এজাজ মাহমুদ (স্যালুট ক্যাপটেন জাকারিয়া)

শুক্রবার , ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ at ৩:৩৯ পূর্বাহ্ণ
67

জরুরি অবতরণ মানেই মহাঝুঁকি, মহাবিপদ। বড় দুর্ঘটনার আশংকা।
সময় মাত্র ৩ মিনিট। চাকাবিহীন অবস্থায় রানওয়েতে ছেচড়িয়ে চলতে গিয়ে এই সময়ের মধ্যেই যদি উড়োজাহাজ থামানো যায় তবেই রক্ষা। এর বেশি সময় এগুলেই বিস্ফোরণের আশংকা থাকে। এমন মহাঝুঁকি নিয়েই জরুরি অবতরণ করেন ক্যাপটেন জাকারিয়া। ইউএস বাংলার বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজের পাইলট। সামনের চাকা আটকে যাওয়ায় কক্সবাজার নামতে না পেরে জরুরি অবতরণের জন্য চলে আসেন চট্টগ্রাম। আসার পথে নিয়ম অনুযায়ী বাইরে ফেলে দিয়ে কমিয়ে ফেলেন তেল (আগুন না ধরার জন্য)।
অন্যদিকে খবর পেয়েই দ্রুত সকল প্রস্তুতি নেয় চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। রানওয়ের শেষ প্রান্তে পানি-ফোম ছিটিয়ে দেয়া হয় নির্ধারিত জায়গাটিতে, প্রস্তুত রাখা হয় ফায়ার সার্ভিস, এমবুলেন্স এবং উদ্ধারকারী দল। সাথে প্রস্তুত বিমানবাহিনীও। দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে। পিছনের চাকাগুলোর উপর ভর করে উড়োজাহাজটি রানওয়েতে নামান পাইলট ক্যাপটেন জাকারিয়া (বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত স্কোয়াড্রন লিডার)। অনেকক্ষণ চলার পর নির্ধারিত জায়গায় এসে সামনের নোজ রানওয়েতে স্পর্শ করান। ছেচড়িয়ে কিছুদুর যাবার পর থেমে যায় উড়োজাহাজ। সেই ৩ মিনিটের আগেই থামিয়ে ফেলতে সক্ষম হন তিনি। দ্রুত খুলে যায় বিমানের ৬ টি জরুরি দরজা। নেমে পড়ে স্লাইড।নিরাপদে বেরিয়ে আসে ১৬৪ যাত্রী আর ৭ ক্রু। রক্ষা পায় অমূল্য জীবনগুলো।
অবতরণের সময় বিমানবন্দরে উপস্থিত সংশ্লিষ্ট অনেকের সাথে কথা বলে জানা যায়, পাইলটের অসাধারণ দক্ষতায় ইউএস বাংলার বোয়িংটি বড় দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে গেছে। অভিজ্ঞতা ও কৌশল কাজে লাগিয়ে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করে উড়োজাহাজটি নিরাপদে অবতরণ করান ক্যাপটেন জাকারিয়া। ভিডিওটা দেখলেই বুঝা যায়, কত ধীর-স্থির আর দক্ষতার সাথে তিনি উড়োজাহাজটি অবতরণ করেছেন। যেন প্রতিদিনকার মত স্বাভাবিক ল্যান্ডিং। মনেই হচ্ছে না এটা দুঘর্টনায় পড়েছে। এখানে যখন সামনের চাকা অকেজো, তাই তিনি বুদ্ধিমত্তা দিয়ে অনেকক্ষণ পিছনের চাকায় ভর করে ছিলেন। রানওয়ের শেষ প্রান্তে পানি-ফোম ছিটানো নির্ধারিত জায়গায় আসার পর নোজ (সামনের অংশ) রানওয়েতে স্পর্শ করান এবং ৩ মিনিটের মধ্যেই থামিয়ে ফেলেন। এই বিষয়ে জানতে চাইলে ঘনিষ্ঠ একজন বৈমানিক বলেন, জরুরি মুহূর্তে নিজেকে স্থির ও স্বাভাবিক রাখাই পাইলটের প্রধান কাজ। দক্ষ ও অভিজ্ঞরা তাই করে থাকেন। ক্যাপটেন জাকারিয়াও সেটা ষোলআনাই করেছেন। পুরো সময় তিনি অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি সামাল দেন। নিজেকে বুঝতেই দেননি যে মহাবিপদের দিকে যাচ্ছেন। এখানেই তিনি অভিজ্ঞতা আর দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। তাঁকে নিয়ে এখন আমরাও গর্ব করছি। স্যালুট এই দক্ষ পাইলটকে। তাঁকে নিয়ে আমরাও গর্ব করতে পারি। শুকরিয়া সৃষ্টিকর্তাকে বড় দুর্ঘটনা থেকে আমাদের রক্ষা করার জন্য।

x