উন্নতির কথা সাধারণ মানুষকেই বলতে হবে

সোমবার , ১৫ জুলাই, ২০১৯ at ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ
18

সরকার দেশকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করছে। সর্বক্ষেত্রে ডিজিটালাইজেশনসহ দেশ মধ্যম আয়ের দেশে উপনীত হওয়ার কাছাকাছি পৌঁছেছেন বলে আত্মপ্রসাদ লাভ করছে। দেশের এমন উন্নতির কথা শুনতে কার না ভাল লাগবে? শুনতেও কল্পনা করতেই সবারই ভাল লাগার কথা। তবে এসব কথার বিপরীত চিত্র যখন পত্র-পত্রিকাগুলো তথ্য-উপাত্ত ও অর্থনীতিবিদদের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তুলে ধরে তখন ধাঁধায় পড়ে যেতে হয়। এক ধরনের কনফিউশন সৃষ্টি হয়। প্রশ্ন জাগে তাহলে কার কথা ঠিক? সরকারের নাকি তথ্য-উপাত্ত ও অর্থনীতিবিদদের? দেশের অর্থনীতির চিত্র নিয়ে পর পর বেশ কয়েকটি পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সেখান থেকে যে চিত্র পাওয়া যাচ্ছে তা হচ্ছে দেশের অর্থনীতিতে মন্দা দেখা দিয়েছে, এক ধরণের স্থবিরতা বিরাজ করছে। অর্থনীতির গতি কমছে। বিনিয়োগ স্তিমিত। দেশি বিনিয়োগকারীরা বসে আছেন হাত গুটিয়ে। ব্যাংক এক লাখ কোটি অলস টাকা নিয়ে বসে আছে। শিল্পোদ্যোক্তারা ঋণ নিচ্ছেন না। দেশে নতুন বিনিয়োগ হচ্ছে না। বিদেশি বিনিয়োগ দিন দিন কমছে, নতুন বিদেশি বিনিয়োগ গত ৫/৬ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। সেই সঙ্গে অর্থনীতির জোর কমছে। দেশের অর্থনীতির যে বাস্তব চিত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, তা অর্থনীতির ঊর্ধ্বমুখী হওয়া নিয়ে সরকারের কথার একেবারেই বিপরীত। তাহলে সরকার যে উন্নতির কথা বলছে তা কোন ধরনের উন্নতি? বাংলাদেশের উন্নতি হচ্ছে একথা কেবল সরকার বললে হবে না। সাধারণ মানুষও যাতে বলতে পারে, এ ব্যবস্থা ও পদক্ষেপ গ্রহণ করা সরকারের দায়িত্ব। সাধারণ মানুষ যদি বলে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ বাস্তবায়নে যে ধরনের উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন তা যথাযথভাবে না নেয়ার কারণেই অর্থনীতি ক্ষেত্রে সুনীতির তীব্র সংকট রয়েছে। এ সংকট বছরের পর চলতে থাকলে বাংলাদেশের উন্নতি ঐ নির্দিষ্ট একটি গন্ডিতেই আবদ্ধ হয়ে থাকবে। অর্থনীতির কাঙ্ক্ষিত উন্নতি না করে একটা সময় যদি বলা হয় আমরা মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হয়েছি। তাহলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
– এম. এ. গফুর, বলুয়ার দীঘির দক্ষিণ-পশ্চিম পাড়, কোরবাণীগঞ্জ, চট্টগ্রাম।

x