এ কেমন নৃশংসতা?

যুবককে দল বেঁধে পৈশাচিকভাবে প্রহার ৯ জন শনাক্ত, আটক ৫

আজাদী প্রতিবেদন

মঙ্গলবার , ২ জুলাই, ২০১৯ at ৫:৩৮ পূর্বাহ্ণ
464

বরগুনায় এক যুবককে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার রেশ না কাটতেই এবার নগরীতে দিনদুপুরে দলবল মিলে এক যুবককে নৃশংসভাবে লাঠিপেটার ঘটনা ঘটেছে। তার দৃশ্য স্থানীয় একটি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায় ধরা পড়ে। পরে একটি ভিডিও ফুটেজ ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ওই ঘটনায় পুলিশ কয়েকজনকে আটকের পাশাপাশি বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছে। গত রোববার বিকালে নগরীর আকবর শাহ থানার বিশ্ব কলোনী এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। আকবর শাহ থানার ওসি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) জসিম উদ্দিন গতকাল আজাদীকে বলেন, যে যুবককে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে তার নাম মহসিন (২৫)। তিনি মারামারির একটি মামলায় কিছুদিন জেলে থাকার পর গত বৃহস্পতিবার জামিনে ছাড়া পেয়েছেন। ওসি জসিম উদ্দিন বলেন, পুলিশ ওই ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ থেকে হামলাকারীদের ৯ জনকে শনাক্ত করে। এদের সঙ্গে আরও কয়েকজন ছিল। তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। ওসি বলেন, এ পর্যন্ত পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে আটক করেছে। এদের মধ্যে হামলার ঘটনায় দু’জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বাকি তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানান ওসি।
আকবর শাহ ওসি বলেন, ওই ঘটনায় ভিকটিমের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। কিন্তু পুলিশ বাদী হয়ে ৯ জন এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, পুলিশের হাতে আটক পাঁচজনের মধ্যে যে দু’জন সরাসরি হামলায় অংশ নেয় বলে শনাক্ত হয়েছে তারা হল- আব্দুল মালেকের ছেলে সাজু (২৪) ও তাজুল ইসলামের ছেলে মিরাজ (১৭)। আটক হওয়া বাকি তিনজন হল মাসুদ (১৮), বেলাল (২০) ও তারেক (১৮)। গতকাল রাতে এ রিপোর্ট লেখার সময় থানা হেফাজতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছিল পুলিশ। এক প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, হামলাকারীদের সাথে ভিকটিমের হয়তো পূর্ব শত্রুতা বা মারামারির ঘটনা থাকতে পারে। সেই কারণে এই হামলা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে হামলাকারীরা স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের অনুসারী বলে অনেকে অভিযোগ করছেন। ভিকটিম মহসিনের বিরুদ্ধেও তার থানায় মারামারি ও চাঁদাবাজির পাঁচটি মামলা রয়েছে বলে আজাদীকে জানান ওসি জসিম।
এদিকে ভাইরাল হওয়া এক মিনিট ৩৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, সাদ টি শার্ট পরা মহসিন একটি গলি থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লাঠিসোটা নিয়ে ১২/১৩ জনের একটি দল তাকে ঘিরে ফেলে। মহসিন পিছিয়ে দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করলেও তাকে ধরে ফেলে ঘিরে ধরে বেধড়ক পেটাতে থাকে ওই যুবকরা। এক পর্যায়ে মহসিন মাটিতে পড়ে গেলেও পেটানো বন্ধ হয়নি। মহসিন মাটি থেকে ওঠার চেষ্টা করলে তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে একজন তার পা ধরে রাখে অন্যরা তাকে মারতে থাকে। মারধরের পর মাটিতে নিস্তেজ হয়ে পড়লে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত সরে পড়ে।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারীদের মধ্যে জুয়েল, তুহিন, রাব্বী, পারভেজ, ফারহান ও খোকন নামের ছয়জনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। হামলার সময় যে যুবকটি মহসিনের পা ধরে রেখেছিল তার নাম জুয়েল। তুহিন, রাব্বী, পারভেজ, সাজু ও ফারহান তাকে লাঠি দিয়ে পেটায়। আর খোকন তাদের সঙ্গে ছিল।
যে স্থানে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে তার সামান্য দূরে বিশ্ব কলোনী এন ব্লকে মহসিনের বাসা। স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে, হামলার শিকার মহসিন নগরীর উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সরওয়ার মোর্শেদ কচির সমর্থক হিসেবে এলাকায় পরিচিত। নিজেকে যুবলীগ নেতা বলেও তিনি পরিচয় দেন। আর হামলাকারীরা ওয়ার্ড কাউন্সিলর জহুরুল আলম জসীমের সমর্থক বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্থানীয় কাউন্সিলর জহিরুল আলম জসিম গতকাল আজাদীকে বলেন, আমি কোনো গ্রুপ মেনটেইন করি না। তাদের কাউকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনিও না। এগুলো হয়তো কেউ রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য আমার লোক বলে পরিচয় দিচ্ছে। যেদিন ঘটনা ঘটেছে, তার পরদিন ফেসবুক দেখে আমি বিষয়টি জেনেছি।
কাউন্সিলর দাবি করেন, কদিন আগে মহসিন যুবলীগ নেতা জুয়েলের বাসায় হামলা চালিয়েছিল। জুয়েল এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সেই রেশ ধরে হয়তো জুয়েলের লোকজন মহসিনের ওপর হামলা করেছে।

x