতন হতে হবে। যে সকল পাত্রে আমরা পানি সংগ্রহ করি সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা আমাদের দায়িত্ব। এছাড়া আলোচনায় বক্তারা বলেন, পানি মহামূল্যবান সম্পদ। পানি সম্পদের বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবস্থাপনা, সুনিপুন পরিকল্পনায় পরিশোধন, রক্ষণ, ব্যবহারে সক্ষমতা ও সচেতনতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই। পানির উৎপাদন বৃদ্ধি আবশ্যক। নদীময় বাংলাদেশে মানবসৃষ্ট কারণে নদী, খালবিল, জলাশয়গুলোর মধ্যে অধিকাংশই মৃতপ্রায়। পানির উৎসসমূহ পরিচ্ছন্ন রাখা ও বাঁচিয়ে রাখা জরুরি। স্যানিটেশন বর্জ্যের পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা দরকার । কিছু ক্ষেত্রে সুয়্যারেজের লাইনের সাথে পানির লাইন এক হয়ে দূষণ ছড়াচ্ছে। বস্তি ও প্রান্তিক বহু এলাকায় সুয়্যারেজ এর চরম ঘাটতি ও পানির অপ্রাপ্যতা সমস্যা বিদ্যমান। দেশের সকল জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্যসম্মত পয়ঃনিষ্কাশন ও নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে হবে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি ৬) অর্জনের জন্য।
এসডিজি ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি নোমান উল্লাহ বাহারের সভাপতিত্বে ও অধ্যাপক শামসুদ্দিন শিশিরের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন এসডিজি ইয়ুথ ফোরামের সহ-সভাপতি ফরিদ আলম ও চট্টগ্রাম ওয়াসার সচিব ড. পিযূষ দত্ত। প্যানেল আলোচক ছিলেন- দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ। এছাড়া মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন, পরিবেশবিদ অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী, কারিতাস, চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক জেমস গোমেজ, উপকূলীয় উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ ড. সানাউল্লাহ, ফুলকলি’র জিএম এমএ সবুর, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি, চট্টগ্রাম অঞ্চলের যুগ্ম সম্পাদক শিমুল কান্তি মহাজন প্রমুখ।

x