এবার মিরাজের রাজশাহীর কাছে হারল তামিমের কুমিল্লা

ক্রীড়া প্রতিবেদক

মঙ্গলবার , ২২ জানুয়ারি, ২০১৯ at ৬:০৯ পূর্বাহ্ণ

এবারের বিপিএলে ‘জায়ান্ট কিলার’ হিসেবেই যেনো আবির্ভূত হলো তারুণ্য নির্ভর দল রাজশাহী কিংস। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে কাগজে-কলমে তাদের কথা কেউই তেমন একটা আলোচনা না করলেও, মাঠের খেলা শুরু হতেই একের পর এক চমক উপহার দিচ্ছে তরুণ মেহেদি হাসান মিরাজের দল। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই ২১ বছর বয়সী মেহেদি মিরাজকে অধিনায়কের দায়িত্ব সঁপে দিয়ে বড় চমক দিয়েছিল রাজশাহী। সে চমকের ধারাবাহিকতা যেনো মাঠেও বজায় রেখেছে তারা। আগের আসরের দুই ফাইনালিস্ট রংপুর রাইডার্স ও ঢাকা ডায়নামাইটসকে হারানোর পর এবার গতবারের তৃতীয় হওয়া কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষেও জয় তুলে নিয়েছে রাজশাহী কিংস। গতকাল লরি ইভান্সের সেঞ্চুরিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৩ উইকেটে ১৭৬ রান সংগ্রহ করেছিল রাজশাহী কিংস। তারকাসমৃদ্ধ কুমিল্লার জন্য এ লক্ষ্য খুব বেশি কঠিন না হলেও নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে তাদের আটকে রেখেছে রাজশাহীর বোলাররা। শেষ পর্যন্ত ১০ বল বাকি থাকতেই ১৩৮ রানে অলআউট হয় ইমরুল কায়েসের কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। তামিমের দলকে ৩৮ রানে হারিয়ে এবারের আসরে নিজেদের চতুর্থ জয়টি তুলে নিয়েছে মেহেদি মিরাজের রাজশাহী। কুমিল্লার সমান সাত ম্যাচে ৪ জয় নিয়ে নেট রানরেটের পিছিয়ে থাকার কারণে টেবিলের চার নম্বরে অবস্থান করছে রাজশাহী।
যদিও টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা একদমই ভালো হয়নি রাজশাহী কিংসের। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে শাহরিয়ার নাফীস ফিরেন মেহেদী হাসানের বলে বোল্ড হয়ে। ওয়ান ডাউনে নেমে আরও একবার ব্যর্থ রাজশাহী অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। রানের খাতা খোলার আগেই ফিরলেন কিংস অধিনায়ক। ডসনের দ্বিতীয় শিকার হয়ে মার্শাল আইয়ুব যখন ফিরেন তখন রাজশাহীর সংগ্রহ ৬ ওভারে ৩ উইকেটে ২৮ রান । বলা যায় এক রকম খাদের কিনারায় মিরাজের দল। কিন্তু কে জানতো সেখান থেকে রীতিমত ইতিহাস গড়বে রাজশাহী। দলের এই বিপর্যয়ের মুখে হাল ধরেন দুই বিদেশি লরি ইভান্স আর রায়ান টেন ডেসকাট। চতুর্থ উইকেটে দাঁড়িয়ে তারা দলকে এগিয়ে নেন একদম শেষ পর্যন্ত । প্রায় ১৪ ওভারের জুটিতে রাজশাহীর স্কোর বোর্ডে ১৪৮ রান যোগ করেন এ দুজন। দুর্দান্ত ইভান্সের ব্যাটে চড়েই এবারের বিপিএল পেয়েছে প্রথম সেঞ্চুরির দেখাও। শেষ পর্যন্ত ৬২ বলে ৯টি চার আর ৬টি ছক্কায় ১০৪ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছেড়েছেন ইংলিশ এই ব্যাটসম্যান। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন রায়ান টেন ডেসকাট। ৪১ বলে ২টি চার আর ৩টি ছক্কায় ৫৯ রান করেন এই ডাচ ব্যাটসম্যান। এই দুই ব্যাটসম্যনাকে ফেরাতে পারেনি আর কুমিল্লার বোলাররা।
