এগিয়ে যাচ্ছে পাহাড়ের নারীরা

সোমবার , ১৬ মার্চ, ২০২০ at ৮:১১ পূর্বাহ্ণ
112

পার্বত্য চট্টগ্রামে নানা প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করেও স্বাবলম্বী হচ্ছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারীরা। চাকরি না করে আত্মনির্ভরশীল হচ্ছে অনেক নারী। তবে নারী উন্নয়ন কর্মীরা মনে করছে ভৌগোলিক ও আর্থসামাজিক কারণে পাহাড়ে নারীরা এখনো অনেক পিছিয়ে। তবে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ পেলে নারীরা আরো অগ্রসর হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। ২০১৯ সালে ডিসেম্বর মাসে জেলা সদর উপজেলার বাড়ির পাশে পতিত জমিতে ফুলের নার্সারি গড়ে তোলেন পান্না চাকমা। সংসারের কাজের পাশাপাশি আত্মনির্ভরশীল হওয়ার লক্ষ্যে নার্সারি গড়ে তোলেন এই কৃষি উদ্যোক্তা। বর্তমানে প্রায় ৬০ প্রজাতির দেশি-বিদেশি ফুলের সমাহার রয়েছে ওয়ার্ল্ড লাইফ গার্ডেন নামে এই নার্সারিতে। বর্তমানে বিক্রিও বেশ বেড়েছে। বাগানের পরিচর্যায় কাজ করছে প্রায় ৫ জন স্থায়ী শ্রমিক। এছাড়া অনেকে এই নার্সারি খণ্ডকালীন শ্রমিক হিসেবে কাজ করে। নার্সারিতে কর্মরত অনিমেষ ত্রিপুরা জানান, “নার্সারিতে স্থায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করি। এখানে যে বেতন পাই তা দিয়ে সংসার চলে । বেকারত্বও দূর হয়েছে।’ আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্যই নার্সারি গড়ে তুলেছে পান্না চাকমা। সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ পেলে অনেক নারীই উদ্যোক্তা আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠবে। ওয়ার্ল্ড গার্ডেন এর এই উদ্যোক্তা আরো জানান, “সংসারের কাজের পাশাপাশি কিছু একটা করার চেষ্টা থেকে এই নার্সারি গড়ে তুলেছি। এখানে বেশ কয়েকজন শ্রমিক কাজ করে। নার্সারিতে বেচাকেনাও ভালো। তবে পাহাড়ের নারীরা সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ পেলে অনেকেই উদ্যোক্তা হয়ে উঠবে।’ তবে নারী উন্নয়ন কর্মীরা মনে করছে ভৌগোলিক ও আর্থ সামাজিক কারণে পাহাড়ে নারীরা অনেক পিছিয়ে । অনুকূল পরিবেশ না থাকায় অনেকই নারীই সামনে অগ্রসর হতে পারছে না। সহজে ঋণ না পাওয়ায় এখানে নারীরা আত্মনির্ভরশীল হতে পারছে না। খাগড়াপুর মহিলা কল্যাণ সমিতি এর সভানেত্রী শেফালিক ত্রিপুরা বলেন ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের আর্থসামাজিক ও ভৌগোলিক কারণে নারীরা অগ্রসর হতে পারছে না। এখানে কোন ব্যবসা করার জন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে চাইলেও নানা জটিলতা পোহাতে হয়।’ তবে নারীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন বিষয়ে ট্রেনিংসহ সার্বিক সহযোগিতা করছে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর । খাগড়াছড়ি মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর এর উপ-পরিচালক মো. মহিউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ‘নারীদের স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরণে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তবে প্রশিক্ষণ পাওয়ার পর পুঁজির সংকটে অনেকে উদ্যোক্তা হয়ে উঠতে পারে না।’’ পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ দিলে পাহাড়ের নারীরা উদ্যোক্তা হয়ে উঠবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। ফিচারটি  তৈরি করেছেন আমাদের খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি সমীর মল্লিক