ঋতুর আনন্দ বাঁশি

নাসের রহমান

রবিবার , ১৪ এপ্রিল, ২০১৯ at ৭:১৭ পূর্বাহ্ণ
77

প্রাজ্ঞ এখন স্কুলে উপরের ক্লাসে উঠেছে। এখনো মায়ের কাছে প্রশ্ন করা শেষ হয়নি। তবে আগের মত আর করে না। ক্লাসে সে ভাল ছাত্রদের কাতারে আছে। রোল নম্বর সাত।স্কুলের প্রথম দশজন ছাত্রের নম্বর খুবই কাছাকাছি। এদের ভিতর কেউ প্রথম হয়ে যায় আবার কেউ দশ নম্বরে চলে যায়। অবশ্য এ স্কুলের ত্রিশ পয়ত্রিশ জন ছেলে খুবই ভাল রেজাল্ট করে। তারা একজন আরেকজনের চেয়ে মেধাবী। গোল্ডেন পাওয়া ছাত্রের সংখ্যাও অনেক। প্রাজ্ঞকে আবার টিচারেরা ভাল করে চেনে।সে সুন্দর আবৃত্তি করতে পারে।জাতীয় দিবসগুলোতে সবাইকে আবৃত্তি করে শোনায়। এর জন্য কয়েকবার পুরস্কারও পেয়েছে। সে মাঝে মধ্যে ক্লাসে প্রশ্ন করে। তবে ছোটবেলার একটা অভ্যাস এখনো পুরোপুরি ছাড়তে পারেনি। যেকোন বিষয়ে মাকে গিয়ে বলে। শিশুকাল থেকে মায়ের কাছে সবকিছু জানতে চাইতো। ঘরে বাইরে যা কিছু দেখতো সবকিছু আবার মা’র কাছে জানতে চাইতো। স্কুলে যতকিছু হতো পড়ালেখা থেকে শুরু করে সবই আবার মায়ের কাছে গিয়ে বলতো।
আজ তার ক্লাসে ছয় ঋতুর বর্ণনা পড়িয়েছে। বাংলার এ টিচারের পড়ায় সবাই মজা পায়। এত সুন্দর করে পড়ান এমনিতে সবার মনোযোগ টিচারের দিকে চলে যায়। সবসময ছাত্রদের আনন্দের মধ্যে রাখতে পারেন। তাই সবাই এ টিচারকে খুবই পছন্দ করে। টিচারের কথা সে খুব মনোযোগ দিয়ে শুনেছে। টিচার ক্লাসে প্রথমে বোর্ডে ছয় ঋতুর নাম লিখেছেন। সবার উপরে গ্রীষ্ম, তারপর বর্ষা, এরপর শরৎ, তার নীচে হেমন্ত, তারপর শীত ও বসন্ত লিখে ছাত্রদের দিকে তাকালেন। ছাত্রদের মুখে মুখে উপর থেকে নীচ পর্যন্ত ছয় ঋতুর নাম একবার পড়ালেন। এরপর একটু থেমে নীচ থেকে ঋতুরাজ বসন্ত নিয়ে বলতে শুরু করলেন।
ফাল্গুন ও চৈত্র এ দু’মাসকে বসন্তকাল বলে। বসন্তকে ঋতুরাজ কেন বলা হয় জান? এ ঋতুতে গাছে গাছে ফুল ফোঁটে, পাখিরা গান গায়। শিমুল, পলাশ আর কৃষ্ণচূড়া ফুলের রঙে প্রকৃতি রঙিন হয়ে ্‌ওঠে। মৃদু মন্দ বাতাস বইতে শুরু করে। শুকনো পাতারা ঝরে পড়ে আবার নতুন পাতা গজায়। কোকিলের কুহু কুহু মন মাতানো ডাক হৃদয় প্রাণ জুড়িয়ে যায়। গাছপালা, লতাপাতা সবকিছু নতুন রূপ নেয়। শীতের জড়তা কেটে প্রকৃতি যেন নবসাজে সাজিয়ে ওঠে। প্রকৃতির এ পরিবর্তনের সাথে মানুষেরাও নতুনভাবে জেগে