এনবিআরে কাস্টমস কমিশনারের চিঠি প্রতিবাদে আজ সিএন্ডএফের কর্মবিরতি

মিথ্যা ঘোষণার পণ্য

জাহেদুল কবির

মঙ্গলবার , ১৪ জানুয়ারি, ২০২০ at ৫:০৭ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম বন্দরে প্রায়শ আসছে মিথ্যা ঘোষণার পণ্য। এছাড়া ঘোষণা অতিরিক্ত পণ্য তো আছেই। ফলে সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এছাড়া অনেক সময় আমদানিকারক পণ্য আমদানির ঘোষণা দিয়ে মূল্যহীন বস্তু কিংবা খালি কন্টেনারও নিয়ে আসেন। এই ধরনের কয়েকটি চালানের বিরুদ্ধে গত বছরের ডিসেম্বরে মোট চারটি মানি লন্ডারিংয়ের মামলাও করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। তবে এই ধরনের ঘটনায় আমদানিকারকের পাশাপাশি চালান খালাসে জড়িত সংশ্লিষ্ট সিএন্ডএফ এজেন্টের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বরাবর চিঠি লিখেছেন কাস্টমস কমিশনার। মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানিতে সিএন্ডএফ এজেন্টের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাচ্ছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা বলছেন, ‘আমদানিকারকের ডকুমেন্ট নিয়ে শুধুমাত্র পণ্য খালাসের কাজ করে সিএন্ডএফ। আমদানিকারকরা কী পণ্য আনলেন সেটি তাদের বিষয়। কাস্টমস তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তাই এই চিঠি প্রত্যাহারের দাবিতে আজ সকাল থেকে কাস্টমসে কর্মবিরতি পালন করা হবে।’
কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ জানুয়ারি এনবিআরের সদস্য (কাস্টমস নীতি ও আইসিটি) বরাবর চিঠি লিখেন কাস্টমস কমিশনার মোহাম্মদ ফখরুল আলম। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, ‘মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানির ঘটনা প্রতিষ্ঠিত হলে আমদানিকারকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। কিন্তু মিথ্যা ঘোষণার প্রবণতা আশানুরূপ কমছে না। এ দপ্তর কর্তৃক বিষয়টি পর্যালোচনায় দেখা যায়, কাস্টম হাউস চট্টগ্রামসহ অন্যান্য কাস্টম হাউসে দীর্ঘদিন ধরে ঘোষণা বহির্ভূত ও ঘোষণাতিরিক্ত কিংবা আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে শুধু আমদানিকারকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। কিন্তু আমদানিকারক মনোনীত সংশ্লিষ্ট সিএন্ডএফ এজেন্টের বিরুদ্ধে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় না। আমদানিকৃত পণ্য মিথ্যা ঘোষণায় খালাসের সাথে সংশ্লিষ্ট সিএন্ডএফ এজেন্ট প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত থাকে। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সাম্প্রতিক কিছু মিথ্যা ঘোষণায় চালান পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কতিপয় সিএন্ডএফ এজেন্ট অধিকাংশ মিথ্যা ঘোষণায় আমদানিকৃত পণ্য চালান খালাসের সাথে সংশ্লিষ্ট। গোপন অনুসন্ধান এবং মিথ্যা ঘোষণার ঘটনা পর্যালোচনা ও কতিপয় আমদানিকারকের বক্তব্য পর্যালোচনায় জানা যায়, সিএন্ডএফ এজেন্ট এবং আমদানিকারকের পারস্পরিক যোগসাজশে অথবা প্ররোচণায় অধিকাংশ মিথ্যা ঘোষণার ঘটনা ঘটছে।’
চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, ‘দি কাস্টমস অ্যাক্ট-১৯৬৯ এর সেকশন ২০৯ (২) অনুযায়ী মিথ্যা ঘোষণার দায় সংশ্লিষ্ট সিএন্ডএফ এজেন্ট কোনোভাবেই এড়াতে পারে না। কারণ আইনের উক্ত ধারায় আমদানিকারক এবং তার মনোনীত এজেন্টকে সমভাবে দায়ী করা করা হয়েছে। এছাড়া কাস্টমস এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা ২০১৬ এর বিধি ৯ এর দফ ৫(খ) অনুযায়ী মিথ্যা ঘোষণার সাথে সম্পৃক্ত সিএন্ডএফ এজেন্টের লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে বিধি নিষেধ রয়েছে। কিন্তু সকল কাস্টম হাউস কিংবা স্টেশনে মিথ্যা ঘোষণার ক্ষেত্রে কাস্টমস আইন ও লাইসেন্সিং রুলের বিধান সমভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে না বিধায় কোনো কোনো কাস্টমস হাউস কিংবা স্টেশনে আইন প্রয়োগে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। বর্ণিত প্রেক্ষাপটে মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে আমদানিকারকের পাশপাশি সংশ্লিষ্ট সিএন্ডএফ এজেন্টের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করলে মিথ্যা ঘোষণার প্রবণতা বন্ধ করা যাবে বলে এ দপ্তর মনে করে। আর মিথ্যা ঘোষণা কমে গেলে জটিলতা হ্রাস, শ্রম ও সময়ের সদ্ব্যবহার হওয়াসহ রাজস্ব সুরক্ষা নিশ্চিতকরণসহ পণ্য খালাস দ্রুত সম্ভব হবে। কিন্তু অনিয়মের দায়ে সকল কাস্টম হাউস অথবা স্টেশনে কাস্টমস আইন ও বিধি সম প্রয়োগ না হলে তা প্রশাসনিক জটিলতা তৈরিসহ বৈষম্য সৃষ্টি করবে। তাই যে সকল পণ্য চালানে মিথ্যা ঘোষণা ধরা পড়বে (পণ্যের বর্ণনা ও পরিমাণে) সে সকল চালানের ক্ষেত্রে আমদানিকারকের পাশপাশি সংশ্লিষ্ট সিএন্ডএফের বিরুদ্ধে আবশ্যিকভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত মর্মে এ দপ্তর মনে করে। এছাড়া কোনো সিএন্ডএফ এজেন্ট বছরে একাধিকবার একই অপরাধ করলে তাদের লাইসেন্স চূড়ান্তভাবে বাতিলের বিধান করা প্রয়োজন। সে মোতাবেক লাইসেন্সিং বিধিমালা ২০১৬ এর বিধি ২১ সংশোধনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হলো।’
চিঠির বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কাস্টমস সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহমুদ ইমাম বিলু দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘আমদানিকারক কী পণ্য আমদানি করেন সেটি সিএন্ডএফ এর পক্ষে জানা সম্ভব না। সিএন্ডএফ কেবল ডকুমেন্ট উপস্থাপন করে পণ্য খালাস করে থাকে। আমদানিকারক কী ঘোষণায় কী আনছে সেটি তারাই জানে। তাহলে এক্ষেত্রে সিএন্ডএফের দায়টা কোথায়? আমরা এই চিঠিটা প্রত্যাহার চাই। চিঠির প্রতিবাদের আগামীকাল (আজ) সকাল নয়টায় কাস্টমস প্রাঙ্গণে আমরা কর্মসূচি পালন করব। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি চিঠি প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত আমরা কোনো বিল অব এন্ট্রি দাখিল করব না।’

x