এখনো সিরিজ জেতা সম্ভব মনে করেন শফিউল

ক্রীড়া প্রতিবেদক

শনিবার , ৯ নভেম্বর, ২০১৯ at ৫:৪২ পূর্বাহ্ণ
14

বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে এখনো দারুণ কার্যকর শফিউল ইসলাম। ইনিংসের শুরুতেই ব্রেক থ্রো এনে দেওয়ার বেলায় তিনি বেশ কার্যকর। তবে সেই শফিউল ব্যর্থ হয়েছেন রাজকোটের ম্যাচে। তারপরও হতাশ হতে চাননা এই পেসার। রাজকোটে হারের পর যতটা দেখাচ্ছে ততটা বাজে অবস্থায় নেই বাংলাদেশ। ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে তাদের বোলিং যত দুর্বল দেখাচ্ছে আসলে ততটা নয় বলেও দাবি করেন পেসার শফিউল ইসলাম। এই পেসার মনে করেন, ছোট ছোট ভুলগুলো এড়াতে পারলে পাল্টে যাবে পরিস্থিতি। নাগপুরে নিজেদের ঠিকঠাক মেলে ধরতে পারলে সিরিজ জিতবে বাংলাদেশ। দিল্লিতে ৭ উইকেটে জিতেছিল বাংলাদেশ। রাজকোটে ৮ উইকেটে জিতে সমতা এনেছে ভারত। নাগপুরে রোববার সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হবে দল দুটি। রাজকোট থেকে নাগপুর যাওয়ার আগে শফিউল জানান, দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ভুলে নাগপুরে নতুন শুরুর দিকে তাকিয়ে বাংলাদেশ।
শফিউল বলেন অবশ্যই আমাদের এখনও সুযোগ আছে। যদি আমরা ভালো ক্রিকেট খেলি। প্রথম ম্যাচটা যেরকমভাবে খেলেছি সেরকম যদি খেলতে পারি। দ্বিতীয় ম্যাচে কিছু ছোট ছোট ভুল ছিল আমাদের। যদি আমরা সামনের ম্যাচে এই ভুলগুলো না করি, অবশ্যই আমাদের সিরিজ জেতা সম্ভব। তিনি বলেন আশা করি আমরা দৃঢ়ভাবে ঘুরে দাঁড়াব। সৌরাষ্ট্র ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দলকে ভালো শুরু এনে দিয়েছিলেন লিটন দাস ও মোহাম্মদ নাঈম শেখ। সেটা ধরে রাখতে পারেনি পরে যারা ব্যাট করতে নেমেছেন তারা। বড় সংগ্রহের আশা জাগিয়েও থেমে যায় দেড়শ ছাড়িয়ে। সেই পুঁজি নিয়ে লড়াইও করতে পারেনি বাংলাদেশ। বেশিরভাগ বোলার খুঁজে পাননি সঠিক লাইন ও লেংথ। শফিউল আত্মবিশ্বাসী পরের ম্যাচে দেখা যাবে অন্য এক বাংলাদেশকে।
এই পেসার বলেন আমরা ব্যাটিং এবং বোলিংয়ে ছোট ছোট কিছু ভুল করেছি। সেগুলা নিয়ে আমরা কাজ করব। ওই ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলো যদি আমরা জয় করতে পারি তাহলে ভালো কিছু করতে পারব। শফিউল বলেন আমাদের সামনে বড় একটা সুযোগ ছিল। এক ম্যাচ আগে যদি সিরিজ জিততে পারতাম তাহলে অবশ্যই ভালো লাগত। হারলে তো মন খারাপ লাগবেই। তবে হারার পর কিভাবে পরের ম্যাচে ফেরা যায় সেটাই মূল কথা। সামনের ম্যাচের জন্য এখন আমরা তৈরি হচ্ছি। এই ম্যাচ ভুলে গিয়ে, এই ম্যাচের ভুলগুলো শুধরে, সামনের ম্যাচে মনোযোগ দিচ্ছি।
