এভাবেই হারিয়ে যায় পুকুর-জলাশয়

বুক চিরে উঠছে নতুন নতুন স্থাপনা ।। দেখার যেন কেউ নেই

সবুর শুভ ও জাহেদুল কবির

মঙ্গলবার , ৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ at ৫:০৮ পূর্বাহ্ণ
241

চান্দগাঁও পাঠানিয়াগোদা বাইতুন নুর জামে মসজিদের শতবর্ষী পুকুরটি এখন আর পুকুর নেই। পুকুরের বুকচিরে উঠে গেছে স্থাপনা! হাইকোর্টের আদেশের পর চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক, পরিবেশ অধিদপ্তর, চান্দগাঁও এর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের(সিডিএ)ভূমি সহকারী কর্মকর্তাসহ প্রায় প্রতিটি সংস্থায় ধর্ণা দিয়েও রক্ষা হয়নি পুকুরটি। হাইকোর্টের আদেশের পর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ও চিঠি চালাচালির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল পুকুর রক্ষার তৎপরতা। ফাঁকে ভরাটকারীকে আর্থিক দণ্ডও দিয়েছিল পরিবেশ অধিদপ্তর। কিন্তু শেষপর্যন্ত রক্ষা হয়নি শতবর্ষী এ পুকুরটি। জলাধার সংরক্ষণে দেশে শক্ত আইন আছে। কিন্তু প্রয়োগে শৈথিল্যের কারণে নগরীর প্রায় সব পুকুর জলাশয় দীঘি প্রতিনিয়ত এভাবেই একে একে হারিয়ে যাচ্ছে। তথ্য অনুযায়ী, কিছু লোভী মানুষের সর্বগ্রাসী মানসিকতার কারণে সময়ের ব্যবধানে অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না শতবর্ষী অনেক পুকুর দীঘির। ফলে পানির প্রাকৃতিক উৎস হারিয়ে বিপন্ন হতে চলেছে পরিবেশ। বিপন্ন হচ্ছে জীব-বৈচিত্র্যও। পুকুর-জলাশয় ভরাটের বিষয়টি সবসময় নজরে আসলেও এর প্রকৃত হিসেব নেই সরকারি দপ্তরগুলোতে। সরেজমিনে দেখা গেছে, চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী অধিকাংশ পুকুর জলাশয় দীঘি ভরাট করে গড়ে তোলা হয়েছে বহুতল ভবন। রীতিমত প্রতিযোগিতা করে চলছে স্থাপনা নির্মাণ কাজ। এক শ্রেণির ভূমিদস্যু নগরী ও জেলার আনাচে কানাচে এসব পুকুর-দীঘি ভরাটে তৎপর। মহানগরীর ভরাট হওয়া ঐতিহ্যবাহী জলাশয় ও পুকুরের মধ্যে রয়েছে আন্দরকিল্লার রাজা পুকুর, দেওয়ান বাজারের দেওয়ানজি পুকুর, নন্দনকানন রথের পুকুর, চান্দগাঁও মৌলভী পুকুর, ফিরিঙ্গি বাজার ধাম্মো পুকুর, বহদ্দারহাট এলাকার মাইল্যার পুকুর, চকবাজারের কমলদহ দীঘি, কাট্টলী সিডিএ এলাকার পদ্মপুকুর ও উত্তর কাট্টলীর চৌধুরীর দীঘি। ষোলশহর ওয়ার্ডের হামজারবাগ এলাকার হামজা খাঁ দীঘিও অল্প অল্প করে দখলে নিয়ে ভরাট করা হচ্ছে। বাঁশ পুঁতে, বেড়া দিয়ে চলছে দখলের প্রতিযোগিতা। শত বছরের পুরোনো এই দীঘিটিতে ইতোমধ্যে নির্মিত হয়েছে বেশ কিছু স্থাপনা। বড় মিয়ার মসজিদ পুকুরেও ভরাটের আঁচ পড়েছে।
এনায়েত বাজার এলাকার সুপ্রাচীন রাণীর দীঘিও সংকুচিত করে ফেলা হয়েছে। আসকার দীঘিও আছে অযত্নে, অবহেলায়। এনায়েত বাজার, জুবিলী রোড ও রিয়াজ উদ্দিন বাজার এলাকার একমাত্র পানির উৎস এই দীঘিটির চারপাশে রিটেইনিং ওয়াল দিয়ে পাকা রাস্তা তৈরি করে ছোট করে ফেলা হয়েছে দীঘিটি। পাহাড়তলীর শতবর্ষী পদ্মপুকুরটিও ভরাট করে ফেলা হয়েছে। এখন ভরাট করা জায়গায় চলে নানান অনুষ্ঠান।
