এলাকার যুবকদের স্বেচ্ছাশ্রমে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামত

মুহাম্মদ এরশাদ : চন্দনাইশ

সোমবার , ৫ আগস্ট, ২০১৯ at ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ
34

সাম্প্রতিক সময়ে বয়ে যাওয়া স্মরণকালের সবচেয়ে বড় বন্যায় চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া উপজেলায় ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। এই ক্ষতি থেকে রক্ষা পায়নি সড়ক, সবজি ক্ষেত, মৎস্য প্রজেক্ট কোন কিছুই। ধসে পড়েছে অসংখ্য মাটির ঘরও। বন্যার পানির তীব্র স্রোতে উপজেলার প্রায় প্রত্যেকটি গ্রামীণ সড়ক তছনছ হয়ে এক প্রকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে গ্রামীণ সড়কে রিকসাসহ ছোট ছোট যানবাহন চলতে না পারায় মানুষের দূর্ভোগ চরমে উঠে। গত বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় শঙ্খতীরবর্তী সড়কগুলো। পানির তীব্র স্রোতে শঙ্খ উপকুলবর্তী প্রায় প্রত্যেকটি গ্রামীণ সড়ক উপড়ে যায়। সড়কের অনেক জায়গায় পুকুর সমান গর্তেরও সৃষ্টি হয়। সাতকানিয়া উপজেলার কালিয়াইশ-ধর্মপুর সড়কটি শঙ্খতীরবর্তী হওয়ায় পানির তীব্র স্রোতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে বন্যা পরবর্তী সড়কটি সম্পূর্ণ চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
ক্ষতিগ্রস্ত এই সড়কটি স্বেচ্ছাশ্রমে চলাচল উপযোগি করতে উদ্যোগ নেয় কালিয়াইশ ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত কালিয়াইশ সাংগঠনিক সমন্বয় ফোরাম। উক্ত ফোরামের নেতৃত্বে সংগঠনের সদস্যগণ ও এলাকার সাধারণ মানুষ একদিন সকাল থেকে স্বেচ্ছাশ্রমে প্রায় শতাধিক যুবক সড়ক সংস্কারে নেমে পড়েন। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের পাশ থেকে মাটি, বালি, ইট কংকর সংগ্রহ করে সারাদিনব্যাপী স্বেচ্ছাশ্রমে সড়কের প্রায় ১ কিঃমিঃ অংশ সংস্কার করে চলাচল উপযোগী করে তোলেন তারা।
কালিয়াইশ সাংগঠনিক সমন্বয় ফোরামের প্রধান সমন্বয়ক সায়ের আহমদ সায়েদ বলেন, নিজের ও এলাকাবাসীর প্রয়োজনের তাগিদে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দিকে তাকিয়ে না থেকে আমরা এলাকার শতাধিক যুবক প্রথমে সড়ক সংস্কারে নেমে পড়ি। আমাদের দেখাদেখি ওইদিন এলাকার আরো অর্ধশতাধিক মুরুব্বীরাও স্বেচ্ছাশ্রমে সড়ক মেরামতে যোগ দেয়। সারাদিনব্যাপী স্বেচ্ছাশ্রমের ফলে সড়কের প্রায় ১কিঃমিঃ অংশ আমরা মেরামত করি। ফলে এখন রিকসা, সিএনজিসহ ছোট ছোট যানবাহন চলাচল করতে পারছে। তিনি বলেন সমন্বয় ফোরামের নেতৃত্বে এ কাজে অংশ নেয় এলাকার ঐতিহ্যবাহী সংগঠন নবকল্লোল যুব সংঘ, আঞ্জুমানে নকশবন্দিয়া মোজাদ্দেদীয়া হাকিমিয়া পরিষদ, উত্তর কালিয়াইশ সমাজ কল্যাণ পরিষদ, উত্তর কালিয়াইশ বয়েস ক্লাব, জয়যাত্রা একতা সংঘ, প্রত্যয় একতা সংঘ, উত্তর কালিয়াইশ মাইঙ্গ্যাপাড়া যুব উন্নয়ন পরিষদ, আশার আলো একতা সংঘ, মলিয়াকুল সমাজ কল্যাণ পরিষদ, রিকসা-সিএনজি অটোরিকসা চালক সমিতি।
স্বেচ্ছাশ্রমে সড়ক মেরামতে অংশ নেয়া মো. জাহিদুল ইসলাম নামে আরেক চাকরিজীবী বলেন, সুদুর কঙবাজার থেকে ছুটে এসে স্বেচ্ছাশ্রমে সড়ক সংস্কার কাজে যোগ দেন। তিনি বলেন, প্রত্যেক এলাকায় এই ভাবে যুবকরা ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে এসে স্বেচ্ছাশ্রমে গ্রাম অঞ্চলের ছোট ছোট কাজগুলো সমাধাণ করলে স্বণির্ভর বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।
স্বেচ্ছাশ্রমে সড়ক সংস্কারে অংশ নেয়া প্রবাসী আবদুল শুক্কুর, মো. নবী হোসেন, স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. জসিম উদ্দীন, ব্যবসায়ী মো. মোরশেদ, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মো. ইরফানসহ অন্যান্যরা বলেন স্বেচ্ছাশ্রমে সড়ক নির্মাণে দলমত নির্বিশেষে সকলের অংশগ্রহণ ছিল। তারা জানান, টানা ৮দিনের মতো ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে পাহাড়ি উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানির প্রভাবে শঙ্খনদের পানি উপচে এ অঞ্চলে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। বন্যার পানির তীব্র স্রোতের কবলে পড়ে আমাদের চলাচলের একমাত্র প্রধান সড়কটি তছনছ হয়ে পড়ে। এ সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী কালিয়াইশ, ধর্মপুর ও বাজালিয়া ইউনিয়নের প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে এলাকার যুবকরা এগিয়ে এসে স্বেচ্ছাশ্রমে সড়কটি মেরামত করার যে উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে তা সত্যিই প্রশংসনীয় এবং দৃষ্টান্ত। এভাবে এলাকার যে কোন সমস্যায় যুবকরা এগিয়ে আসলে সমাজ পরিবর্তন হতে বাধ্য।
সরেজমিন দেখা যায় সকাল থেকেই এলাকার শতাধিক যুবক স্বেচ্ছাশ্রমে সড়ক সংস্কারে নেমে পড়েন। কেউ কেউ কোদাল দিয়ে মাটি কাটছে, কেউ মাটি বস্তায় ভরছে, আবার কেউ কেউ সেই মাটি মাথায় করে এনে সড়কে ফেলছে। তাদের কাজে সহযোগিতা করতে এসময় আরো এগিয়ে আসে স্থানীয় রিকসা ও সিএনজি অটোরিকসা সমিতির সদস্যরাও।
কালিয়াইশ ইউপি চেয়ারম্যান হাফেজ আহম্মদ স্বেচ্ছাশ্রমে সড়ক মেরামত কাজ পরিদর্শনকালে বলেন, এলাকার যুবকরা এভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসলে কোন কিছুই অসম্ভব নয়। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটি দ্রুত সংস্কারে তিনি উদ্যোগ গ্রহণ করবেন বলেও জানান।

x