এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য পরামর্শ

মোহাম্মদ ইমদাদুর রহমান

শনিবার , ২১ মার্চ, ২০২০ at ১১:২৯ পূর্বাহ্ণ
149

শুরু হচ্ছে ২০২০ সালের এইচএসসি পরীক্ষা। যে কোন পরীক্ষাই পরীক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি টেনশন। বাড়তি-উত্তেজনা। যেমনই হোক পরীক্ষার হলে স্থির এবং শান্ত থেকে পরীক্ষা দিতে পারলে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসবে। পরীক্ষার আগে বাড়তি টেনশন কখনো ভালো ফল বয়ে নিয়ে আসে না। বরং মানসিক মনোবল ভেঙে যায়। অসুস্থ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই পরীক্ষার আগে পরিবারের উচিত প্রত্যেক পরীক্ষার্থীকে মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখা, অহেতুক চাপ তৈরি না করা। পরীক্ষার্থীদের বুঝতে দিতে হবে পরীক্ষা একটি গতানুগতিক নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। পাবলিক পরীক্ষাকে অন্য আট দশটি পরীক্ষার মতো স্বাভাবিকভাবে নিলে সুফল বয়ে নিয়ে আসবে।
প্রতিটি পরীক্ষার আগের রাত পরীক্ষার্থীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে যেন এমন না হয় পুরো এক বছরের পড়া এই এক রাতেই শেষ করে ফেলতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো একবার ঝালাই করে নেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। অনেক পরীক্ষার্থীকে দেখা যায় পরীক্ষার আগের রাতে ঘুমায় না। রাত জেগে পড়াশোনা করে। এ ধরনের অভ্যাস ভয়াবহ পরিণতি নিয়ে আসতে পারে। পরীক্ষার আগের রাতে পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। যা সকলের পরীক্ষার হলে সতেজতা বাড়িতে দিবে এবং এক ধরনের টনিক হিসেবে কাজ করবে।
পরীক্ষার আগের রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগেই পরীক্ষার হলে নেয়ার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখতে হবে। এক্ষেত্রে প্রবেশপত্র এবং রেজিস্ট্রেশন কার্ড অত্যন্ত জরুরি। একাধিক কলম, পেনসিল, রাবার, ইরেজার, ট্রান্সপারেন্ট ফাইল, স্কেল ইত্যাদি সাথে রাখতে হবে, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর রাখতে হবে। অবশ্যই মনে রাখতে হবে কোন ধরনের অতিরিক্ত কাগজপত্র এবং লিখিত ডকুমেন্ট সাথে রাখা যাবে না। মোবাইল ফোন সম্পূর্ণ নিষেধ। মানি ব্যাগেও কোন ধরনের কাগজপত্র রাখা যাবে না। সুন্দরভাবে চুল ছেটে পরিপাটি হয়ে পরীক্ষার হলে যেতে হবে। পরিপাটি এবং মার্জিত পোশাক নিজের জাত চিনিয়ে দিবে এবং প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি উন্নীত করবে।

পরীক্ষা কেন্দ্রে এবং পরীক্ষার হলে কোন ধরনের অশালীন আচরণ এবং মন্তব্য করা যাবে না। কোন ধরনের গ্রুপিং বা পেশি শক্তির জোর দেখানো যাবে না। পরীক্ষার্থী সুলভ আচরণ প্রদর্শন করতে হবে। প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদেরকে বিদায় অনুষ্ঠানের দিন এ সকল বিষয়ে ব্রিফিং দেয়া অত্যন্ত জরুরি। দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে লা পরীক্ষায় রিদম ধরে রাখা খুব জরুরি। খুব ভালোভাবে পরীক্ষা শুরু করে অনেক পরীক্ষার্থীরা মাঝখানে খেই হারিয়ে ফেলে। সবকিছু সহজভাবে গ্রহণ করে কেন্দ্রের পরিবেশের সাথে নিজেকে মানিতে নিতে পারলেই স্বস্থিদায়ক হবে। গ্রীষ্মের প্রচন্ড দাবদাহে পরীক্ষার্থীদের সুস্থ থাকাটা অত্যন্ত জরুরি। প্রচুর পানি পান করতে হবে। খাবারের ক্ষেত্রে সচেতন হতে হবে।
প্রতিটি পরীক্ষার দিন পরীক্ষাকেন্দ্রে অন্তত এক ঘন্টা আগে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। আধ ঘণ্টা আগে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করতে হবে। এমসিকিউ পরীক্ষা আগে অনুষ্ঠিত হয় এবং সময় থাকে ২৫/৩০ মিনিট। দেরিতে বাসা থেকে বের হলে ঝুঁকির সম্ভাবনা থাকে যানজটের কারণে। এমসিকিউ পরীক্ষায় দেরি হলে মানসিক টেনশনও বেড়ে যাবে। পরবর্তীতে সিকিউ পরীক্ষায়ও তার প্রভাব পড়বে। পরীক্ষার্থীদের মনে রাখতে হবে, এমসিকিউ, সিকিউ এবং ব্যবহারিক পরীক্ষায় আলাদা আলাদা পাশ করতে হবে। বিভিন্ন বিষয়ের প্রথম পত্র এবং দ্বিতীয় পত্রের গ্রেড এবং পাশ নির্ধারণের ক্ষেত্রে এমসিকিউ এমসিকিউকে টানবে এবং সিকিউ সিকিউকে টানবে। জিপিএ বাড়ানোর ক্ষেত্রে ব্যবহারিক পরীক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম।

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হতে আর খুব বেশি সময় বাকী নাই। পরীক্ষার রুটিন অনুযায়ী বিভিন্ন বিষয়ের সর্বশেষ প্রস্তুতির জন্য সময় ভাগ করে নেয়া খুবই জরুরি। পরীক্ষার আগে ভালো বন্ধ আছে এমন বিষয়গুলো আপাতত: বাদ রেখে কম বন্ধ আছে এমন বিষয়গুলোর উপর বেশি গুরুত্ব দেয়া উচিত। বিভিন্ন বিষয়ের বিগত বছরের বোর্ড প্রশ্নগুলোর উপর বেশি জোর দেয়া প্রয়োজন।
সকল উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে খুব ভালো সময় অতিবাহিত করবে এরকম প্রত্যাশা আমাদের সবার। আমরা চাই পরীক্ষার্থীরা ভালো প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষার্থীরা ভালো পারফর্ম করুক। ভালো ফলাফল করে প্রত্যেকে যার যার নিজের প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করুক। সকল পরীক্ষাথীর জন্য রইল শুভকামনা।

লেখক : সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয়
প্রধান (ইংরেজি), বাংলাদেশ নৌবাহিনী
কলেজ চট্টগ্রাম