ওয়াসার পানির দাম ৬২ শতাংশ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিল দাবি

রবিবার , ১৮ আগস্ট, ২০১৯ at ৫:০৯ পূর্বাহ্ণ
39

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) চট্টগ্রাম জেলা শাখার আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব যথাক্রমে কমরেড মানস নন্দী ও অপু দাশ গুপ্ত এক বিবৃতিতে চট্টগ্রাম ওয়াসা কর্তৃক পানির ৬২ শতাংশ দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে অবিলম্বে এ জনবিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিলের জোর দাবি জানিয়েছেন। নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে বলেন, ‘ওয়াসা ৯ আগস্ট প্রতি ইউনিট (১ হাজার লিটার) পানির দাম আবাসিক সংযোগে ৯ টাকা ৯২ পয়সার স্থলে ১৬ টাকা ও বাণিজ্যিক সংযোগে ২৭ টাকা ৫৬ পয়সার স্থলে ৪০ টাকা নির্ধারণ করেছে অর্থাৎ প্রায় ৬২ শতাংশ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওয়াসা গত জানুয়ারি মাসেও পানির দাম ৫ শতাংশ বৃদ্ধি করেছিল। অথচ ওয়াসা আইন, ১৯৯৬ এর ২২ ধারা অনুযায়ী ওয়াসা একবছরে সর্বমোট ৫ শতাংশ হারে পানির দাম বাড়াতে পারে। ফলে জানুয়ারিতে ৫ শতাংশ হারে বাড়ানোর পর, ৬ মাসের ব্যবধানে পানির দাম প্রায় ৬২ শতাংশ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত ওয়াসা আইনেরও বিরোধী। ওয়াসাকে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের প্রয়োজন পড়বে। সমপ্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগের মন্ত্রী তাজুল ইসলাম ওয়াসাকে পানির দাম বাড়াতে বলার পরই এ ঘোষণা আসায়, ধারণা করা যায় সরকার এ দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বহাল রাখবে। গত ৭ বছরে ওয়াসা সাত দফা পানির দাম বাড়িয়েছে। অথচ ওয়াসার সেবার মান বাড়েনি। সেবার মান বৃদ্ধির দিকে নজর না দিয়ে ওয়াসা গ্রাহকের ঘাড়েই মূল্যবৃদ্ধির বোঝা তুলে দিয়েছে। সিস্টেম লসের কারণে প্রতি মাসে ওয়াসা প্রায় আড়াই কোটি টাকার রাজস্ব বঞ্চিত হয়। শিল্পপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন গ্রাহকের কাছে প্রায় ৮০ কোটি টাকা বকেয়া পড়ে আছে। উক্ত রাজস্ব ও বকেয়া আদায় করা হলে, সিস্টেম লসের নামে চুরি দুর্নীতি, লিকেজের কারণে অপচয় বন্ধের উদ্যোগ নিলে দাম বৃদ্ধির কোন প্রয়োজন পড়ে না। ওয়াসা কোন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান নয়, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় গড়ে উঠা সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। তাকে জনস্বার্থেই পরিচালিত করতে হবে। পানির দাম বৃদ্ধির ফলে জিনিসপত্র, বাসা ভাড়াবৃদ্ধি সহ জনগণের কাঁধে আরেকদফা মূল্যবৃদ্ধির বোঝা চাপবে।’ নেতৃবৃন্দ চট্টগ্রাম ওয়াসার পানির দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত রুখে দাঁড়াতে চট্টগ্রামবাসীকে আহ্বান জানান। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

x