ওঠে। গরম শীত কোনটাই থাকে না। নাতিশীতোষ্ণ এ ঋতুটি সবার মনে অনাবিল শান্তির পরশ বুলিয়ে দিতে পারে। তাই এ ঋতুকে ঋতুরাজ বসন্ত বলা হয়। তরুণীরা হলুদ রঙের শাড়ি পরে, মাথায় নানা রঙের ফুলের মালা জড়িয়ে অনুষ্ঠানে যোগ দেয়। তরুনেরা এ ঋতুকে বরণ করে নিতে নানা আয়োজনে মেতে উঠে। শুধু তরণ তরুণীরা নয়, অন্যরাও এ ঋতুতে বসন্তের আমেজ অনুভব করে।
এসব শুনে প্রাজ্ঞের মাথায় অনেক প্রশ্ন জাগে। কিন্তু এখন কিছু জানতে চাইলে টিচার রাগ করতে পারেন ভেবে চুপচাপ বসে থাকে। টিচার এক ঋতুর কথা শেষ করে আরেক ঋতুর বর্ণনা শুরু করেন।
নিশ্চয় তোমরা জান পৌষ মাঘ দু’মাস শীত কাল। এরপর টিচার শীতের কাছে চলে আসেন। সবার কাছে জানতে চান, শীত কেমন লাগে? কেউ বলে, খুব ভাল লাগে। আবার কেউ কেউ বলে, শীতের সময় খুব শীত লাগে। অনেক সময় চারিদিক কুয়াশায় ঢাকা পড়ে। অনেকে বলে শীতে মজার মজার পিঠা খাওয়া যায়। নতুন নতুন শাকসবজি পাওয়া যায়। টিচার অবাক হয়ে ছাত্রদের কথা শোনে। এবার টিচার বলেন, আসলে তোমরা অনেক কিছু জানো। শীতের সময় আমাদের দেশে ফসল ঘরে তোলা হয়। পৌষ মাসে এজন্য নবান্ন উৎসব হয়। ঘরে ঘরে পিঠা তৈরী হয়। মিষ্টি মধুর খেজুরের রস পাওয়া যায়। পাড়ায় পাড়ায় পিঠার ধুম পড়ে যায়। নতুন ধানের গন্ধে ভরে ওঠে চারিদিক। নতুন চালের ফিরনি করে সবাইকে খাওয়ায়। শীতে যাদের গরম কাপড় নেই , তারা শীতে খুব কষ্ট পায়। তখন প্রাজ্ঞ দাঁড়িয়ে বলে, প্রতিবছর শীতের সময় আমরা গরম কাপড় বিতরণ করি। টিচার বলেন, এটা খুবই ভাল কাজ। এবার অন্যদের কাছে জানতে চান তোমরা কি প্রতিবছর গরম কাপড় বিতরণ কর? অনেকে হাত তুলে জবাব দেয় , জ্বি স্যার, আমরাও শীতের সময় কাপড় দিয়ে থাকি। টিচার ছাত্রদের দিকে তাকিয়ে বলেন , তোমাদের সামান্য সাহায্য ওদের শীতের কষ্ট থেকে বাঁচাতে পারে।
এরপর হেমন্তের চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে টিচার বলেন , এ ঋতুটা অনেকের অজান্তে নীরবে নি:শব্দে চলে যায়। আমরা টের পাইনা হেমন্ত কখন এলো আবার কখন চলে গেলো। আকাশের কোথাও একখন্ড মেঘ থাকে না। নির্মল আকাশটা আলো জ্বলমল রোদে ভাসতে থাকে। কার্তিক মাস কিছুটা অভাব অনটনের মাস। কৃষকের গোলায় ধান ফুরিয়ে আসে। তবে এখন আর আগের মত অভাব থাকে না। মানুষের অনেক স্বাচ্ছন্দ এসেছে। এরপর আসে অগ্রহায়ণ। এ মাসে সবুজ আর সবুজ থাকে না। সবুজ ফসলের মাঠ সোনালী ধানে ধানে ভরে যায়। কৃষকের মুখেও হাসি ফুটে ওঠে।
