উন্নয়নে ঋণ: চীনের প্রতিশ্রুতি বড়, প্রাপ্তি নগন্য

মঙ্গলবার , ৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ at ৫:১৪ পূর্বাহ্ণ
53

তিন বছর আগে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সফরের সময় বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য দুই হাজার কোটি টাকার যে ঋণ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা থেকে প্রাপ্তি একেবারেই নগণ্য। যেসব প্রকল্পে ওই ঋণ দেওয়ার জন্য চুক্তি করা হয়েছিল, সেগুলো চার বছরের মধ্যে বাস্তবায়নের ভাবনা থাকলেও তিন বছরে মোট প্রতিশ্রুত ঋণের মাত্র পাঁচ শতাংশ ছাড় করেছে চীন। ২০১৬ সালে চীনা প্রেসিডেন্ট ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে ২ হাজার ৫৩ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি হয়েছিল। ২০২০ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য ২৭টি উন্নয়ন প্রকল্পে এসব অর্থ ব্যয় হওয়ার কথা ছিল।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবর পর্যন্ত এসব প্রকল্পের মধ্যে চূড়ান্ত ঋণ চুক্তি সই হয়েছে মাত্র ছয়টি প্রকল্পে, যার অধীনে মাত্র ১০৬ কোটি ৭৭ লাখ ডলার ছাড় করেছে চীন। এছাড়া ২৭ প্রকল্পের অন্যতম ‘ঢাকা-সিলেট চারলেনে উন্নীতকরণ’ প্রকল্পটিকে চীনের অর্থায়নের পরিকল্পনা থেকে বের করে সরকার এডিবির অর্থায়নে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় এখন চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে ২০টি প্রকল্প। খবর বিডিনিউজের।
২০১৬ সালে ১৪ অক্টোবর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে ঢাকায় চীনের সঙ্গে ২ হাজার ৫৩ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি হয়।
২০১৬ সালে ১৪ অক্টোবর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে ঢাকায় চীনের সঙ্গে ২ হাজার ৫৩ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি হয়।
দ্রুত চূড়ান্ত চুক্তি সই হবে এমন প্রত্যাশা থেকে এসব প্রকল্পের মধ্যে পাঁচটি প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় সমপ্রতি অনুমোদন পেলেও চুক্তি না হওয়ায় অর্থ সংকটে বাস্তবায়ন শুরু করা যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে এসব প্রকল্পের ঋণের অর্থ ছাড়ে ধীরগতির বিষয়টি নিয়ে সুরাহার জন্য সোমবার ঢাকায় বৈঠকে বসেছে দুই দেশের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ (জেডব্লিউজি)।
যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকের বিষয়ে নিশ্চিত করলেও আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে কিছু জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী ইআরডির যুগ্ম সচিব শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী।
তবে ইআরডির সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, চীনের সঙ্গে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এখনো চূড়ান্ত চুক্তির অপেক্ষায় থাকা প্রকল্পগুলোর চুক্তি এবং অর্থছাড়ের গতি বাড়ানোর প্রস্তাব থাকবে।
‘আর চীনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে জমি অধিগ্রহণ ব্যবস্থা আরও সহজীকরণ, বাংলাদেশে চীনা ব্যবসায়ীদের জন্য বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এবং চীনা নাগরিকদের জন্য নিরাপত্তার বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচনায় স্থান পাবে।’
এখন পর্যন্ত ছাড় হওয়া ১০৬ কোটি ৭৭ লাখ ডলারের মধ্যে পদ্মাসেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের জন্য ৫৩ কোটি ৩৫ লাখ ডলার, ইনফো সরকার (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্পের জন্য ৯৭ কোটি ২৫ লাখ আরএমবি (চীনা মুদ্রা), কর্ণফুলী নদীতে টানেল নির্মাণ প্রকল্পের জন্য ১৭৩ কোটি ৩৩ লাখ আরএমবি, মহেশখালী থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত জ্বালানি তেলের পাইপলাইন ও মুরিং স্থাপন প্রকল্পের জন্য ৫৬ কোটি ৯৬ লাখ আরএমবি এবং মডার্নাইজেশন অব টেলিকম্যুনিকেশন নেটওয়ার্ক ফর ডিজিটাল কানেক্টিভিটি প্রকল্পের জন্য ২২ কোটি ৪৯ লাখ আরএমবি ছাড় হয়েছে। তবে চলতি বছরের ৭ এপ্রিল চুক্তি হওয়া এক্সপানশন অ্যান্ড স্ট্রেংদেনিং অব পাওয়ার সিস্টেম নেটওয়ার্ক আন্ডার ডিপিডিসি প্রকল্পটির চুক্তি সম্পাদিত হলেও এখনো কোনও অর্থ ছাড় হয়নি। এর মধ্যেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চূড়ান্ত ঋণ চুক্তির আশায় একনেকের অনুমোদন পাওয়া পাঁচটি প্রকল্পের রেল খাতের দুটি বড় প্রকল্প রয়েছে, যার মধ্যে জয়দেবপুর থেকে ঈশ্বরদী পর্যন্ত ডুয়েল গেজ ডাবল লাইন নির্মাণ প্রকল্পটি গত বছর ৫ নভেম্বর অনুমোদন করেছে একনেক।
এই প্রকল্পের মোট ব্যয় ১৪ হাজার ২৫০ কোটি ৬১ লাখ টাকার মধ্যে প্রায় ৮ হাজার ৮৫৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা (১০৪ কোটি ৫৫ লাখ ডলার) চীনের দেওয়ার কথা। আর সিলেট থেকে আখাউড়া পর্যন্ত ২৩৯ কিলোমিটার মিটারগেজ রেল লাইনকে ডুয়েল গেজে রূপান্তরের প্রকল্পটি এ বছরের ৯ এপ্রিল অনুমোদন পায়। ১৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পে ১০ হাজার ৭৮২ কোটি ৬০ লাখ টাকা (১২৭ কোটি ২৯ লাখ ডলার) চীনের দেওয়ার কথা। বাকি প্রকল্পগুলোর মধ্যে- রাজশাহী ওয়াসা ওয়াটার ট্রিটম্যান্ট প্ল্যান্ট প্রকল্পে ২৭ কোটি ৬২ লাখ ডলার, পাওয়ার গ্রিড নেটওয়ার্ক স্ট্রেংদেনিং প্রজেক্ট আন্ডার পিজিসিবি প্রকল্পে ৯৭ কোটি ডলার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের জন্য ৬টি সম্পূর্ণ টিভি স্টেশন স্থাপন প্রকল্পে ১২ কোটি ৫১ লাখ ডলার চীনের দেওয়ার কথা। রেলের দুই প্রকল্পের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক খোন্দকার শহিদুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা ইআরডির মাধ্যমে চীনা কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়ে অর্থ ছাড়ের অনুরোধ জানিয়েছি।তাতে কোনো কাজ হয়নি।”

x