এসএ গেমস ফুটবলে স্বর্ণ জয়ের মিশন শুরু আজ বাংলাদেশের

ক্রীড়া প্রতিবেদক

সোমবার , ২ ডিসেম্বর, ২০১৯ at ৮:৪৬ পূর্বাহ্ণ
2

সেই ২০১০ সালে শেষবার দক্ষিণ এশিয়ান (এসএ) গেমসের ফুটবল ইভেন্টে স্বর্ণ জিতেছিল বাংলাদেশ। এরপর দেশের ফুটবলে কেটে গেছে ৯ টা বছর। সেই ক্ষুধাকে শক্তিতে পরিণত করে নব উদ্যমে এবার শিরোপা পুনরুদ্ধারে আবারও মাঠে নামতে যাচ্ছে আজ লাল-সবুজের বাংলাদেশ। বিজয়ের মাসের দ্বিতীয় দিনে লক্ষটা তাই একেবারে পরিষ্কার জেমি ডে শিষ্যদের। আর তা হচ্ছে চ্যাম্পিয়ন হওয়া। আর সে চ্যাম্পিয়ন হয়ে স্বর্ণ পদক জয়ের লক্ষ্যটা এবার অনেক বেশি দৃঢ়। আত্মবিশ্বাসী হয়েই মিশনটা স্বর্ণে মুড়িয়েই দেশে ফিরতে চায় কোচ-ফুটবলাররা। আর সে লক্ষ্যেই আজ নেপালের রাজধানী কাঠমুন্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামে ভুটানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। লক্ষ্য জয় দিয়ে শুরু করা।
১৯৯৯ সালে এই কাঠমান্ডুতেই নেপালকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে এস এ গেমসে দেশের বাইরে শেষ বারের মত স্বর্ণ জিতেছিল বাংলাদেশ। এরপর ১১ বছর অপেক্ষার পর ২০১০ সালে দেশের মাটিতে দ্বিতীয় ও শেষবার স্বর্ণ জিতেছিল বাংলাদেশ। সেই স্মৃতিময় নেপালের মাটিতেই এবার শিরোপা পুনরুদ্ধারে ভুটান ম্যাচ দিয়ে মিশন শুরু করতে যাচ্ছে জামাল-রবিউলরা। দাশারাত রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে আজ সোমবার দুপুর সোয়া ১টায় মাঠে গড়াবে ম্যাচটি। সামপ্রতিক পারফরম্যান্স আর অতীত অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করেই প্রথম বাধার সম্মুখীন হতে প্রতিজ্ঞবদ্ধ কোচ জেমি ডে। ভুটানকে সমীহ করেই নিজের প্রত্যাশার কথা জানালেন জেমি।
তিনি বলেন ভুটানের ম্যাচ কঠিন হবে। তবে ঢাকায় ক’দিন আগে আমরা ভুটানের সঙ্গে খেলেছি। সেই অভিজ্ঞতা কাজে দেবে। ঢাকার সে দুই মোকাবেলায় বলতে গেলে এক রকম উড়ে গিয়েছিল ভুটান বাংলাদেশের সামনে। প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ দলের জয়টা ৪-১ গোলের। আর দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের জয়টা ছিল ২-০ গোলের। যদিও এই ভুটানের কাছে হেরেই নির্বাসনে গিয়েছিল বাংলাদেশের ফুটবল। আবার সে ভুটানকে হারিয়েই আলোতে ফিরেছিল বাংলাদেশের ফুটবল।
এসএ গেমসের ফুটবল আসরটি মূলত অনূর্ধ্ব-২৩ দলের। আর এবার বাংলাদেশের স্কোয়াডে সিনিয়র দলের ১৬জন ফুটবলার খেলছেন এই দলে। সেটাও বাড়তি আত্মবিশ্বাস যোগাবে বলে মনে করেন জেমি। তিনি বলেন এই দলে সেই স্কোয়াডের অনেকেই আছে। যারা নিজেদের অভিজ্ঞতাটাকে কাজে লাগাতে পারবে স্বর্ণ জয়ের এই মিশনে। এবার অবশ্য অন্যান্য বারের মতো প্রস্তুতি শুরু করতে পারেনি জেমি ডে। ক্লাব থেকে খেলোয়াড়দের আগেভাগে ছাড়তে না চাওয়ায় সরাসরি নেপালের উদ্দেশ্যে রওনা দিতে হয়েছে পুরো দলকে। জেমি ইংল্যান্ড থেকে সরাসরি নেপালে দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। সেখানে দু’দিন অনুশীলনের সময় পেয়েছে পুরো দল। তবে এই দলে বেশিরভাগ ফুটবলার সিনিয়র দলের হওয়ায় আত্মবিশ্বাসী জেমি ও ফুটবলাররা। দলের স্ট্রাইকার নবীব নেওয়াজ জীবন জানান, ‘তিন-চার দিন আগে আমরা এসেছি। আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে। এখন ভাল ফিল করতেছি। আমাদের সবাই ফিট আছি।
নিজের লক্ষ্যের সঙ্গে দলের অভীষ্ট লক্ষ্যের কথা জানালেন ঢাকা আবাহনীর এই ফুটবলার। তিনি বলেন আমরা এই আসরে ভাল দল। আমরা নিজেদের মধ্যে অনেক কথা বলেছি। আমরা সেরাটা দিতে পারলে ভাল কিছুই হবে। এবার এসএ গেমসে নিজের সেরাটাই দিতে চেষ্টা করব। আমি নিজেও স্কোর নিয়ে কাজ করেছি। আশা করি এবার স্কোর করতে পারবো। ভুটানের বিপক্ষে স্কোর করে দলকে জেতানোর আশা এই স্ট্রাইকারের।
বাংলাদেশ দল: গোলরক্ষক: আনিসুর রহমান জিকো, মোহাম্মদ পাপ্পু হোসেন ও মাহফুজুর রহমান প্রীতম। রক্ষণভাগ: বিশ্বনাথ ঘোষ, রহমত মিয়া, ইয়াসিন খান, টুটুল হোসেন বাদশা, রিয়াদুল হাসান, ইয়াসিন আরাফাত ও সুশান্ত ত্রিপুরা। মধ্যমাঠ: জামাল ভুঁইয়া (অধিনায়ক), বিপলু আহমেদ, রবিউল হাসান, মাহবুবুর রহমান, মোহাম্মদ ইব্রাহিম ও মোহাম্মদ আল আমিন। আক্রমণভাগ: সাদ উদ্দিন, নাবীব নেওয়াজ জীবন, রাকিব হোসেন ও আরিফুর রহমান।

x