এবার শরৎ আসে স্নিগ্ধতার পরশ নিয়ে। বিলে ঝিলে শাপলা শালুক আর পদ্ম ফুল ফোটে। শরৎ এ অনেক ফুল ফোটে, প্রকৃতি একেবারে শান্ত থাকে। আকাশে সাদা মেঘের ভেলা ভেসে বেড়ায়। দিগন্তজুড়ে কাশফুলের মেলা বসে। পথের দু’ধারে শিউলি বকুলের সাদা পাপড়ি আর ঘাসের ডগায় জমে থাকে শিশির কনা সূর্যের আলোতে ঝলমল করে ওঠে। সকালের স্নিগ্ধ রুপ যেন সবাইকে মুগ্ধ করে তোলে। ভাদ্র মাসে খুব কড়া রোদ ্‌ওঠে । এ সময়ে তাল পাকে। টিচার জানতে চান, তালের পিঠা খেতে তোমাদের কেমন লাগে ? সবাই একসাথে বলে, খুব মজা লাগে । আশ্বিনে ধান গাছের সবুজ পাতার ভিতর থেকে শীষ বের হয়। সবুজ ধানের শীষে মাঠ ভরে যায়। তখন কৃষকের মনটাও খুশিতে ভরে ওঠে।
বর্ষার অপরূপ সৌন্দর্যের বর্ণনা দিতে গিয়ে টিচার আবার ছাত্রদের প্রশ্ন করেন,বর্ষায় বৃষ্টিতে ভিজতে তোমাদের কেমন লাগে ? এরা স্বমস্বরে বলে, খুব ভাল লাগে। বৃষ্টির টুপুর টাপুর শব্দে মনটা ভরে যায়। এরা বলে বর্ষায় আবিরাম বৃষ্টি হয়। গাছপালা, বনবনানী, প্রকৃতি বৃষ্টির ছোঁয়ায় আবার সতেজ হয়ে ওঠে। নতুন পাতায় গাছপালা ভরে ওঠে, চারিদিকে সবুজে সবুজে ভরে যায়। শ্রাবণের বৃষ্টি সহজে থামে না। টানা বৃষ্টি হতে থাকে । অঝোর ধারায় বৃষ্টি নামে। এতে খাল বিল পানিতে ভরে গিয়ে রাস্তাঘাটও ডুবে যায়। নৌকা ছাড়া এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়া যায়না। এতে মানুষের সামযিক অসুবিধা হলেও জমিতে পলি জমে মাটির উর্বরা শক্তি বেড়ে যায়। বৃষ্টির পানিতে প্রকৃতি যেন ধুঁয়ে মুছে তকতকে ঝকঝকে হয়ে যায়। এসময় কৃষকেরা জমিতে বীজ বোনে। মাঠে মাঠে ফসলের নতুন চারা বপন করে।এ ঋতুতে জুঁই, চাপা আর কদম ফুল ফোটে। বড় বড় সবুজ পাতার ভিতর থোকা থোকা কদম ফুল প্রথম বৃষ্টির ছোঁয়ায় যেন অপরূপ হয়ে ফুটে ওঠে।
গ্রীষ্মের শুষ্কতা আর রুক্ষতার কথা বলতে গিয়ে টিচারের চেহারাটা কেমন যেন হয়ে যায়। যেন অসহ্য গরমে তিনি ঘেমে যাচ্ছেন। তীব্র তাপদাহে মাঠ,ঘাট, খাল,বিল খা খা করে। বিলে পানি থাকে না। বিল শুকিয়ে চৌচির হয়ে যায়। খালও পুকুরের পানি শুকিয়ে তলায় নেমে আসে। পাখিরা পানির জন্য ছটফট করে । এবার তিনি শুনতে চান কোন কোন মাসে গ্রীষ্ম ঋতু । সবাই একসাথে