এমন হারেও মনোবল হারায়নি টাইগাররা

ক্রীড়া প্রতিবেদক

শনিবার , ৯ নভেম্বর, ২০১৯ at ৫:৪৩ পূর্বাহ্ণ
25

রাজকোটে বড় ব্যবধানে হারলেও নিজেদের সামর্থ্য নিয়ে কোনো দ্বিধা তৈরি হয়নি বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে। রোহিত শর্মার ঝড়ো ইনিংসে উড়ে যায়নি মনোবল। পেসার শফিউল ইসলাম জানালেন, পরের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে উন্মুখ তারা। সৌরাষ্ট্র ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ১৫৩ রানের পুঁজি নিয়ে লড়াই করতেই পারেনি বাংলাদেশ। রোহিতের তাণ্ডবের সামনে সফরকারী বোলারদের মনে হচ্ছিল অসহায়। তৃতীয় টি-টোয়েন্টির ভেন্যু নাগপুরে যাওয়ার আগে শফিউল জানালেন, বাইরে থেকে যাই মনে হোক মাঠে খেলোয়াড়রা ম্যাচের কোনো পর্যায়ে হাল ছাড়েননি। চেষ্টা করেছি প্রতিরোধ গড়ার। আমার সামর্থ্যে আমার বিশ্বাস ছিল। অসহায় ছিলাম, ব্যাপারটা ঠিক এমন না। কিভাবে ওকে রুখে দেওয়া যায়, সেই লক্ষ্য ছিল আমার। চেষ্টা করেছি। সবাই সেভাবেই চেষ্টা করেছে। আসলে ও ভালো ক্রিকেট খেলেছে। ৪৩ বলে খেলা ৮৫ রানের ইনিংসে দলকে সমতায় ফিরিয়েছেন রোহিত। শফিউল আত্মবিশ্বাসী, ভারত অধিনায়ককে থামানোর পথ ঠিকই পেয়ে যাবেন তারা। রোহিতের ভালো একটা দিন গেছে। একজন খেলোয়াড়ের যখন ভালো দিন যায় তখন মানসিকভাবে আসলে আমাদের দুর্বল হয়ে যাওয়ার কিছু নাই। কারও এমন দিন গেলে যেকোনো দলকে হারানো সম্ভব। আমরা সবাই দৃঢ় আছি। এখনও একটা সুযোগ আছে। আমরা খুব ভালোভাবে ঘুরে দাঁড়াব।
এদিকে লিটন- আফিফ-মোসাদ্দেকদের সেরা ফর্মের আশায় রয়েছেন অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ। লিটন দাস যেদিন খেলবে সেদিন ও একাই দলকে টেনে নিয়ে যাবে। নিজেদের দিনে আফিফ হোসেন, মোসাদ্দেক হোসেন পারবেন ম্যাচ শেষ করে আসতে। এভাবেই তিন তরুণের সামর্থ্যে নিজের আস্থার কথা জানান দিলেন মাহমুদুল্লাহ। বাংলাদেশ অধিনায়ক খুব করে চান দিনটি হোক রোববারই। সেই দিনে নাগপুরে ভারতের বিপক্ষে তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে খেলবেন মাহমুদুল্লাহরা। সিরিজ জিততে তরুণদের ওপর বাজি ধরছেন অধিনায়ক। রাজকোটে ৮ উইকেটে হেরে যাওয়া টি-টোয়েন্টিতে দুইবার জীবন পেয়েও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি লিটন। মাহমুদুল্লাহ আশাবাদী পরের ম্যাচেই বড় রান পাবেন এই ওপেনার।
তিনি বলেন লিটন সব সময় এমন আক্রমণাত্মক খেলে থাকে। আমরা জানি ও খুবই ভালো এবং প্রতিভাবান ব্যাটসম্যান। হয়তো ওর দিনে ও একাই টেনে নিয়ে যাবে। ওই দিনটা সামনের ম্যাচেই আমরা পাবো আশা করি। একবার, দুইবার না ও তো ধারাবাহিকভাবে এই সংস্করণে ভালো ব্যাটিং করছে। দল হিসেবে আমরা প্রত্যাশা করি যে, ওর ওই ক্ষমতা আছে একটা বড় ইনিংস খেলার। তাহলে আমাদের রানটা আরেকটু বাড়তে পারে। আশা করছি নিজের ভুলগুলো সে বুঝতে পারবে এবং পরের ম্যাচে আরও ভালোভাবে রান করবে। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ক্রুনাল পান্ডিয়া ও ওয়াশিংটন সুন্দর শেষ ২ ওভারে ৩০ রান নিয়ে ভারতকে এনে দিয়েছিলেন লড়াইয়ের পুঁজি। দ্বিতীয় ম্যাচে শেষের দিকে বাংলাদেশের কেউ পারেননি তেমন ঝড় তুলতে। সময়ের দাবি মেটাতে পারেননি আফিফ, মোসাদ্দেক ও আমিনুল ইসলাম। তিন জনে ২২ বল খেলে করেন কেবল ১৮ রান। একমাত্র বাউন্ডারি আসে আমিনুলের ব্যাট থেকে। মাহমুদুল্লাহর আশা এমন পরিস্থিতিতে দলকে পথ দেখাবেন আফিফ- মোসাদ্দেকরা।
টাইগার অধিনায়ক বলেন আমি ওদেরকে কোনো দোষ দিব না। কারণ আফিফ যে ধরনের খেলা খেলে থাকে সেটাই চেষ্টা করছিল। হয়তো এই ম্যাচে ব্যাটে-বলে সংযোগ করতে পারেনি।
ওদের দুই জনের প্রতিই আমার আস্থা আছে। আমি মনে করি আমাদের পুরো দলেরই আস্থা আছে যে ওরা হয়তো পরবর্তী ম্যাচে শেষ করতে পারবে। মাহমুদুল্লাহ বলেন সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে আমারও কিছুটা দোষ আছে । আমিও ১৯তম ওভারে আউট হয়ে গেছি। আমি যদি শেষ সময় পর্যন্ত থাকতে পারতাম হয়তো আরো কিছু রান করতে পারতাম।
আর সেটা করতে পারলে হয়তো আমরা লড়াইটা করতে পারতাম। আর একটি দল যখন শুরু থেকেই এমন খুনে মেজাজে খেলতে থাকে তখন আসলে করার কিছু থাকেনা। তাই দিনটা ছিল তাদের।
আমরা চেষ্টা করেও সফল হতে পারিনি। তিনি বলেন আমাদের তরুণদের খেলা এখনো বাকি রয়েছে। আমরা সেটা সিরিজের শেষ ম্যাচে দেখতে চাই।
আশা করছি তরুণরা আমাদের হতাশ করবেনা।

x