এক মাসে বন্দরে এসেছে প্রায় ৫ হাজার টন পেঁয়াজ

এক দিনেই ৮০৭ টনের শুল্কায়ন

জাহেদুল কবির

শুক্রবার , ৮ নভেম্বর, ২০১৯ at ৪:২৫ পূর্বাহ্ণ
120

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আসছে হাজার হাজার টনের পেঁয়াজের চালান। গত এক মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ৩৬ আমদানিকারক চীন, মিশর, তুরস্ক এবং পাকিস্তান থেকে নিয়ে এসেছে প্রায় ৫ হাজার টন পেঁয়াজ। এরমধ্যে গতকাল চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে ৮টি চালানের শুল্কায়ন সম্পন্ন হয়েছে। এসব চালানের মধ্যে ৬টি এসেছে মিশর থেকে। যার পরিমাণ প্রায় ৬০০ টন। এছাড়া তুরস্ক থেকে এসেছে ১৮২ টন এবং চীন থেকে অপর চালানে আসে ২৯ টন। সবমিলিয়ে শুধুমাত্র গত ছয়দিনে এক হাজার ৬৩০ টন পেঁয়াজ বন্দরে ভিড়ে। এরমধ্যে কয়েকটি চালান ইতোমধ্যে খালাস হয়েছে। বাকিগুলো খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে।
কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, গত ২ নভেম্বর খাতুনগঞ্জের খান এন্ড সন্স চীন থেকে এক চালানে ৮৭ টন পেঁয়াজ আমদানি করে। এছাড়া একইদিন রেয়াজুদ্দিন বাজারের চৌধুরী মার্কেটের এএইচ এন্টারপ্রাইজ মিশর থেকে সাড়ে ৮৫ টন পেঁয়াজ আনে। অপরদিকে সাতক্ষীরার সাতক্ষীরা এক্সিম তিনটি চালানে চীন থেকে মোট ১৩৫ টন পেঁয়াজ আমদানি করে। পরদিন ৩ নভেম্বর ঢাকার আহসানউল্লাহ রোডের করিম এন্ড ব্রাদার্স মিশর থেকে ৫৬ টন এবং চট্টগ্রামের শেখ মুজিব রোডের এফএফ ইন্টারন্যাশনাল ৮৭ টন পেঁয়াজ নিয়ে আসে। এছাড়া ৪ নভেম্বর ঢাকার ব্রাদার্স ইমপেক্স মিশর থেকে ৫৬ টন, চট্টগ্রামের মধ্যম চাক্তাইয়ের আবুল বশর এন্ড সন্স চীন থেকে দুই চালানে ৫৮ টন এবং ঢাকার ফরাশগঞ্জের রফিক ট্রেডার্স মিশর থেকে ১৪৫ টন পেঁয়াজ আমদানি করে। ৫ নভেম্বর চট্টগ্রামের আগ্রবাদের এএইচ এন্টারপ্রাই মিশর থেকে ৫৬ টন, ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার রেচনা ট্রেডিং কোম্পানি ৮৭ টন এবং
ঢাকার শ্যামপুরের দুলাল এন্টারপ্রাইজ ৫৪ টন পেঁয়াজ নিয়ে আসে। ৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন সুপার মার্কেটের মুহিব ফ্রুট তুরস্ক থেকে ১৮২ টন পেঁয়াজ আমদানি করে। তবে চালানটির শুল্কায়ন সম্পন্ন হয় গতকাল। এছাড়া মিশর থেকে গতকাল ঢাকার আহসানউল্লাহ রোডের আতিক এন্টারপ্রাইজ দুই চালানে ১৩২ টন, ফরাশগঞ্জের জেনি এন্টারপ্রাইজ ১৫০ টন, দিলকুশার রামিশা এন্টারপ্রাইজ ৮৪ টন, ফরাশগঞ্জের রফিক ট্রেডার্স ১৩৫ টন, মৌলভীবাজারের ১১৫ টন এবং ঢাকার জনসন রোডের এডিএম কর্পোরেশন থেকে চীন থেকে ২৯ টন পেঁয়াজ আমদানি করে। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে গতকাল এসব চালানের শুল্কায়ন সম্পন্ন হয়েছে বলে কাস্টমস কর্তারা জানিয়েছেন।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের যুগ্ম কমিশনার সাধন কুমার কুণ্ডু দৈনিক আজাদীকে বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে আমাদেরকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে পেঁয়াজের চালানকে যাতে অগ্রাধিকার দেয়া হয়। সেই নির্দেশনা মতে, আমরা পেঁয়াজের চালান খালাসে দ্রুতগতিতে শুল্কায়ন সম্পন্ন করি।
উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে ভারত রপ্তানি বন্ধ করার পরে বাংলাদেশে প্রচুর মিয়ানমারের পেঁয়াজ প্রবেশ করে। মিয়ানমারের পেঁয়াজের পাশাপাশি আমদানিকারকরা চীন, মিশর, তুরস্ক এবং পাকিস্তান থেকে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পেঁয়াজ আমদানি করছেন। সম্প্রতি চট্টগগ্রাম জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মো. সেলিম হোসেন জানান, মিশর থেকে ৫০ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির ঘোষণা দিয়েছে এস আলম গ্রুপ। এছাড়া ৯ হাজার টন আনছে মেঘনা গ্রুপ। এসব পেঁয়াজ দেশের বাজারে প্রবেশ করলে দামও কমে আসবে।

x