বলে উঠে, বৈশাখ জ্যৈষ্ঠ। এ দু’টি মাস আমাদের খুব প্রিয়, তাই না? জি স্যার। কেন প্রিয় বলতে পারো? একজন বলে জৈষ্ঠ্য মাসে অনেক ফল পাকে। হ্যাঁ, ঠিকই বলেছো। এ মাসকে মধু মাস বলে। গরম বাড়লেও গাছের ফল সব পাকতে শুরু করে। আম,জাম, কাঠাল,লিচ,তরমুজ , আনারস আরও অনেক মৌসুমী ফল পাওয়া যায়। পাকা ফলের মৌ মৌ গন্ধে চারিদিকে ভরে যায়। এসব রসালো ফল এ মাসে পাওয়া যায়। খুব মজা করে খাওয়া হয়। মিষ্টি মধুর ফল খেলে গরমকে যেন আর গরম মনে হয় না। সত্যি সত্যি টিচার যেন আর গরম অনুভব করেন না। ছাত্ররাও যেন পাকা ফলের মৌ মৌ গন্ধ খুঁজে পায়।
এবার বলো বৈশাখ মাস তোমাদের কেমন লাগে? এরা সবাই একসাথে শব্দ করে বলে, খুবই ভাল। বৈশাখ বাংলা সনের প্রথম মাস। এ মাসে সবাই নানা আয়োজনে মেতে ্‌ওঠে। পহেলা বৈশাখ প্রাণের উৎসবে পরিণত হয়েছে। কেউ এদিন ঘরে বসে থাকে না। কোন না কোন মেলা পার্বণে যেতে চায়। কোথাও যেতে না পারলে বাইরে গিয়ে কিছুক্ষণ ঘুরাঘুরি করে আসে।অনেকে বৈশাখের পোশাক পরে। সাদার উপরে নানারকম কারুকাজ করা । এসব পোশাকে খুব প্রানবন্ত দেখায়। ছাত্ররা যেন মুগ্ধ হয়ে ্‌শোনে। শিশু কিশোর, তরুণ তরুণী অন্যরাও সবাই বৈশাখের উৎসবে প্রাণ খুলে হেঁটে চলে। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান, সব ধর্মের নারী পুরুষ বৈশাখের উৎসবে মেতে ্‌ওঠে। ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মেলায় যায়। বাঁশির সুরে সুরে মনটা ভরে যায়। নানারকম বাদ্যযন্ত্র আর ঢোলের আওয়াজ চারিদিক মুখরিত করে তোলে। কোথাও কবিতা আর গানের আসর বসে , আবার কোথাও জিনিস পত্রের পসরা সাজিয়ে মেলা বসে যায়। মেলায় মেলায় ভরে ্‌ওঠে পথ প্রান্তর। নানা ধরনের শোভা যাত্রা বের হয়। বিচিত্র রঙের মুখোশ নিয়ে একদল বাজনার তালে তালে এগিয়ে যায়। ছেলে মেয়েদের নাচে গানে আনন্দ ফুর্তিতে ভরে যায় সবকিছু। বৈশাখের এরকম মন মাতানো উৎসবে কেউ যোগ না দিয়ে থাকতে পারে না। এ উৎসবের মধ্যে দিয়ে সারা বৎসরের শক্তি সঞ্চয় করে। এ পহেলা বৈশাখ নিয়ে যায় আগামী দিনের স্বপ্নের ঠিকানায়, সম্প্রতির অপূর্ব সুন্দর মিলন মেলায়। তবে এ মাসে কখনো কখনো হঠাৎ কাল বৈশাখীর ঝড় শুরু হয়। ঝড়ের তান্ডবে গাছপালা, ঘরবাড়ি অনেককিছু ওলটপালট করে দেয়। এটাও যেন প্রকৃতির একধরনের খেলা। তখন ঘন্টা বেজে ওঠে।