১৯৩৯ সালের পুকুর উন্নয়ন আইন বলছে, বেসরকারি মালিকানাধীন পতিত হিসেবে চিহ্নিত কোনো দীঘি বা পুকুরের প্রয়োজনীয় সংস্কারমূলক কাজ করে তা মাছ চাষের আওতায় আনার জন্য জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পুকুর-মালিককে নোটিশ দেবেন। নোটিশ দেওয়ার পর যদি পুকুর-মালিক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মাছ চাষ না করেন, তাহলে জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট পুকুরটিকে একটি পতিত পুকুর হিসেবে ঘোষণা করে পুকুরটি অধিগ্রহণ করবেন। কিন্তু চট্টগ্রাম মহানগরীতে পরিত্যক্ত হিসেবে পড়ে থাকা বেশ কয়েকটি দীঘি কিংবা অন্য কোনো জলাশয়ের ক্ষেত্রে এখনো এই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাছাড়া কোন জলাশয় বা পুকুর ভরাটের আগে ফায়ার সার্ভিসের অনাপত্তিপত্র নেওয়ার বিষয়েও জলাধার সংরক্ষণ আইন-২০০০-এ উল্লেখ রয়েছে। তাও কেউ মানছেন না। আইন প্রয়োগেও তৎপর নয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত-২০১০) এর ৬(ঙ) অনুযায়ী, জাতীয় অপরিহার্য স্বার্থ ছাড়া কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সরকারি বা আধাসরকারি এমনকি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের বা ব্যক্তিমালিকানাধীন পুকুর ভরাট না করার বিধান রয়েছে। প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন-২০০০ অনুসারে কোনো পুকুর, জলাশয়, নদী, খাল ইত্যাদি ভরাট করা বেআইনি। ওই আইনের ৫ ধারা মতে প্রাকৃতিক জলাধার হিসেবে চিহ্নিত জায়গার শ্রেণী পরিবর্তন করা যাবে না বা উক্তরূপ জায়গা অন্য কোনোভাবে ব্যবহার করা যাবে না বা অনুরূপ ব্যবহারের জন্য ভাড়া, ইজারা বা অন্য কোনোভাবে হস্তান্তরও করা যাবে না।
একই সঙ্গে প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন ২০০০ এর ৮ ও ১২ ধারার বিধানমতে, কোনো ব্যক্তি এই বিধান লঙ্ঘন করলে ৫ বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে অথবা উভয়দণ্ডে দণ্ডনীয় হবে। এছাড়া পরিবেশ সংরক্ষণ আইন (২০১০ সালে সংশোধিত) অনুযায়ী যে কোনো ধরনের জলাশয় ভরাট করা নিষিদ্ধ। জলাশয় ভরাটকারীর বিরুদ্ধে আইনের ৭ নম্ব্বর ধারায় প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও জীববৈচিত্র্য নষ্ট করে পরিবেশগত ক্ষতির জন্য কঠোর ব্যবস্থা ও বিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করার বিধান রয়েছে।
বাইতুন নুর জামে মসজিদের শতবর্ষী পুকুর ভরাট প্রসঙ্গ টেনে এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের (মহানগর) পরিচালক মোহাম্মদ আজাদুর রহমান মল্লিক জানান, আমরা তৎপরতা চালিয়েছি। ভরাটকারীকে জরিমানা করেছি। এখন কি অবস্থায় আছে জানি না। এটা ফাইল দেখা ছাড়া বলা যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ড. ইদ্রিস আলী বলেন, ‘পরিবেশ আইনে পুকুর জলাশয় ভরাটের ক্ষেত্রে আগে দশমিক ৫ একর (আধা একর) এর নিচে হলে ভরাট করা যেত, এর উপরে হলে ভরাট করা যাবে না। এখন ওই ক্লসটা তুলে দেয়া হয়েছে। এখন বিধি অনুযায়ী কোন পুকুর-জলাশয়ই ভরাট করা যাবে না। পুকুর-জলাশয় ভরাট করা মানে আইনের লঙ্ঘন। এতে জেল-জরিমানার বিধান রয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলো, পরিবেশ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কিছু সুবিধাভোগী ব্যক্তির যোগসাজশে পুকুর জলাশয় ভরাট চলছেই। পরিবেশ অধিদপ্তর পুকুর-জলাশয় ভরাটের বিষয়টি তদারকি করে না, কিংবা করতে পারে না। উপরন্তু পুকুর জলাশয় ভরাটে সুবিধাবাদী লোকদের দ্বারা প্রভাবিত হয়। তবে এটাও ঠিক, পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে দ্রুত এ্যাকশনে যাওয়ার মতো সক্ষমতা অধিকাংশ ক্ষেত্রে নেই।’ তিনি আরো বলেন, ভরাটের দাপটে কমতে কমতে নগরীতে এখন ছোট বড় পুকুরের সংখ্যা ২৫০ এ এসে দাঁড়িয়েছে।
