উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে

বুধবার , ৪ মার্চ, ২০২০ at ৫:১১ পূর্বাহ্ণ
63

দারিদ্র্য বিমোচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। দারিদ্র্য বিমোচনকে সাধারণ জনগণের মধ্যে প্রভাবিত করতে হরেক রকম সামাজিক কর্মসূচিও সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। অবকাঠামো উন্নয়নে বৃহৎ কর্মপরিকল্পনায় সরকারি-বেসরকারি উভয় খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি দেশের সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রাকে বেগবান করবে, যার সরাসরি অংশীদার হবে সাধারণ জনগোষ্ঠী। তাদের ভাগ্যোন্নয়নে নতুন নতুন মহাপরিকল্পনায় দেশকে আরও শক্তিশালী করতে দারিদ্র্যের মতো অভিশাপকে মুছে ফেলার প্রত্যয়ে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
২০১৬ সাল থেকে শুরু হওয়া টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা ‘সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল-এসডিজি’ বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। এসডিজি-তে মোট ১৭টি লক্ষ্যমাত্রা ও ১৬৯টি টার্গেট বা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অন্তর্ভুক্ত। এসডিজির লক্ষ্যমাত্রাগুলো খুবই দর্শনভিত্তিক। এতে মানুষের স্বাধীনতা, সাম্য ও মানবাধিকারের কথা বলা হয়েছে। একইসঙ্গে দেশ ও দেশের অভ্যন্তরে মানুষে মানুষে সাম্য, ন্যায়বিচার, আইনের শাসন ও সহমর্মিতার কথাও বলা আছে। কাউকে বাদ না দিয়ে সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করে এগিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। এটা করতে হলে দারিদ্র্য বিলোপ করা অত্যন্ত জরুরি। ফলে এসডিজির এক নম্বর লক্ষ্যই হলো সব ধরনের দারিদ্র্য বিলোপ করা। এতে অতিদারিদ্র্যসহ বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের কথা বলা হয়েছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে অতিদারিদ্র্য নির্মূল করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
দারিদ্র্য বিলোপ, বিশেষত অতি দারিদ্র্য বিলোপকে একটি অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। এ বিষয়ে সফলতাও কম নয়। চলতি মাসে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুসারে দেশে এখন অতি দারিদ্র্যের হার ১১ দশমিক ৩ শতাংশ এবং দারিদ্র্যের হার ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ। অতি দারিদ্র্যের হার বিশ্ব গড় দারিদ্র্য হারের নিচে রয়েছে। মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির বর্তমান হার অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালের আগেই দারিদ্র্য হার শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে বলে আশা করছেন অনেক বিশ্লেষক। উল্লেখ্য, অতি দারিদ্র্যের হার ৩ শতাংশের কম হলেই তা শূন্য দারিদ্র্য হিসেবে ধরা হয়। এ পরিস্থিতিতে, অতি দারিদ্র্য বিলোপে সরকারের গৃহীত ‘সমন্বিত সঞ্চয় সংগ্রহ ও ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ কর্মসূচি’ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-‘এসডিজির’ দারিদ্র্য নির্মূল লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক হতে পারে বলে অর্থনীতি বিশ্লেষকরা ধারণা করেন।
বাংলাদেশে দরিদ্রের সংখ্যা ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। শেখ হাসিনা সরকারের গত ১০ বছরে নেওয়া নানা উদ্যোগ আর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকায় দারিদ্র্য বিমোচন ঘটছে দ্রুত। বিশ্বের সামনে দারিদ্র্য হ্রাসে বাংলাদেশ যে এক অনুকরণীয় অবস্থানে পৌঁছেছে, তার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান করেছে বহুমাত্রিক সংস্থা বিশ্বব্যাংক। তারা বলছে, বিশ্বের অন্য উন্নয়নশীল দেশের উচিত কীভাবে দারিদ্র্য দূর করতে হয়, তা বাংলাদেশের কাছ থেকে শেখা। টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে দেশটি অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের কাছে অনুকরণীয় হতে পারে। বাংলাদেশের এই ‘উন্নয়ন বিস্ময়’ জাতিসংঘকেও বিস্মিত করেছে। সরকারের উন্নয়নে দেশের দারিদ্র্যের হার কমছে প্রতিনিয়ত। হিসাব অনুযায়ী ২০১৮ সালে দেশে চূড়ান্ত দারিদ্রের হার ২১ দশমিক ৮ শতাংশ এবং হতদরিদ্র্যের হার ১১ দশমিক ৩ শতাংশ। ২০০৫ সালে যেখানে দারিদ্র্যের হার ছিল ৪০ শতাংশ, ২০১৬ সালে তা কমে দাঁড়ায় ২৪ দশমিক ৩ শতাংশে।
এ কথা অনস্বীকার্য যে, বাংলাদেশের মানুষ অপরিসীম ক্ষমতার অধিকারী। অপরিসীম তাদের ধৈর্য, সৃজনশীলতা এবং সংগ্রাম করার মনোবল ও উদ্যম। আমরা বিশ্বাস করি বাংলাদেশ এগিয়ে যাবেই, কেউ আমাদের আটকাতে পারবে না। বাংলাদেশকে নিয়ে আমরা স্বপ্ন দেখি। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে।
বিশ্বের বহু দেশের চেয়ে নিম্ন আয় সত্ত্বেও বাংলাদেশ দারিদ্র্য হ্রাসে বেশ সাফল্য অর্জন করেছে। বাংলাদেশে এখন হতদরিদ্র তারাই যাদের দৈনিক আয় ১৪৮ টাকার কম। বাংলাদেশ এখন যে হারে জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে, তাতে ২০৩০ সাল নাগাদ হতদরিদ্রের হার তিন শতাংশের কাছাকাছি দাঁড়াবে। বর্তমান সরকার অসাধ্য সাধন করার কাজটি সূচারুরূপে পালন করায় দারিদ্র্য মুক্তির পথে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। দারিদ্র্য হ্রাসের এই ধারাবাহিকতাকে এগিয়ে নিতে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন ধারায় জনগণকে সম্পৃক্ত হতে হবে। তাদের যতই সম্পৃক্ত করা যায, ততই মঙ্গল।