টিচার ক্লাস শেষে বের হয়ে যায়। প্রাজ্ঞ আর প্রশ্ন করতে পারে না। অবশ্য এখানে প্রশ্নও করার তেমন কিছু নেই। তবু সে কিছু কিছু প্রশ্ন মায়ের কাছে করবে বলে ঠিক করে রাখে। এতক্ষণ ছাত্ররা সবাই অবাক হয়ে শোনে । পহেলা বৈশাখের কথাগুলো অনেকের সাথে মিলে যায়। তবে প্রাজ্ঞের সাথে একেবারে মিলে গিয়েছে। এ দিনটিতে সে বাবা মার সাথে বাইরে যায়। বৈশাখের উৎসবে অংশ নেয়। অনেক আনন্দে কাটে এ দিনটি । মেলা থেকে মুড়ি, মুড়কি, বাতাসা নেয়। নানারকম খেলনা ,বেলুন, বাঁশি, মুখোশ কিনে নিয়ে আসে। বাঁশির সুরটা তার খুব ভাল লাগে। মেলায় বাঁশিওয়ালা কিভাবে বাঁশি বাজায় সে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখে। এ সুরটা সে মন দিয়ে শুনে। রং বেরঙয়ের বাঁশিটা হাতে নিয়ে ভাল করে দেখে। ঠোঁটে লাগিয়ে ফু দিয়ে বাজাতে চেষ্টা করে। তখন বুঝতে পারে এ ফুয়ের উপর বাঁশির সুর উঠানামা করে। এ ফু’টা লম্বা করতে পারলে সুর উঠে আসবে। সে টেনে টেনে ফু’টাকে লম্বা করতে চেষ্টা করে। এক সময়ে একটা সুর যেন তার কানে বাজে। সে এটাকে নিজের ভেতর আনতে চেষ্টা করে। ধীরে ধীরে সুরটাকে টেনে লম্বা করতে থাকে। নি:শ্বাসের উঠানামা করতে পারে । এতে বাঁশিতে অন্যরকম এক সুর তুলতে পারে। বাঁশির এ সুরটা ধরে রাখতে চায়।
মুখোশ পরে সে আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। আয়নার ভেতর তার মতো ছেলেটিকে সে কিল ঘুষি মারতে চায়। কিছুক্ষণ এসবের অনুশীলন করে। ঘরের ভিতর বেলুন উড়াতে চেষ্টা করে। বেলুন একটু উপরে উঠে ছাদে লেগে আবার নীচে নেমে আসে। ঘরের মেঝেতে এঘর থেকে ওঘরে ব্যাটারী চালিত গাড়িটা চলতে থাকে। কোথাও বাধা পেলে ঘুরিয়ে আবার চলতে শুরু করে। এসবে তার সময় কাটে ভালো কিন্তু মন ভরে না। কখনো বাঁশিতে সুর না তুলে সে থাকতে পারে না। তার মনটা যেন থেমে থাকে। কি যেন করে নাই এমন মনে হয়। মনটা হালকা করতে পারে না। তাই প্রতিদিন একবার জানালার পাশে বসে বাঁশিতে ফু দিয়ে বাইরের দিকে তাকায়। অপূর্ব সুন্দর এক সুর বাঁশিতে ভেসে ্‌ওঠে। ধীরে ধীরে মনটাকে বিভোর করে তোলে। মা ভেতরের ঘরে কাজের ফাঁকে ফাঁকে বাঁশি শুনে মুগ্ধ হয়। কখনো ছেলের পেছনে এসে দাঁড়ায়। কিছুক্ষণ বাঁশি শোনার পর মায়ের চোখ দু’টি বাঁশির সুরে বিমূর্ত হয়ে ওঠে। তখন ছেলের আনন্দের সীমা থাকে না।

x