পুকুর-জলাশয় টিকিয়ে রাখতে সরকারি হস্তক্ষেপের কথা জানিয়ে এ পরিবেশবিদ বলেন, ‘আমরা সরকারের কাছে প্রস্তাবনা দিয়েছিলাম, বড় বড় পুকুর সরকারের নিয়ন্ত্রণে এনে এগুলো সংরক্ষণে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য। এতে ক্ষতিগ্রস্তরা ক্ষতিপূরণ পাবে, পুকুর জলাশয়গুলোও বেঁচে যাবে। বর্তমানে যেসব পুকুর জলাশয় আছে সেগুলো ধরে রাখতে পারলেও কোন রকমে বেঁচে যাই আমরা।’
আদালত থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২১ শতক জায়গা জুড়ে থাকা বাইতুন নুর জামে মসজিদের বিশাল পুকুরটি ছিল এলাকার জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। আশপাশে কোথাও আগুন লাগলে পুকুরটির পানি বাঁচিয়ে দিত সকলকে। এলাকার মানুষ বছরের পর বছর ধরে ব্যবহার করে আসছিল পুকুরটির পানি। শতবর্ষী পুকুরটি বাঁচাতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক), চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক), জেলা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতা চাওয়া হয় বিভিন্নভাবে। কিন্তু শেষতক পুকুর আর থাকেনি। ড. ইদ্রিস আলী বলেন, ‘পুকুর-জলাশয়গুলো এভাবেই হারিয়ে যায়। দেখার যেন কেউ নেই।’
যিনি এই পুকুরটি ভরাট করেছেন বলে অভিযোগ করা হচ্ছে, সেই সরওয়ার উদ্দিন জানান, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় বাইতুন নুর জামে মসজিদের পুকুর ভরাটে কোন কাজ করা হচ্ছে না। পুকুরের যে অংশটা নিয়ে বিরোধ আছে সেটাতে কোন স্থাপনা করা হচ্ছে না। যে স্থাপনা হয়েছে সেটি আগের স্থাপনার জায়গায়।
জরিমানার বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ আজাদুর রহমান মল্লিক জানান, পুকুর ভরাটের অভিযোগ পেয়ে সরেজমিন পরিদর্শন করে পুকুর ভরাটের সত্যতা পাওয়া গেছে। এরপর ভরাটকারীদের নোটিশ করে গত ৬ মার্চ দুই লাখ ১৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ভরাট করা পুকুরের ওয়াল অপসারণের জন্য নির্দেশও দেওয়া হয়।
পাঠানিয়া গোদা এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, ‘শতবছর ধরে এই পুকুরটি বিপদ-আপদে আমাদের রক্ষা করেছে। এখন চোখের সামনে ধ্বংস হয়ে গেল দেখে খুব খারাপ লাগছে। তাই ডিসি, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ বহু জায়গায় পুকুরটি রক্ষায় চিঠি দিয়েছি আমরা। কিন্তু কোন কাজ হয়নি।’
পুকুরটি ভরাট বন্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের কাছে লিখিত আবেদন করার পর সংগঠনটির চেয়ারপারসন মানবাধিকার নেত্রী এডভোকেট এলিনা খান চলতি বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব, সিটি করপোরেশনের মেয়র, চউক চেয়ারম্যান এবং জেলা প্রশাসকের কাছে নোটিশ পাঠান। কিন্তু তারা কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় জনস্বার্থে গত ২৪ মার্চ হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ এবং বিচারপতি রাজিক আল জলিলের বেঞ্চে রিট পিটিশন দায়ের করেন। শুনানি শেষে হাইকোর্ট বিবাদীদের বিরুদ্ধে রুল জারি করেন। হাইকোর্ট চট্টগ্রামের ডিসিকে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশ দেন। কিন্তু কোন কাজ হয়নি। এলিনা খান জানান, ‘বর্তমানে আমাদের সামনে হাইকোর্টে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার পিটিশন দাখিল করা ছাড়া আর কোন রাস্তা খোলা নেই। কয়েকদিনের মধ্যেই আমরা সেটা করবো।’
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ শাহীনুল ইসলাম খান বলেন, ‘পুকুর ভরাট করা পরিবেশ আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ। এক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তর ব্যবস্থা নিয়ে থাকেন। তবে আমরাও ভরাট করা পুকুরে স্থাপনার অনুমতি দিতে পারি না। অনুমোদন ছাড়া কেউ স্থাপনা তৈরি করলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করি। চান্দগাঁওয়ের পাঠানিয়া গোদা এলাকায় মসজিদের পুকুর ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আমি আগামীকাল (আজ) অবশ্যই পরিদর্শক পাঠাবো। আইনের ব্যত্যয় ঘটলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
পুকুর-জলাশয় রক্ষায় সিটি করপোরেশনের দায় কতটুকু জানতে চাইলে চসিকের নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি একেএম রেজাউল করিম জানান পরিবেশবান্ধব, নিরাপদ ও নান্দনিক সিটি প্রতিষ্ঠা প্রাকৃতিক জলাধার ও পুকুর ছাড়া কল্পনা করা যায় না। এ বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা ইতোমধ্যে বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী দিঘী ও পুকুর সংরক্ষণে বিশেষ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু করেছি।
এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রামের উপ-সহকারী পরিচালক পূর্ণচন্দ্র মুৎসুদ্দী জানান পুকুর, দীঘি কিংবা জলাশয় ভরাটের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ করতে পারে কেবল পরিবেশ অধিদপ্তর। তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে ভরাটের কোনো অভিযোগ গেলে তারা আমাদের কাছে জানতে চান এসব জলাশয় আমাদের প্রয়োজন আছে কিনা। এক্ষেত্রে আমাদের বক্তব্য থাকে, অগ্নিনির্বাপনে পুকুর-দীঘি অত্যন্ত সহায়ক। অগ্নিকাণ্ডের সময় পানির অপ্রতুলতার কারণে অগ্নিনির্বাপনেও ফায়ার সার্ভিসকে ভোগান্তি পোহাতে হয়। ফায়ার সার্ভিস যে পরিমান পানি সঙ্গে নিয়ে যায়, সেগুলো ১০-১৫ মিনিটের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। তাই জলাধারের উপর নির্ভর করতে হয় সবচেয়ে বেশি।
উদাহারণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, গত ১৯ অক্টোবর জহুর হকার্স মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডের সময় পার্শ্ববর্তী লালদীঘি থেকে পাম্পের মাধ্যমে আমরা পানি ছিটিয়েছিলাম। সেই সময় যদি লালদীঘি থেকে আমরা পানির সংযোগ দিতে না পারতাম, ক্ষয়ক্ষতির পরিমান আরো বাড়তে পারতো। এছাড়া আগুন নিয়ন্ত্রণ করাটাও কষ্টসাধ্য হতো। তাই নগরীতে বর্তমানে যে সকল পুকুর বা দীঘি রয়েছে, সেগুলো যেন পরিবেশের স্বার্থে সংরক্ষণ করা হয়।

x