এ আঁধার কেটে যাক : অপেক্ষা সাকিবের সুন্দর প্রত্যাবর্তনের

বৃহস্পতিবার , ৩১ অক্টোবর, ২০১৯ at ৫:১৬ পূর্বাহ্ণ
38

বাংলাদেশের টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক এবং বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের জন্য কেবল নয়, দেশের পুরো ক্রিকেট রাজ্যের জন্য বড় দুঃখের খবর হলো, আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী নীতিমালার আইন লক্সঘনের অপরাধে সাকিব আল হাসানকে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আইসিসি। এ ঘটনায় নিজের দায় ও শাস্তি মেনে নিয়েছেন বলে এর মাঝে এক বছর স্থগিত করা হয় নিষেধাজ্ঞা। এই ঘটনায় তাঁর জীবনে নেমে এলো কালো অধ্যায়। ক্যারিয়ারে যোগ হলো একটি কালো দাগ।
আইসিসি তাদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে সাকিবের বিরুদ্ধে। সেগুলো হচ্ছে, ১. ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে শ্রীলংকা ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে বাংলাদেশের যে ত্রিদেশীয় সিরিজ হয়েছিল সেখানে প্রথম ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পান সাকিব। কিন্তু এ বিষয়ে তিনি আইসিসির অ্যান্টি করাপশন ইউনিটকে জানাননি। ২. একই ধারার অধীনে অপরাধ : ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের সময় আরো একটি ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলেন। কিন্তু সেই বিষয়েও তিনি আইসিসিকে অবহিত করেননি। ৩. ২০১৮ সালের ২৬ এপ্রিল সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ এবং কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের মধ্যকার ম্যাচেও ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলেন সাকিব। কিন্তু সেই বিষয়েও তিনি আইসিসি কিংবা সংশ্লিষ্ট দুর্নীতি দমন সংস্থাকে কিছুই জানাননি।
এই স্থগিত নিষেধাজ্ঞায় কী করতে হবে সাকিবকে, সেই উপায়টাও আইসিসি বলে দিয়েছে। সংস্থাটির দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থগিত ১২ মাসের নিষেধাজ্ঞা যেন কার্যকর না হয় সেটা নিশ্চিত করতে হলে সাকিব আল হাসানকে নিচের শর্তদুটি পূরণ করতে হবে। ১. নিষেধাজ্ঞার সময় আইসিসির দুর্নীতি দমন বিভাগের আইন বা কোনো দেশেরই দুর্নীতি বিরোধী আইন ভাঙা যাবে না। ২. আইসিসি যেভাবে বলে দেবে ঠিক সেভাবে বিভিন্ন দুর্নীতি বিরোধী শিক্ষাকার্যক্রম ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় স্বেচ্ছায় ও পরিপূর্ণভাবে অংশ নিতে হবে। এ দুটি শর্ত পূরণ হলেই এক বছরেই শেষ হবে সাকিবের নিষেধাজ্ঞা।
সাকিবের এ শাস্তি মেনে নিতে পারেননি তাঁর ভক্তরা, মেনে নিতে পারেননি দেশের ক্রিকেট সমর্থকরা। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও সাকিব আল হাসানকে সব রকমের সহযোগিতা দেবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সাকিব আল হাসানের পাশেই থাকবে। তবে আইসিসি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে বেশি কিছু করার থাকবে না। তিনি বলেন, একটা ভুল সে করেছে এটা ঠিক, এটা সে বুঝতেও পেরেছে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলও একই কথা পুনর্ব্যক্ত করলেন। বললেন, আমরা অবশ্যই সাকিবের পাশে থাকব। এটা থেকে কীভাবে রক্ষা করা যায়, সেটা আমরা চেষ্টা করব। এটাতে আমাদের হস্তক্ষেপ করার সুযোগ নেই। তবে বিষয়টি আমরা সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের মধ্যে রেখেছি। এটা কীভাবে সুষ্ঠুভাবে সমাধান করা যায় সেটা দেখছি।
স্বীকার করতেই হবে সাকিব বাংলাদেশের ক্রিকেট সাম্রাজ্যে বড় এক বিস্ময়। তিনিই আজ বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচাইতে বড় বিজ্ঞাপন। যে কোনো ফরম্যাটের ক্রিকেটেই বাংলাদেশ দলের অন্যতম নির্ভরতার নাম হচ্ছে সাকিব আল হাসান। বিশেষজ্ঞদের মতে, তাঁর একটি দায়িত্বশীল ইনিংস কিংবা একটি ঘূর্ণিজালের স্পেল দলের ভাগ্য গড়ে দিতে পারে। তাইতো সাকিবের জন্য খেলার মাঠে প্লাকার্ড হাতে নিয়ে দর্শক দাঁড়িয়ে থাকে, তাতে লেখা থাকে ‘বাংলাদেশের প্রাণ, সাকিব আল হাসান’।
আমাদের বড় দুর্ভাগ্য, এই নিষেধাজ্ঞার কারণে সব ফরম্যাটে বাংলাদেশের মূল ভরসা সাকিবকে পুরো এক বছর পাবে না দল। এ সময়ে ভারত সফর ছাড়াও আছে পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম পর্বটাও সাকিবকে ছাড়া কাটানো বাংলাদেশের পক্ষে হবে কষ্টদায়ক। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়, সব মিলিয়ে ৩৬টি ম্যাচে সাকিবকে পাবে না বাংলাদেশ। সব ধরনের ক্রিকেটে নিষিদ্ধ হওয়ায় স্থানীয় ক্রিকেটেও খেলতে পারার কথা নয়। ফলে নিষেধাজ্ঞা শেষেই সরাসরি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা কঠিন হবে তাঁর পক্ষে। এ ক্ষেত্রে বিসিবির অনুরোধে হয়তো শাস্তি একটু কমিয়ে নেওয়া যেতে পারে। তবু অন্তত ৩৬ ম্যাচ যে সাকিবকে পাওয়া যাচ্ছে না এটা নিশ্চিত। আগামী এক বছর সাকিবের ওপর কড়া নজরদারি করা হবে। কিছু ব্যত্যয় হলেই নিষেধাজ্ঞা এক থেকে দুই বছর হয়ে যাবে। এতো বড় দুঃসংবাদ বুকে ধারণ করেও আমরা অপেক্ষা করবো তাঁর সুন্দর প্রত্যাবর্তনের।

x