এবার শিক্ষকদের আন্তরিকতা ও ইচ্ছাশক্তি নিশ্চিত করা দরকার

মঙ্গলবার , ২৯ অক্টোবর, ২০১৯ at ৫:২৫ পূর্বাহ্ণ
63

সরকার সারাদেশের ২ হাজার ৭৩০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নতুন করে এমপিওভুক্ত করেছে। শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৩ অক্টোবর গণভবনে এমপিওভুক্ত এসব প্রতিষ্ঠানের তালিকা ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজাদীতে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, সারাদেশে নতুন এমপিওভুক্ত ২ হাজার ৭৩০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় (৬ষ্ঠ-৮ম) ৪৩৯টি, মাধ্যমিক বিদ্যালয় (৬ষ্ঠ-১০ম) ৯৯৪টি, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় একাদশ থেকে দ্বাদশ ৬৮টি, কলেজ একাদশ থেকে দ্বাদশ ৯৩টি, ডিগ্রি কলেজ (১৩শ-১৫শ) ৫৬টি, মাদরাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দাখিল ৩৫৭টি, আলিম ১২৮টি, ফাজিল ৪২টি, কামিল ২৯টি। কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কৃষি ৬২, ভোকেশনাল ১৭৫ এবং এইচএসসি (বিএম) ২৮৩টি। নতুন এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের তালিকায় বৃহত্তর চট্টগ্রামের ৫ জেলায় (চট্টগ্রাম, কঙবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান) ২৩৩ টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুল এমপিওভুক্ত হয়েছে ৭৯টি। নিম্ম মাধ্যমিক স্কুল এমপিওভুক্ত হয়েছে ৪৭টি। কলেজ (উচ্চ মাধ্যমিক) ৬টি, কলেজ (স্কুল এন্ড কলেজ পর্যায়) ৫টি, ভোকেশনাল স্কুল ১০টি, ডিগ্রি পর্যায়ের কলেজ এমপিওভুক্ত হয়েছে ৩টি, দাখিল মাদ্রাসা ৬৯টি এবং ১৪টি কামিল মাদ্রাসা রয়েছে।
শিক্ষা মানবাধিকার। সংবিধানে মৌলিক শিক্ষা নিশ্চিত করার কথা বলা আছে। এটা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। জাতীয় শিক্ষানীতিতে সে প্রত্যয় আরও দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত হয়েছে। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে নানাবিধ কাজ জরুরি হয়ে পড়েছে। কনটেন্ট, ক্যাপাসিটি, কমিটমেন্ট- এ তিনটির সমন্বয়ে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত হবে বলে বিশেষজ্ঞরা বলেন।
এ কথা আজ অনস্বীকার্য যে, শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি করতে গেলে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান পর্যাপ্ত। অভাব শুধু গুণগত বা মানসম্মত শিক্ষার। শিক্ষার মান বাড়বে শিক্ষকদের গুণে। শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে শিক্ষকদের ভূমিকা অপরিসীম। শিক্ষা সমপ্রসারণ ও জ্ঞান বিতরণের ক্ষেত্রে একজন শিক্ষক শিক্ষা ও সভ্যতার অধিকতর অগ্রগণ্য অভিভাবক। শিক্ষকেরা জাতির বিবেক। একজন শিক্ষকই একটি জাতিকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে পারেন। একজন শিক্ষকের সুষ্ঠু পাঠদানের মূল্য অর্থ দিয়ে পরিশোধ করা যায় না। শিক্ষকতা একটি মহান ও মর্যাদাশীল পেশা। শিক্ষকেরা সমাজ ও জাতি গঠন এবং শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে অগ্রণী ও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে থাকেন। শিক্ষার্থীদের নৈতিক আদর্শ গঠনে শিক্ষকদের তুলনা হয় না। শিক্ষাই পারে মানুষের জীবন বদলে দিতে। সুশিক্ষা ছাড়া কোনো জাতির উন্নয়ন, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি অর্জন সম্ভব নয়। গতানুগতিক শিক্ষার পরিবর্তে কর্মমুখী ও ব্যবহার উপযোগী শিক্ষা দিতে শিক্ষকদের উদ্যোগী হতে হবে। শিক্ষাকে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করা না গেলে তা সম্ভব হয় না। তথ্য প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে আধুনিক বাংলাদেশের নির্মাতা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।এজন্য বলা যায়, শিক্ষার মানোন্নয়নে মানসম্মত শিক্ষকরা সবচেয়ে নিয়ামক ভূমিকা রাখতে পারেন। কিন্তু শিক্ষকতাকে এ দেশে এখনও আকর্ষণীয় করা যায়নি। শিক্ষার মান সত্যিকার অর্থে কমে গেলে অস্তিত্ব থাকত না। ঢালাওভাবে মান কমে গেছে- বলাটা অপপ্রচার হিসেবে গণ্য হতে পারে। শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা-জবাবদিহি অনেকাংশে নিশ্চিত হয়েছে।
বিশিষ্টজনের মতে শিক্ষা এখন উচ্চ মূল্যের পণ্য হয়ে পড়েছে। হয়ে পড়েছে বাণিজ্যনির্ভর। শিক্ষা এখন ব্যবসায়ের উপকরণ। প্রাইভেট ও কোচিংয়ের নামে শিক্ষা বাণিজ্য ব্যাহত করছে শিক্ষার গুণগত মানকে। কম শিখে বেশি নম্বর পাওয়ার মন্ত্র কোচিং সেন্টারে শেখানো হচ্ছে; যা শিক্ষার্থীদের খুব ক্ষতি করছে। কোচিংয়ের অপপ্রয়োগের ফলে ক্ষতি বেশি হচ্ছে। বর্তমান প্রাইভেট ও কোচিং বাণিজ্য জমজমাট। গরিব শিক্ষার্থীরা বিপাকে। শিক্ষার্থীদের ডাকে ঘুম ভাঙে প্রাইভেট শিক্ষকদের। শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত ও সুষ্ঠু পাঠদানের পরিবর্তে অনেক শিক্ষক প্রাইভেট কোচিং ফাঁদ পেতে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। অথচ শ্রেণিকক্ষই হবে শিক্ষকদের যথানিয়মে সুষ্ঠু ও উন্নত পাঠদানের নিমিত্তে প্রাইভেট ও কোচিং সেন্টার। শ্রেণিকক্ষেই শিক্ষকদের নিয়মিত, সফল, আধুনিক আন্তরিকতার সাথে উন্নত পাঠদানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হলেই বাড়তি ও আলাদা প্রাইভেট পড়া ও কোচিং করার দরকার হয় না। বর্তমানে দেশে কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এর নিদর্শন ও প্রমাণ রাখতে সক্ষম হচ্ছে। সেসব প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের অন্যত্র প্রাইভেট পড়া ও কোচিং করার প্রয়োজন হয় না বলে কর্তৃপক্ষ প্রকাশ্য ঘোষণার মাধ্যমে সৎ সাহসের স্বাক্ষর রাখছে। প্রাইভেট পড়া হোক আর কোচিং করা হোক সুষ্ঠু পাঠদানের জন্য শ্রেণিকক্ষই যথেষ্ট। অর্থাৎ শ্রেণিকক্ষই হবে সব। শুধু শিক্ষকদের সদিচ্ছা, আন্তরিকতা ও ইচ্ছাশক্তি নিশ্চিত করা দরকার।

x