ওয়াটার বাস পরিদর্শনে সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিকবৃন্দ

আজাদী প্রতিবেদন

মঙ্গলবার , ৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ at ৫:০৫ পূর্বাহ্ণ
1355

চট্টগ্রামের বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকার সম্পাদকসহ সিনিয়র সাংবাদিকরা গতকাল ওয়াটার বাস পরিদর্শন করেছেন। নতুন উদ্ভাবনী ওয়ান স্টপ সার্ভিস প্রকল্পটি পরিদর্শন করার জন্য সম্পাদকদের আমন্ত্রণ জানালে গতকাল বিকেলে চট্টগ্রামের বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকার সম্পাদকসহ সিনিয়র সাংবাদিকরা সদরঘাটস্থ ওয়াটারবাস টার্মিনালে উপস্থিত হন এবং টার্মিনালের সুবিধাসমূহ পরিদর্শন করেন। পরে তাঁরা টার্মিনাল থেকে ওয়াটারবাস যোগে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দেন। ১৮ মিনিটে ওয়াটার বাসটি পতেঙ্গা টার্মিনালে পৌঁছে। সেখানে কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে ফিরতি পথে তারা আবারো ওয়াটার বাসযোগে ২০ মিনিটে সদরঘাট টার্মিনালে এসে পৌঁছেন
গতকাল দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক, লায়ন্স জেলা গভর্নর কামরুন মালেক, কবি আবুল মোমেন, দৈনিক সুপ্রভাত বাংলাদেশের সম্পাদক রুশো মাহমুদ, দৈনিক কর্ণফুলী সম্পাদক আবসার উদ্দীন চৌধুরী, দৈনিক আজাদীর পরিচালনা সম্পাদক ওয়াহিদ মালেক ও দৈনিক আজাদীর নির্বাহী সম্পাদক শিহাব মালেক ওয়াটার বাস পরিদর্শন করেন। এই সময় ওয়াটার বাস পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এসএস ট্রেডিংয়ের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার সাখাওয়াত হোসেন এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার সাবাব হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রাম শহরের ট্রাফিক যানজট নিরসনে ‘কর্ণফুলী নদীতে ওয়াটার বাস সার্ভিস’ শীর্ষক একটি অত্যন্ত যুগপযোগী নতুন প্রকল্প সম্পন্ন হয়েছে যা চট্টগ্রামের মানুষের জীবনধারাকে সহজ করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। প্রকল্পটি চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেড এবং এসএস ট্রেডিং যৌথভাবে পরিচালনা করবে।
প্রতিদিন গড়ে ৮০০০ যাত্রী চট্টগ্রাম হযরত শাহ্‌ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আগমন ও বহির্গমন করেন। যাত্রীদেরকে প্রচণ্ড যানজট উপেক্ষা করে চট্টগ্রাম শহর থেকে বিমানবন্দরে যাতায়াত করতে হয়। খুব শীঘ্রই চট্টগ্রামের টাইগার পাস থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত ফ্লাইওভার ও এঙপ্রেসওয়ের কাজও আরম্ভ হবে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, যানজটের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাবে।
বর্তমানে চট্টগ্রাম শহর থেকে হযরত শাহ্‌ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পৌঁছতে গড়ে প্রায় ২ ঘণ্টা সময় লাগে। প্রায়শঃ ভারী যানবহন চলাচলের কারণে যাত্রীদের ভোগান্তি ও ফ্লাইট ধরতে না পরার ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম ও মারাত্মকভাবে ব্যহত হয়ে থাকে এবং লীড টাইম বেড়ে যায়।

উল্লেখিত, এই যানজটের সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে এবং যাত্রীদেকে নিরাপদে ৩০ মিনিটের মধ্যে বিমানবন্দরে পৌঁছে দেয়ার জন্য বিকল্প এ ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। এই ওয়াটার বাস চালু হলে চট্টগ্রাম শহরের উত্তর ও দক্ষিণের ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নতি ঘটবে এবং কর্মচাঞ্চল্য বাড়বে।
যাত্রীদের অধিক সুবিধা ও নিরাপত্তার কথা ভেবে ৩৭ ফুট দৈর্ঘ্য, ১১ ফুট প্রস্থ এবং ২টি ২০০ এইচপি জাপানি ইয়ামাহা ইঞ্জিন সমৃদ্ধ ২টি শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত ওয়াটার বাস নির্মাণ করা হয়েছে, যা প্রতি ঘণ্টায় ৩৫ নটিক্যাল মাইল গতিতে চলাচল করতে সক্ষম। আরও ২টি ওয়াটার বাস নির্মাণাধীন রয়েছে যা সদরঘাট থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত যাত্রীদের আনা নেয়া করবে। প্রতিটি ওয়াটারবাসের ধারণ ক্ষমতা ৩০ জন। ২টি শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত বাস রয়েছে যা পতেঙ্গা জেটি থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত যাত্রীদেরকে আনা নেয়া করবে। বিমান বন্দরের ফ্লাইটের সাথে সমন্বয় রেখে প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত এ সার্ভিস চালু থাকবে।
সদরঘাটে অত্যাধুনিক শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত দ্বিতল টার্মিনাল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে যেখানে যাত্রীগণের জন্য ওয়েটিং লাউঞ্জের ব্যবস্থা রয়েছে। যাত্রীগণ তাদের লাগেজ কাউন্টারে জমা দিলে ওয়াটারবাস কর্তৃপক্ষ নিজ দায়িত্বে তাদের লাগেজ চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দর পর্যন্ত এবং বিমানবন্দর থেকে সদরঘাট পৌঁছে দিবে। প্রকল্পটি শীঘ্রই চালু হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

x