এ কেমন শত্রুতা!

মো. ছফওয়ানুল করিম, পেকুয়া

সোমবার , ২ ডিসেম্বর, ২০১৯ at ৯:১৭ অপরাহ্ণ
85

এ যেন গাছের সাথেই শত্রুতা! রাতের আঁধারেই শতাধিক গাছ কেটে সাবাড় করে দিয়েছে একদল দুর্বৃত্ত। সবুজ চাদরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা গাছগুলোর দৃশ্য রাত পেরিয়ে ভোর হতেই দেখা যায় ভিন্ন। শতাধিক সবুজ গাছ মাথা নুয়ে যেন অশ্রু ঝরাচ্ছে অঝোর ধারায়।

রবিবার (১ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে ঘটনাটি ঘটে পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূর্ব মেহেরনামা বাঘগুজারা এলাকায়।

আজ সোমবার (২ ডিসেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় সমাজসেবক কামাল হোছাইন তার মালিকানাধীন একটি জমিতে ৫ বছর আগে প্রায় ৫ শতাধিক গাছ লাগিয়ে সেগুলোকে যত্ন-পরিচর্যা করে অনেক বড় করে তোলেন এবং পুরো এলাকায় একটি অভূতপূর্ব সবুজের সমারোহ তৈরি হয় কিন্তু ঘটনার রাতে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা তার যত্নে বড় করা শতাধিক গাছ কেটে সাবাড় করে দেয়।

কামাল হোছাইন সাংবাদিকদের বলেন, ‘রাতের আঁধারে এভাবে গাছ কেটে দেয়া বড় ধরনের অপরাধ। এসব গাছ আমি নদীর ভাঙন থেকে সড়ককে রক্ষা করতে লাগিয়েছিলাম। অনেক যত্নে গাছগুলো বড় করেছি। এসব গাছেরতো প্রাণ আছে কিন্তু গাছের সাথে তাদের কীসের শত্রুতা আমি বুঝে উঠতে পারছি না।‘

তিনি মনে করেন, সরকার যেখানে উপকূলে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলার কাজ করছেন সেখানে রাতের আঁধারে সবুজ বেষ্টনী কেটে উজাড় করা বড় ধরনের একটি অপরাধ। তিনি এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

স্থানীয় আহসান, সাব্বির, লোকমান সহ আরো অনেকে জানান, গাছ মানুষের উপকার ছাড়া কখনো ক্ষতি করে না। তাছাড়া কামাল হোছাইন নিজের জায়গার মধ্যে সড়ক রক্ষা ও সবুজায়নের জন্য ৫ বছর আগে গাছগুলো রোপণ করেছিলেন। তারপরও এ সবুজ গাছগুলোর সাথে কীসের শত্রুতা আমাদের জানা নেই। রাতের আঁধারে একদল দুর্বৃত্ত গাছগুলো কেটে সাবাড় করে দেয় বলে জানান তারা। তবে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক দুর্বৃত্তদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিলে এ ন্যাক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে বলে আশংকা প্রকাশ করেন তারা।

এ বিষয়ে পেকুয়া উপজেলা পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি এডভোকেট মীর মোশাররফ হোসেন টিটুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বাংলাদেশের আকাশে ভারী ধাতু বৃদ্ধির কারণে যেখানে পরিবেশবিদরা দেশের ভবিষ্যত নিয়ে শংকায় দিন কাটাচ্ছেন ঠিক সে সময়ে পেকুয়া সদরে রাতের আঁধারে শতাধিক গাছ কেটে দেয়ার ঘটনায় পরিবেশের কী পরিমাণ যে ক্ষতি হয়েছে তার বর্ণণা দেয়া কঠিন।

এ বিষয়ে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈকা শাহাদাতের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।

x