এশিয়ান পেপার মিলের বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ

হালদা দূষণ

রাউজান প্রতিনিধি

শুক্রবার , ৩১ মে, ২০১৯ at ৬:০৬ পূর্বাহ্ণ

বর্জ্য ফেলে সংলগ্ন খাল ও হালদা নদীতে দূষণ ঘটানোয় এশিয়ান পেপার মিলের বিরুদ্ধে মামলাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব। গতকাল বৃহস্পতিবার রাউজানের ছাত্তারঘাট এলাকায় ‘হালদা নদীর উভয় তীর সংরক্ষণ প্রকল্প পরিদর্শন এবং স্থানীয় অধিবাসীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায়’ এ নির্দেশ দেন সচিব কবির বিন আনোয়ার।
রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জোনায়েদ কবির সোহাগের সভাপতিত্বে ও রাউজান-হাটহাজারীর দায়িত্বে থাকা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিয়াজ মোরশেদের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় তিনি হালদার বর্তমান উন্নয়ন প্রকল্প ও সদ্য ডিম আহরণ নিয়ে স্থানীয় মৎস্যজীবী, গবেষক ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বক্তব্য শুনেন। অনুষ্ঠানে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রহুল আমিন ও হালদা নদী বিশেষজ্ঞ চবি অধ্যাপক ড. মঞ্জুরুল কিবরিয়া সচিবের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, হাটহাজারী এলাকার শিল্প কারখানা থেকে দূষিত বর্জ্য এসে হালদার জীববৈচিত্র্যের উপর হুমকির সৃষ্টি করছে। এসব শিল্প প্রতিষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্টদের এ ব্যাপারে বার বার সতর্ক করা হলেও তারা কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। মঞ্জুরুল কিবরিয়া তার বক্তব্যে এশিয়ান পেপার মিল থেকে কাগজ তৈরিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক এবং কাগজের উচ্ছিষ্ট অংশ খালে ফেলা হচ্ছে জানিয়ে বলেন, নিক্ষিপ্ত আবর্জনা খালে জমে এ্যামোনিয়া উৎপাদন হয়ে ব্যাপক দুর্গন্ধ ছড়ায়। এগুলো এসে পড়ে নদীতে।
তিনি বলেন, গত দুবছর থেকে হালদায় বিশেষ নজরদারির কারণে ডিম সংগ্রহে সাফল্য এসেছে। হালদার দূষণ বন্ধ করা গেলে এই নদী হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। হাটহাজারীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমীন হালদার পরিদর্শনকালে তার দেখা নদীর সংযুক্ত মাদারি খালের পানি লালচে হয়ে থাকার কথা জানান। রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জোনায়েদ কবির সোহাগ বলেন, হালদার সবকটি বালুমহাল বন্ধ করে দেয়া হলেও নদীতে ইঞ্জিন চলাচল অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে এসব ইঞ্জিন বোর্ড ধরে নষ্ট করে দেয়া হচ্ছে। সবার বক্তব্য শুনে সচিব বক্তব্য রাখতে গিয়ে হালদা নদী নিয়ে তার দীর্ঘ সময় ধরে পর্যবেক্ষণের কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ১৯৭২ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম নদী, হাওর, খাল রক্ষায় বোর্ড গঠন করেছিলেন। তার কন্যা আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের খাল, নদী রক্ষায় যুগান্তকারী সব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। হালদার বিষয়ে খোঁজখবর নিতে প্রধানমন্ত্রী তাকে বিশেষ দায়িত্ব প্রদান করেছিলেন। তখন থেকে এই দায়িত্ব নিয়ে তিনি হালদা নিয়ে কাজ করছেন। নদীর উৎপত্তিস্থল রাইলিংক হাজিনা কেচাং নামের ঝর্ণাধারা দেখতে রামগড়ের দূর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে হেঁটে যাওয়ার অভিজ্ঞতার কথা শুনান। বলেন, হালদা রক্ষার কার্যকর প্রকল্প প্রণয়ন করা হচ্ছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা গেলে হালদার ঐতিহ্য ফিরে আসবে। তিনি বলেন, নদীতে মাছের নিরাপদ কূপ গুলোর অবস্থা কেমন তার ডুবরি নামিয়ে পর্যবেক্ষণ করার কাজও শুরু করা হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ রোকন উদ দৌলা জানিয়েছেন, সচিব মহোদয়ের নির্দেশ পাওয়ার পর পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মোয়জ্জেম হোসেনকে দূষণকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করতে অনুরোধ করা হয়েছে। বিষয়টি সমন্বয় করার দায়িত্ব তার উপর ন্যস্ত করা হয়েছে। পরিচালক মোয়জ্জেম হোসেন বলেছেন, অতিরিক্ত সচিব রোকন উদ দৌলার ফোন পেয়ে তিনি নদীর পানি পরীক্ষা করে দেখা গেছে বিওডি, সিওডিসহ সব কিছুতে মিলেছে নেতিবাচক প্রমাণ। তিনি বলেন, কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আগামী ১০ জুন শুনানি ধার্য করা আছে। অনুষ্ঠানে হালদার তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজের তদারকিতে নিয়োজিত সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা মেজর আকতার তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজের ধারণা দেন। অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন রাউজান পৌরসভার কাউন্সিলর আলমগীর আলী, সাংবাদিক শফিউল আলম, মৎস্যজীবী বিতান বড়ুয়া, দিপঙ্কর বড়ুয়া, ফখরুল ইসলাম প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী মীর মোশারফ হোসেন, নির্বাহী প্রকৌশলী স্বপন কুমার বড়ুয়া।

x