একাদশে ভর্তি নিয়ে যা জানা প্রয়োজন

রতন বড়ুয়া

বৃহস্পতিবার , ১৩ জুন, ২০১৯ at ৪:৪১ পূর্বাহ্ণ
633

একাদশে ভর্তির প্রথম মেধা তালিকা গত রোববার (৯ জুন) রাতে প্রকাশ করেছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটি। তালিকায় চট্টগ্রামের কলেজগুলোতে ভর্তির জন্য মোট ১ লাখ ৮ হাজার ৫৭৮ জন শিক্ষার্থী চূড়ান্তভাবে মনোনীত হয়েছে। আরো সাড়ে ১৩ হাজার (১৩ হাজার ৫৪৮ জন) শিক্ষার্থীর তালিকায় ঠাঁই হয়নি। মনোনীতদের মাঝে পছন্দের কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়ে আনন্দে উদ্বেলিত কেউ কেউ। আবার কাঙ্ক্ষিত কলেজে সুযোগ না পাওয়ায় হতাশাও ভর করেছে কারো কারো চোখ-মুখে। বাসা থেকে দূরবর্তী কলেজে মনোনয়ন পেয়েও বেকায়দায় কেউ কেউ। প্রত্যাশিত কলেজে সুযোগ না পাওয়া এসব শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের অনেকেই এখন দ্বিধা-দ্বন্দ্বে। মনোনীত হওয়া কলেজে ভর্তির জন্য প্রাথমিক নিশ্চায়ন করা নিয়ে সংশয়ে আছেন তারা। মাইগ্রেশনের প্রক্রিয়া নিয়েও অসপষ্টতায় অনেকেই। আয়মান আলিফ, বিজ্ঞান থেকে জিপিএ-৫ পেলেও প্রত্যাশিত কলেজে মনোনয়ন পায়নি সে। আবেদনে পছন্দক্রমের ৪ নম্বর সিরিয়ালের কলেজটিতে সুযোগ হয়েছে তার। তাও বাসা থেকে বেশ দূরত্বে। এখন ভর্তির প্রাথমিক নিশ্চায়ন করা নিয়ে অনেকটা দোলাচলে আয়মান ও তার পরিবার। আয়মানের মা শিউলি আক্তার বলেন, আমার ছেলে জিপিএ-৫ পেলেও পছন্দের কলেজ পায়নি। তাই নিশ্চায়ন না করে ২য় দফায় আবার আবেদন করার কথা ভাবছি। ২য় দফায় যদি পছন্দের কলেজ পাওয়া যায়, সে আশায়।
তবে ভর্তি প্রক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক এ বিষয়ে অস্পষ্ট ধারণা পোষণ করছেন। ভুল ধারণায় তারা মাইগ্রেশনের সুযোগটিও হারাতে পারেন।
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর জাহেদুল হক বলছেন, মেধা তালিকায় মনোনীত একজন শিক্ষার্থী ভর্তির প্রাথমিক নিশ্চায়ন করলে সর্বোচ্চ ২ বার মাইগ্রেশনের জন্য বিবেচিত হবে। আর এই মাইগ্রেশন হবে অটো বা স্বয়ংক্রিয়। মাইগ্রেশনের জন্য আলাদা আবেদনের প্রয়োজন নেই। তবে আবেদনে দেয়া পছন্দক্রমের উপরের দিকের কলেজগুলোর একটিতে (আসন শূন্য ও যোগ্যতা থাকা সাপেক্ষে) মাইগ্রেশন হবে। আর প্রাপ্ত মোট নম্বর বা যোগ্যতায় পিছিয়ে থাকলে মাইগ্রেশন হবে না। সেক্ষেত্রে মনোনীত কলেজে নিশ্চায়ন বহাল থাকবে। কিন্তু মনোনীত হয়েও প্রাথমিক নিশ্চায়ন না করলে সেক্ষেত্রে ওই শিক্ষার্থী মাইগ্রেশনের জন্য বিবেচিত হবে না। বরং মনোনয়ন বাতিলের পাশাপাশি আবেদনটিও বাতিল হয়ে যাবে। তখন ওই শিক্ষার্থীকে ২য় দফায় ফি দিয়ে আবারো আবেদন করতে হবে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির তথ্য অনুযায়ী- প্রথম তালিকা থেকে প্রাথমিক ভর্তি নিশ্চায়ন শেষেই ২য় দফার আবেদন গ্রহন করা হবে। সেক্ষেত্রে প্রথম সারির কলেজগুলোতে আসন শূন্য থাকার সম্ভাবনা খুবই কম বলছেন বোর্ড সংশ্লিষ্টরা। আর হাতে গোনা ২/১টি আসন থাকলেও তাতে প্রতিযোগিতা হবে তীব্র। যার কারণে প্রথম তালিকায় মনোনয়ন পেয়ে থাকলে প্রাথমিক ভর্তি নিশ্চায়ন করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ বলে জানিয়েছেন ভর্তি প্রক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্টরা। এতে করে অটো মাইগ্রেশনের সুযোগও পাওয়া যেতে পারে। আর যোগ্যতা বা প্রাপ্ত নম্বর স্বল্পতার দরুণ মাইগ্রেশনের সুযোগ না পেলেও মনোনীত কলেজটিতে ভর্তির সুযোগ তো আছেই। তাই সার্বিক দিক বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহনের পরামর্শ দিয়েছেন শিক্ষাবোর্ডের কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর জাহেদুল হক।
উল্লেখ্য, প্রথম মেধা তালিকায় চট্টগ্রামের কলেজগুলোতে ভর্তির জন্য বিজ্ঞানে ২০ হাজার ৬৪০ জন, ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ৩৮ হাজার ৪৩৪ জন এবং মানবিকে সর্বোচ্চ ৪৯ হাজার ৪৯৯ জন শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য মনোনীত হয়েছে। এছাড়া গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিষয়ে ৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য মনোনীত হয়েছে। মনোনীত এসব শিক্ষার্থীকে ১৮ জুনের মধ্যে ভর্তির প্রাথমিক নিশ্চায়ন করতে হবে। আর এই নিশ্চায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে টেলিটক বা মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশ ও শিওর ক্যাশের মাধ্যমে বোর্ডের রেজিস্ট্রেশন ফি বাবদ ১৯৫ টাকা ফি প্রদানের মাধ্যমে। বোর্ডের রেজিস্ট্রেশন বাবদ এ ফি প্রদানের প্রক্রিয়া ভর্তি সংক্রান্ত ওয়েবসাইট (িি.িীরপষধংংধফসরংংরড়হ.মড়া.নফ) এ দেয়া আছে।
নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিশ্চায়ন না করলে ওই শিক্ষার্থীর মনোনয়ন ও আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে। সেক্ষেত্রে ২য় দফায় ফি দিয়ে আবারো আবেদন করতে হবে এসব শিক্ষার্থীকে (মনোনীত হয়েও নিশ্চায়ন না করাদের)। ১৯ ও ২০ জুন (দুই দিন) ২য় দফায় আবেদনের সুযোগ পাওযা যাবে। আর প্রথম তালিকায় ঠাঁই না পাওয়া শিক্ষার্থীদেরও এ সময়ে পুনরায় আবেদন করতে হবে। যদিও তাদের (প্রথম তালিকায় ঠাঁই না পাওয়া শিক্ষার্থীদের) আর আবেদন ফি দিতে হবেনা। আবেদন গ্রহন শেষে ২১ জুন মাইগ্রেশনের ফল ও ২য় দফার তালিকা প্রকাশ করবে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটি।

x