রাজকোটের ম্যাচে সবচাইতে বেশি মার খেছে বাংলাদেশ দলের পেসাররা। তাই তাদের মনোবল ভেঙ্গে যাওয়ার কথা। কিন্তু পেসাররা সাহস হারাচ্ছেননা এখনো। রাজকোটে রোহিত শর্মার হাতে বেধড়ক পিটুনি খেলেও চেষ্টা করছিলেন ম্যাচে ফেরার। কি করা যায় তা নিয়ে এক পেসার জিজ্ঞেস করছিলেন আরেক জনকে। প্রায় প্রতি ওভার শেষে নিজেদের মধ্যে কথা বলতে দেখা যাচ্ছিল আল আমিন হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান ও শফিউল ইসলামকে। ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের ঝড় থামিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর পথ খুঁজছিলেন তিন পেসার। রাজকোটে বৃহস্পতিবার পেসারদের ওপর চড়াও হয়ে ডানা মেলেন রোহিত শর্মা। তাকে যতক্ষণে থামান লেগ স্পিনার আমিনুল ইসলাম ততক্ষণে ম্যাচ ঢুকে গেছে ভারতের মুঠোয়। শফিউল জানান, ওভারের ফাঁকে ফাঁকে কথা বলে নতুন পরিকল্পনা সাজিয়ে নিচ্ছিলেন তারা।
শফিউল জানান আমি আল আমিন আর মোস্তাফিজ বলছিলাম যেটা হওয়ার হয়ে গেছে । এখন আমাদের দৃঢ়ভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। ঠিক লাইন-লেংথ পরিবর্তন করা নিয়ে কথা বলছিলাম না। আলোচনা করছিলাম কিভাবে ব্যাটসম্যানদের বেঁধে রাখা যায় তা নিয়ে। ম্যাচ কতটা ক্লোজ করা যায়। এই ম্যাচেই কিভাবে ঘুরে দাঁড়ানো যায় সেটা নিয়ে কথা বলছিলাম। আসলে এই উইকেট খুব ভালো ছিল ব্যাটিংয়ের জন্য। রোহিত শর্মা খুব সুন্দর ব্যাটিং করেছে। ওর ভালো দিন গিয়েছে কাল। যা চেষ্টা করেছে সেটাই পেরেছে। আমরাও ছোট ছোট ভুল করেছি। প্রথম ম্যাচে সেসব ভুল ছিল না। পরের ম্যাচে যেন ভুল না করি সেটা নিয়ে আমরা কাজ করছি। তিনি বলেণ পেসারদের ওপর দায়িত্ব একটু বেশি। পাওয়ার প্লেতে বোলিং করতে হবে, আবার শেষ চার-পাঁচ ওভারও সামলাতে হবে তাদের। দলকে জেতাতে তাই নিজেদের কাঁধে অনেক দায়িত্ব দেখছেন শফিউল।
শফিউল বলেণ আমরা যে তিন জন পেস বোলার দলে আছি আমরা সাধারণত মূল ওভারগুলোতে বা পাওয়ার প্লেতে কিংবা শেষের চার-পাঁচ ওভারে বেশি বল করি। পেস বোলাররা যদি ভালো করতে পারি। যেটা প্রথম ম্যাচে করতে পেরেছি। ভালো একটা শুরু যদি এনে দিতে পারি এবং ভালোভাবে শেষ করতে পারি। আর যদি ওদের আটকে দিতে পারি তাহলে সেটা ব্যাটসম্যানদের জন্য সুবিধা হবে। জেতার সুযোগ থাকবে। তিনি বলেন কখনো হাল ছেড়ে দিতে নেই। যেমনটি আমরা ছেড়ে দিচ্ছিনা। আমরা চাইছি পরের ম্যাচ জিতে সিরিজ জিততে। তবে সেটা বেশ কঠিন কিন্তু অসম্ভব নয়।

x