উদ্যোক্তা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছেন ইউনুছ

এম এস আকাশ : ফটিকছড়ি

সোমবার , ২ ডিসেম্বর, ২০১৯ at ৮:৫৪ পূর্বাহ্ণ

বন বিভাগে চাকরি করেন মো. ইউনুছ। সবুজ ও মিষ্টি মাল্টা চাষে সৃষ্টি করেছেন নতুন নতুন কৃষি উদ্যোক্তা এবং কর্মসংস্থান। তার দেখানো পদ্ধতি ও সহায়তায় শতাধিক মাল্টা বাগান তৈরি হয়েছে ফটিকছড়ি জুড়ে। ইতিমধ্যে ইউনুছ মাল্টা চাষের জন্য উপজেলা পর্যায়ে উদ্যোক্তা ও সফল চাষীর পুরষ্কার পেয়েছেন। জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ পুরস্কারের জন্য একাধিকবার মনোনীতও হয়েছেন। তিনি ফটিকছড়ি উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নের নিচিন্তা গ্রামের বাসিন্দা। সরেজমিনে পরিদর্শনে জানা যায়, ২০১৩ সালে বাড়ির পাশে হেয়াকোঁ-চট্টগ্রাম সড়কের পাশে পাহাড়ি ছড়ার পাশ ঘেষে মাল্টা চারা রোপণ শুরু করেন প্রায় ৮ একর জমি জুড়ে। হাটহাজারীর কৃষি গবেষণা কর্মকর্তা ড. আমিন’র প্রাথমিক পরামর্শ নেন তিনি। একই বছরের জুন মাসে শুরু করেন চারা রোপণ। এর আগে চারা রোপণের জন্য গর্ত করে সেখানে গোবর সহ নানা ধরনের কিটনাশক দেয়া হয়। ১০ দিন পর বাছাই করা চারা সেসব গর্তে রোপণ করেন। প্রতিটি গর্তে ২০ কেজি গোবর, ২০০ গ্রাম পটাস, ৪০০ গ্রাম টিএসপি, ২০০ গ্রাম চুন এবং ২০ থেকে ৩০ কেজি মাটি মিশ্রিত করা হয়। চারার গোড়ায় যাতে করে পানি জমে না থাকে সে জন্য এ জমিটি বাছাই করেছেন তিনি। এর পর শুরু হয় চারার পরিচর্যা। চাকুরিতে থাকলেও মুঠোফোনে ছেলে জাফরুল হাসান ইকবাল এবং দুই কেয়ারটেকারকে প্রয়োজীয় পরামর্শ দেন।
ইকবাল জানান, বর্তমানে তাঁদের বাগানে ৮একরের মাল্টা বাগান। কমলা গাছ রয়েছে শতাধিক। কলা বাগান, আঁখ, আম, বড়ই (কুল), ড্রাগন সহ বিভিন্ন ফলজ বৃক্ষের বাগান রয়েছে। বাগানে রয়েছে ছাগলের খামার, মুরগীর খামার। শখ করে তিতির পাখি, টার্কি মুরগী, কালো মুরগী সহ রাজহাঁসও রাখা হয়েছে।
ফরেষ্টার ইউনুছ জানান, মাল্টা ফল ধরা পর্যন্ত প্রতিটি চারার পিছনে খরচ হয়েছে ৮শ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত। তার মাল্টা বাগানে দৈনিক ৮-১২ জন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করছে। দৃষ্টি নন্দন মাল্টা বাগানটি প্রতিদিন ভ্রমণ পিপাসু অনেক লোকজন ছুটে আসেন।গত সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে মাল্টা বিক্রি শুরু হয়েছে। প্রতি কেজি ১৫০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।
মাল্টার উৎপাদন দাঁড়াবে ৩০-৩৫ টন। আবহাওয়া ঠিক থাকলে এবং চলতি মূল্য পেলে আয় হবে প্রায় ৪০-৪৫ লক্ষ টাকা। এখানে দৈনিক মজুরী ভিত্তিক ৮-১২ জন শ্রমিক কাজ করে। তাদের মজুরি দিতে হয় প্রতি মাসে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা।
তিনি আরো বলেন, আমার মাল্টা বাগানের উৎপাদন দেখে এই অঞ্চলে প্রায় একশটি মাল্টা বাগান গড়ে উঠেছে। তাদের বেশির ভাগই আমার বাগানের কাটিং করা ছারা লাগিয়েছে। তাদের মধ্যে ১৫-২০জনের বাগানে এই বছর ফলন পাবে। ফটিকছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লিটন কুমার দেবনাথ বলেন, ফরেষ্টার ইউনুছ আমাদের গর্ব। তাকে আমরা উপজেলা পর্যায়ে পুরস্কৃত করেছি। জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কারের জন্য তার নাম পাঠিয়েছি। তার মাল্টা বিপ্লবে নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে প্রতিদিন।

x