উপবৃত্তি বন্ধ কেন

সোমবার , ৪ নভেম্বর, ২০১৯ at ৯:৫৭ পূর্বাহ্ণ
66

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের গাফিলতির কারণে শিক্ষায় উপবৃত্তি বিতরণে ‘হযবরল’ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। তিন বছর ধরে একটি প্রকল্পের অধীনে ২৫০টি উপজেলায় উপবৃত্তি বিতরণ বন্ধ রয়েছে। প্রকল্প কর্মকর্তার অদক্ষতায় অপর এক প্রকল্পের আওতায় ১৮৭টি উপজেলায় গত বছরের উপবৃত্তি বিতরণ করা সম্ভব হয় নি। এর ফলে দেশের প্রায় অর্ধেক অংশে অসচ্ছল পরিবারের প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থী লেখাপড়া করতে হিমশিম খাচ্ছে। উপবৃত্তি কার্যক্রমের বেহাল অবস্থা জেনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খোদ শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তিনি অতি সম্প্রতি রাজধানীর সেগুন বাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে দুটি উপবৃত্তি প্রকল্পের কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন। পত্রিকান্তরে গত ৩০ অক্টোবর এ খবর প্রকাশিত হয়। খবরে আরো বলা হয়, জানা গেছে, সেকেন্ডারি এডুকেশন কোয়ালিটি অ্যান্ড অ্যাকসেস এনহান্সমেন্ট প্রজেক্টের (সেকায়েপ) মাধ্যমে ২৫০টি উপজেলায় উপবৃত্তি দেওয়া হতো। ২০১৯ সালের জুনে প্রজেক্টটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী উপবৃত্তির কার্যক্রম চালু রাখতে বলেছিলেন। কিন্তু আমলাদের ফাইল চালাচালিতেই আটক আছে সে নির্দেশ।
অসচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ করার লক্ষ্যেই মূলত উপবৃত্তি দেওয়া হয়। উপবৃত্তি দেওয়ার সুফলও পাওয়া গেছে। শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে ঝরে পড়ার হার কমেছে। তবে বছরের পর বছর উপবৃত্তি দেওয়া বন্ধ থাকলে ঝরে পড়ার হার বেড়ে যেতে পারে। অনেক অভিভাবকের পক্ষেই সন্তানের শিক্ষার ব্যয়ভার বহন করা দুঃসাধ্য। উপবৃত্তি বঞ্চিত এলাকার শিক্ষার্থীদের অবস্থা সঙ্গীন হয়ে পড়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, উপবৃত্তি বন্ধ থাকায় অনেক শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে।
আমাদের জিজ্ঞাসা, শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার এ দায় কার? যেসব আমলার কারণে লাখ লাখ শিক্ষার্থীর লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে, অনেক শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে ঝরে পড়েছে, সেসব আমলাদের জবাবদিহি আদায় করা অত্যবশ্যক। আমলাদের গাফিলতিতে কেবল ক্ষোভ প্রকাশ করাই যথেষ্ট নয়। এক শ্রেণির আমলা শিক্ষা খাতকে জিম্মি করে রেখেছে। সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের (এসইডিপি) মাধ্যমে উপবৃত্তিসহ সব প্রকল্পকে এক ছাতার নিচে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এ সুযোগে এক শ্রেণির আমলা হরিলুটের আয়োজন করেছে। কোন প্রকল্পের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতিসহ স্বজনপ্রীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। কিন্তু কোন সুরাহা হয় নি। আমলারা এমনিতেই অনিয়ম দুর্নীতির ব্যাপারে বেপরোয়া। কোন কিছুর তোয়াক্কা করে না। বর্তমানে সরকারি চাকরি আইন হওয়াতে তাদের অনিয়ম-দুর্নীতির গতি আরো বাড়তে থাকবে। যখন আমলাদের কাজে স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে তখন সরকার তাদের আইন করে রক্ষা করছে। দেশে শুদ্ধি অভিযান চলছে। এ অভিযানে অনেক জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু একজন আমলার বিরুদ্ধেও কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় নি যাচ্ছে না। তারা বহাল তবিয়তেই আছেন। দেশের সাধারণ নিরীহ মানুষের পক্ষ হয়ে আমরা চাই, আমলাদের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম দুর্নীতির সব অভিযোগের সুরাহা হোক্‌। তাদের কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হোক্‌। আমলাদের কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনা না গেলে দেশে সুশাসন কোন দিনই আসবে না, প্রতিষ্ঠা পাবে না। এজন্য আমলাদের রক্ষাকবচ হিসেবে পরিচিত সরকারি চাকরি আইন সংশোধন করা জরুরি।
যেসব উপজেলায় উপবৃত্তি বিতরণ বন্ধ রয়েছে, সেসব উপজেলায় সেটি জরুরি ভিত্তিতে চালু করতে হবে। উপবৃত্তির অভাবে একজন শিক্ষার্থীও যেন ঝরে না পড়ে তা সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে।

x