এ পি জে আবদুল কালাম: একজন আদর্শবাদী

মঙ্গলবার , ১৫ অক্টোবর, ২০১৯ at ৪:৫৭ পূর্বাহ্ণ
42

এ পি জে আবদুল কালাম – খ্যাতিমান পরমাণু বিজ্ঞানী, লেখক এবং ভারতবর্ষের সাবেক রাষ্ট্রপতি। তিনি বিশেষভাবে খ্যাতিমান ছিলেন ‘মিসাইলম্যান’ হিসেবে। ব্যক্তিগত জীবনে নিতান্ত সহজ, সরল ও অনাড়ম্বর জীবনযাপনে অভ্যস্ত ছিলেন। আজ তাঁর ৮৮তম জন্মবার্ষিকী।
বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী আবদুল কালামের জন্ম ১৯৩১ সালের ১৫ অক্টোবর ভারতের তামিলনাড়ু প্রদেশের রামেশ্বরমে। ছোট্ট এই শহরে বাবা ছিলেন মৎসজীবী। দারিদ্র্যের কারণে পরিবারে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য মাত্র আট বছর বয়সে খবরের কাগজ বিক্রি করতে হয়েছে তাঁকে। কিন্তু তাই বলে দমে যান নি। স্বপ্ন দেখতেন যুদ্ধবিমান পাইলট হওয়ার। পরবর্তী সময়ে হন রকেট বিজ্ঞানী। লেখাপড়া করেছেন বিমান প্রকৌশল বিষয়ে। ভারতের প্রথম মহাকাশযান তৈরিতে তাঁর ভূমিকা ছিলো মুখ্য। এই মহাকাশযান দিয়ে দেশটি ১৯৮০ সালে প্রথম মহাকাশে উৎক্ষেপণ করে ক্ষেপনাস্ত্র ‘রোহিনী’। তাছাড়া ১৯৯৮ সালে ভারতের পারমাণবিক অস্ত্র ‘পোখরান-২’ এর পরীক্ষা চালানোর পেছনেও প্রধান ভূমিকা রাখেন আবদুল কালাম। পরমাণু বিজ্ঞানী হিসেবে ভারতকে বিশ্বের অন্যতম পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইলেও পরবর্তীসময়ে তিনিই পরমাণু অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব গড়ে তোলার প্রচারে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন। ভারতের ১১তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে ২০০২ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করেন। ‘পদ্মভূষণ’, ‘পদ্মবিভূষণ’ এবং ভারতের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘ভারতরত্ন’ উপাধিতে ভূষিত হন তিনি। একাধিকবার বাংলাদেশ সফরে আসেন আবদুল কালাম। ছিলেন অসাধারণ বাগ্মী।
বক্তৃতা দিতে খুব পছন্দ করতেন। তাঁর বক্তৃতার প্রতিটি কথা জ্ঞানগর্ভ ও প্রেরণাদায়ক। আর ব্যক্তিজীবনের অভিজ্ঞতাসঞ্জাত জ্ঞান তরুণদের জন্য চিরায়ত আদর্শ । আবদুল কালাম রচিত বিভিন্ন গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আত্মজীবনী ‘উইংস অব ফায়ার’। ২০১৫ সালের ২৭ জুলাই ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ে তিনি ইন্তেকাল করেন। শিলংয়ে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানের সময় তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি মারা যান। তাঁর মৃত্যুতে একটি নক্ষত্রের চিরবিদায় ঘটে।

x