এশিয়ার টাইগার হওয়ার সম্ভাবনা

শনিবার , ২ নভেম্বর, ২০১৯ at ৬:১৭ পূর্বাহ্ণ
30

বাংলাদেশ সম্ভাবনার দেশ। এ নিয়ে কারো মধ্যে কোন দ্বিমত নেই। অর্থনীতিতে এশিয়ার টাইগার হবে এমন কথা বহুবার বলা হয়েছে। এশিয়ার টাইগারে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনার সব উপাদান এখানে বিদ্যমান। তবে সম্ভাবনা থাকলেই তো হবে না। সম্ভাবনাকে সঠিক উদ্যোগের মাধ্যমে কাজে লাগাতে হবে। প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা এ সম্ভাবনাকে কতটা বাস্তবে রূপ দিতে পারছি? কাজের চেয়ে কথা বেশি বলছি কিনা? বাণিজ্যে বসতি লক্ষ্মী বলে যে কথা আছে, তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে কিনা? এসব প্রশ্নের উত্তরে বলা যায়, নানা সমস্যার কারণে অফুরন্ত সম্ভাবনা বনসাঁই বৃক্ষ হয়ে রয়েছে, তা বড় করা যাচ্ছে না একথা সবাই জানেন, অর্থনীতির প্রধান স্তম্ভ ব্যবসা-বাণিজ্য। ক্ষুদ্র ও মাঝারি হয়ে শুরু করে বৃহৎ শিল্প কারখানা স্থাপন এবং তা গতিশীল থাকার মধ্যেই অর্থনীতির উন্নতি নিহিত। দুঃখের বিষয়, এ খাতটি দীর্ঘদিন ধরে ধুঁকছে। প্রতিষ্ঠিত অনেক শিল্প কারখানার উৎপাদন স্থবির হয়ে পড়েছে। অনেক শিল্প উদ্যোক্তা ব্যবসা-বাণিজ্য এবং কলকারখানা স্থাপন করে বসে আছেন। অনেক পোশাক শিল্প কারখানাও বন্ধ হয়ে গেছে। আবার পুরানো শিল্প কারখানার উৎপাদন সক্ষমতাও কমেছে। সরকার কি অর্থনীতির অন্যতম মূল স্তম্ভ শিল্প কারখানার স্থবিরতা এ চিত্র জানে না? নিশ্চয়ই জানে। জেনেও তা এড়িয়ে অর্থনীতির উন্নতির কথা বলা কতটা সমীচীন? ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত না করে এ ধরনের কথা বলা উচিত? বাস্তবতা হচ্ছে সরকার কল-কারখানায় গ্যাস বিদ্যুতের সংযোগ দিতে পারছে না। অর্থনীতির মন্দার চিত্র আরো আছে। যদি বিনিয়োগের দিকে দৃষ্টি দেয়া যায় তবে দেখা যাচ্ছে সেখানে করুণ অবস্থা বিরাজ করছে। দেশে বিদেশি বিনিয়োগ বলতে কিছু নেই। বিনিয়োগের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে কমছে। নতুন বিনিয়োগ নেই বললেই চলে। দেশি বিনিয়োগ এতটাই কমেছে যে, ব্যাংকগুলো অলস টাকার পাহাড় নিয়ে বসে আছে। অর্থ বৃদ্ধির একমাত্র উপায় লেনদেন। স্তূপ করে জমিয়ে রাখলে তা কখনো বাড়ে না। আশ্চর্য্যের বিষয় হচ্ছে, স্তূপিকৃত এই অর্থ এবং রেকর্ড পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিয়ে সরকার গর্ববোধ করছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান মেরুদণ্ড যে কৃষি। সে ক্ষেত্রটি কি ভালো আছে? সরকার বাম্পার উৎপাদনের কথা বলে কৃতিত্ব নেয়। উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম না পাওয়া নিয়ে যে কৃষক মাথায় হাত দিয়ে বসে থাকে, হতোদ্যাম হয়ে পড়ে। এ বিষয়টি বলে না।
– এম. এ. গফুর, বলুয়ার দীঘির দক্ষিণ-পশ্চিম পাড়, কোরবাণীগঞ্জ, চট্টগ্রাম।

x