এবার ভারত থেকে পাথর আমদানিও বন্ধ

মঙ্গলবার , ১৯ নভেম্বর, ২০১৯ at ৪:৫৯ পূর্বাহ্ণ
289

ভারতীয় সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হবার পর এবার পাথর আমদানিও বন্ধ করে দিল বাংলাদেশি পাথর আমদানিকারকরা। এতে করে দেশের দ্বিতীয় স্থলবন্দরও সোনা মসজিদ এখন ফাঁকা মাঠে পরিণত হয়েছে। অলিখিত নিষেধাজ্ঞার কারণে রোববার ভারত থেকে কোনো পাথরের ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করেনি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দরে ভারত থেকে আমদানি করা পাথরে সরকারনির্ধারিত ট্যারিফ সিডিউল অনুযায়ী টোল ও ফি আদায়ের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে আমদানিতে শঙ্কা দেখা দেয়। বিষয়টি নিয়ে গত ৯ ও ১৪ নভেম্বর সোনামসজিদ স্থলবন্দরের উন্নয়ন, কার্যক্রমে গতিশীলতা বৃদ্ধি, ব্যবসা সহজীকরণ এবং সরকারনির্ধারিত ট্যারিফ সিডিউল অনুযায়ী টোল ও ফি আদায় বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (ট্রাফিক) ও যুগ্ম সচিব ড. শেখ আলমগীর হোসেন। এসময় বন্দর শ্রমিক ইউনিয়ন, জেলা চেম্বার, আমদানিকারক গ্রুপ, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট প্রতিনিধিসহ বন্দর সংশ্লিষ্টরাও উপস্থিত ছিলেন। খবর বাংলানিউজের।
বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিত সভার ফলোআপ ছিল ১৪ নভেম্বরের মতবিনিময় সভা। কিন্তু সেই সভাটিও ফলপ্রসূ না হওয়ায় এ অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তবে আমদানিকারকরা জানান, সিদ্ধান্ত ছাড়াই মতবিনিময় সভা শেষ হয়, আমরা আমাদের অপারগতার কথা তুলে ধরেছি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ ও বেসরকারিভাবে বন্দর পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান সোনামসজিদ স্থলবন্দর পানামা পোর্ট লিঙ্ক লিমিটেডের সিদ্ধান্ত অনুসারে পাথর আমদানিকারকরা আর আগের মতো ট্রাক প্রতি ৭৮৩ টাকা বন্দর কর্তৃপক্ষকে দিয়ে আনলোড করতে পারবে না। আগের সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক রোববার থেকে আগের নিয়ম প্রত্যাহার করে সরকার নির্ধারিত ট্যারিফ সিডিউল অনুযায়ী টোল ও ফি আদায়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ ও বেসরকারিভাবে বন্দর পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত সোনামসজিদ স্থলবন্দর পানামা পোর্ট লিঙ্ক লিমিটেড কর্তৃপক্ষ।

এ ব্যাপারে সোনা মসজিদ স্থলবন্দর পানামা পোর্ট লিঙ্ক লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ বেলাল হোসেন বাংলানিউজকে জানান, রোববার থেকে বন্দর চত্বরে আনলোড করতে হবে এবং টনপ্রতি সরকারনির্ধারিত ট্যারিফ সিডিউল অনুযায়ী টোল ও ফি বাবদ টনপ্রতি ১০০-১১০ টাকা দিতে হবে আমদানিকারকদের। অন্যদিকে, সোনামসজিদ স্থলবন্দর সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মেসবাহুল ইসলাম জানান, গত ৯ ও ১৪ নভেম্বর মতবিনিময় সভায় এ নিয়ে আলোচনা করার পরও কোনো সুরাহা না হওয়ায় এ অচলাবস্থা।
সোনামসজিদ স্থলবন্দর আমদানি ও রপ্তানিকারক গ্রুপের উপদেষ্টা কবিরুর রহমান খোকন বাংলানিউজকে বলেন, রপ্তানিকারকদের অতি মুনাফা, ভারতের মহদিপুর বন্দরে বিভিন্ন পণ্যভর্তি ট্রাক সোনামসজিদ বন্দরে আসতে ওপারে অহেতুক লোকাল ট্রাকে পণ্য পুনঃলোড করে বেশি ভাড়া প্রদানে বাধ্য করা, ইচ্ছাকৃতভাবে জট তৈরি করে বিলম্ব করিয়ে ট্রাক থেকে বিলম্ব ফি আদায়ে এমনিতেই লোকসানে পড়েছেন পাথর আমদানিকারকরা। তার ওপর সোনামসজিদ স্থলবন্দরে বন্দর কর্তৃপক্ষ আগের মতো করে সুযোগ না দিলে এবং সরকারনির্ধারিত ট্যারিফ সিডিউল অনুযায়ী টোল ও ফি বাবদ টনপ্রতি পাথরের জন্য বর্তমানে বন্দর কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে টাকা দিতে হলে সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে কারোরই পক্ষে পাথর আমদানি করা সম্ভব হবে না।
‘তাদের সিদ্ধান্ত অনুসারে পাথর ভর্তি ট্রাকের জন্য গুণতে হবে ১৫২ টাকা প্রতিটন হারে এক ট্রাক পাথরের জন্য ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা। আগে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সবার সিদ্ধান্তেই ছিল ৭৮৩ টাকা।’ তিনি আরও বলেন, আগামী শনিবার আমদানি ও রপ্তানিকারকদের মিটিং হবে। সেই মিটিংয়ে আমরা এসব বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আমদানিকারক বলেন, এ বন্দরটি মূলত পাথর ও পেঁয়াজের ওপর নির্ভরশীল। পেঁয়াজের আমদানি বন্ধ রয়েছে। আর ভারত থেকে সোনামসজিদ বন্দর দিয়ে মাসে পাথরবাহী প্রায় সাড়ে তিন হাজার ট্রাকে এক লাখ দশ হাজার মেট্রিক টন পাথর আসে বলে জানান বন্দর সংশ্লিষ্টরা। এ থেকে রাজস্ব দিতে হয় টনপ্রতি ৭৭২ টাকা। এ হিসেবে সরকার মাসে রাজস্ব আহরণ করে প্রায় সাড়ে আট কোটি টাকা। আর বন্দর পরিচালনা কর্তৃপক্ষ প্রতি ট্রাকে যে ৭৮৩ টাকা নেয় তার ৪৯ শতাংশ পায় সরকার, ৫১ শতাংশ পায় বন্দর পরিচালনা কর্তৃপক্ষ। আর এ বন্দর দিয়ে আসা পাথর দেশের মেগা প্রকল্পে ব্যবহার হচ্ছে।

x