এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের সামনে কী

| শনিবার , ২২ মে, ২০২১ at ৫:৩৩ পূর্বাহ্ণ

সংক্রমণের গ্রাফ উঠছে-নামছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার অপেক্ষা যেন আর ফুরাচ্ছে না। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের দুশ্চিন্তা কেবলই বাড়ছে। মহামারীতে শিক্ষাপঞ্জি ভেস্তে যাওয়ায় সংক্ষিপ্ত পাঠ্যসূচিতে ক্লাস নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষায় বসানোর কথা বলছিল সরকার। কিন্তু সেই ক্লাস শুরুর জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে দেশের করোনাভাইরাস পরিস্থিতির দিকে। এই অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ালেখায় মনোযোগ ব্যাহত হওয়ার কথা জানিয়েছে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। তাদের প্রশ্ন রয়েছে সংক্ষিপ্ত পাঠ্যসূচি নিয়েও। খবর বিডিনিউজের।
এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ভাবতে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে। কেউ কেউ দ্রুত শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরুর পক্ষে, আবার অনেকের মধ্যে সে বিষয়ে দ্বিধা আছে। মহামারীর কারণে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। কয়েক দফা খোলার পরিকল্পনা নিয়েও মহামারী পরিস্থিতির কারণে বার বার হোঁচট খেতে হয়েছে। সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ সামলাতে চলমান লকডাউনের মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি বাড়ানো হয়েছে আগামী ২৯ মে পর্যন্ত।
কর্তৃপক্ষ বলছে, মহামারী পরিস্থিতির উপরই নির্ভর করছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার সময়সূচি। সেজন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার পর আরও আড়াই মাসের বেশি সময় অপেক্ষা করতে হবে শিক্ষার্থীদের। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক বলেন, ‘আমরা ক্লাস নিয়ে পরীক্ষা নেব। অটো পাস দেব না। প্রতি বিষয়ে এসএসসিতে ৬০টি ক্লাস ও এইচএসসিতে ৮০টি ক্লাস নিয়ে আমরা পরীক্ষাটা নেব।’ এই ক্লাস শেষ হওয়ার দুই সপ্তাহ পর শিক্ষার্থীদের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় বসতে হবে বলে পরিকল্পনা করেছেন তারা। সে হিসেবে ২৯ মের পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হলেও অগাস্টের শেষভাগের আগে পরীক্ষা আয়োজনের সুযোগ থাকছে না।
মহামারীর আগে প্রতিবছর ফেব্রুয়ারিতে এসএসসি এবং এপ্রিলে এইচএসসি পরীক্ষার আয়োজন করে আসছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ২০২০ সালের মার্চে দেশে যখন করোনাভাইরাসের প্রকোপ দেখা দিল, তার আগেই এসএসসি পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা আটকে যান। বছরের শেষে এসেও স্কুল-কলেজ খুলতে না পেরে শিক্ষার্থীদের সবাইকে পরের ক্লাসে তুলে দেওয়া হয়। আর এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের মূল্যায়ন ফল প্রকাশ করা হয় তাদের এসএসসি ও জেএসসির ফলের গড় করে।
তখন যুক্তি ছিল, মহামারী শুরুর আগেই এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পাঠ্যসূচি শেষ হয়ে যাওয়ায় একেবারে না শিখে তাদের পরবর্তী পর্যায়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকছে না। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বলছেন, এসএসসি পরীক্ষার্থীরা মহামারীর আগে নবম শ্রেণির পাঠ শেষ করলেও দশম শ্রেণিতে ক্লাস করতে পেরেছে মাত্র কয়েকদিন। আর এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা প্রথম বর্ষও শেষ করতে পারেনি। অনলাইনে ক্লাস চললেও তাতে দশম ও একাদশ শ্রেণির পাঠ্যক্রম শিক্ষার্থীরা কতটা আত্মস্থ করতে পেরেছে, সে প্রশ্ন রয়েছে। ফলে এবার আর শিক্ষার্থীদের ‘অটো পাস’ দিতে রাজি নয় সরকার। বিকল্প হিসেবে এসএসসিতে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ বিষয় রেখে সংক্ষিপ্ত পাঠ্যসূচি দিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড। সেই পাঠ্যসূচিতেই তাদের চূড়ান্ত পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা ধরে এগোচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু শিক্ষার্থীদের সংশয় কাটছে না।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকুতুবদিয়ায় পুকুরে ডুবে দুই সহোদরের মর্মান্তিক মৃত্যু
পরবর্তী নিবন্ধযথাযথ চিকিৎসা পাননি হেফাজত নেতা ইকবাল