১৭৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নামা কুমিল্লার শুরুটা মন্দ হয়নি। দলের টপ অর্ডারের প্রায় সবাই ব্যাট হাতে শুরুটা করেছেন ভালো। কিন্তু কেউই নিজেদের ইনিংস বড় করতে পারেননি। রানরেটের সঙ্গে পাল্লা দিয়েই ব্যাটিং করেছেন তামিম-ইমরুলরা। কিন্তু নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিয়ে কুমিল্লাকে কখনোই ম্যাচে থাকতে দেননি মোস্তাফিজুর রহমান, কামরুল ইসলাম রাব্বিরা। উদ্বোধনী জুটিতে ৩৭ রান যোগ করেছিলেন তামিম ইকবাল এবং এনামুল হক বিজয়। কামরুল ইসলাম রাব্বিকে ছক্কা মারতে গিয়ে তামিম ধরা পড়েন মিড অন ফিল্ডারের হাতে। আউট হওয়ার আগে ২টি করে চার-ছক্কার সাহায্যে ২৫ রান করেন তামিম। এরপর এনামুল বিজয়, শামসুর রহমান, জিয়াউর রহমান কিংবা অধিনায়ক ইমরুল কায়েস কেউই বড় ইনিংষ খেলতে পারেনি। দলের সবাই বড় শট খেলতে গিয়ে হয়েছেন ক্যাচ আউট। প্রথম ২ বলেই ছক্কা-চারের মারে ১০ রান নিয়ে ইমরুল আউট হয়ে যান মাত্র ১৫ রান করেই। এছাড়া বিজয়, শুভ, জিয়াউর রহমানরা করেন যথাক্রমে ২৬, ১৫ এবং ১২। এদের মধ্যে কেউই নিজেদের ইনিংস বড় করতে পারেনি বিধায় দায়িত্ব গিয়ে বর্তায় শেষের তিন স্বীকৃত হার্ডহিটার বিদেশী লিয়াম ডসন, থিসারা পেরেরা এবং শহিদ আফ্রিদির কাঁধে।
কিন্তু থিসারা পেরেরা প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে আউট হয়ে যান শূন্য রানেই। লিয়াম ডসন দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে আশা বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। তবে ১টি করে চার-ছক্কার সাহায্যে ১৭ রানের বেশি করতে পারেননি তিনি। পাকিস্তানি অলরাউন্ডার শহিদ আফ্রিদি আফগান লেগস্পিনার কাইস আহমেদকে পরপর তিন বলে ৬, ৬, ও ৪ মেরে আভাস দিয়েছিলেন নিজের সহজাত ঝড়ের। কিন্তু মোস্তাফিজুর রহমানের বিপক্ষে একদমই স্বচ্ছন্দে খেলতে পারেননি তিনি। টানা দুই ওভারে মোস্তাফিজকে ৭টি ডট খেলেন আফ্রিদি। যার ফায়দা নেন কামরুল ইসলাম রাব্বি। ১৮তম ওভারের প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে ডিপ মিড উইকেটে ক্রিশ্চিয়ান জঙ্কারের অসাধারণ ক্যাচে পরিণত হন আফ্রিদি। আউট হওয়ার আগে করেন ১৯ রান। সে ওভারে আরো ২ উইকেট নিয়ে ম্যাচ রাজশাহীর পক্ষে নিয়ে আসেন রাব্বি।
কুমিল্লার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান। ১৯তম ওভারের দ্বিতীয় বলে মেহেদি হাসানকে অধিনায়ক মেহেদি মিরাজের হাতে ক্যাচে পরিণত করে দলের জয় নিশ্চিত করেন মোস্তাফিজ। কুমিল্লার দশ ব্যাটসম্যানই আউট হন রাজশাহীর ফিল্ডারদের হাতে ক্যাচে পরিণত হয়ে। রাজশাহীর পক্ষে বল হাতে ৩ ওভারে মাত্র ১০ রান খরচায় ৪ উইকেট নিয়েছেন রাব্বি। এছাড়া কাইস আহমেদ ও রায়ান টেন ডেসকাট নিয়েছেন ২টি করে উইকেট। আরাফাত সানি ও মোস্তাফিজুর রহমানের ঝুলিতে গিয়েছে ১টি করে উইকেট।

x