উত্তর মহেশখালীতে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের দাবি

ফরিদুল আলম দেওয়ান, মহেশখালী

বৃহস্পতিবার , ৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ at ১০:৪৮ পূর্বাহ্ণ

দীর্ঘ ৩০ কিঃমিঃ লম্বা পাহাড়ি দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীতে স্থাপিত ফায়ার সার্ভিস স্টেশনটি উপজেলার এক প্রান্তে হওয়ায় কাজে আসছে না অপর প্রান্তের মানুষের দুর্যোগে। তার উপর পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ ও ভঙ্গুর রাস্তার কারণে অগ্নিকান্ডের সময় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই সবকিছু আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তেমন পরিস্থিতির দেখা মিলল গত ২ ডিসেম্বর মাতারবাড়িতে ঘটে যাওয়া অগ্নিকান্ডের ঘটনায়। দিনে দুপুরে ঘটা এ অগ্নিকান্ডের ঘটনায় উপজেলা সদর থেকে দুই ঘন্টা পরে ফায়ার সার্ভিস পৌঁছার আগেই ৮টি বসত বাড়ি পুড়ে অর্ধকোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
কক্সবাজার জেলা সদর থেকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মহেশখালীতে কোন ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ছিল না। পার্শ্ববর্তী উপজেলা চকরিয়ার ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতা নিয়ে যুগ যুগ ধরে চলতো মহেশখালীর অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা। স্থানীয় অধিবাসীদের দাবির প্রেক্ষিতে বছর দুয়েক আগে মহেশখালীতে একটি স্বতন্ত্র ফায়ার সার্ভিস স্থাপন করা হলেও তা স্থাপিত হয় উপজেলার এককোণে। ফলে উত্তর মহেশখালীতে আগুন লাগলে দুর্ঘটনাস্থলে আসার পূর্বে আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় সহায়-সম্বল। ৩০ কিঃমিঃ দুরত্বের মাতার বাড়িতে পৌঁছতে ভাঙা সড়কের কারণে যথাসময়ে পৌঁছানো সম্ভব হয়না ফায়ার সার্ভিস টিমের । তাই উত্তর মহেশখালীতে কোন অগ্নিদুর্ঘটনা ঘটলে ফায়ার সার্ভিসের অবস্থা অনেকটা ডাক্তার আসার পূর্বে রোগী মারা যাওয়ার মতো। যুগ যুগ ধরে কালারমারছড়া, শাপলাপুর, মাতারবাড়ীতে বেশ কয়েকবার অগ্নিদুর্ঘটনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও উত্তর মহেশখালীবাসির জানমাল রক্ষার্থে ফায়ার সার্ভিস স্থাপনে কোন সুনজর নেই কর্তৃপক্ষের। এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জনগণের কাছ থেকে। উত্তর জনপদের অধিবাসিরা জানান স্থাপিত ফায়ার সার্ভিস স্টেশনটি মহেশখালীর মধ্যবর্তী স্থানে স্থাপিত হলে কোন মতে চলতো পুরো মহেশখালীকে কাভার দেয়া। এটি এক প্রান্তে হওয়ায় কাজে আসছে না উত্তর জনপদের মানুষের দুর্যোগে। উত্তরের চারটি ইউনিয়নে বিভিন্ন সময়ে অগ্নি দুর্ঘটনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিআকর্ষণে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও সরকার দলীয় নেতৃবৃন্দরা কখনো ফায়ার সার্ভিসের জন্য জোরালো কোন পদক্ষেপ নেয়নি বলে জানান অনেকেই। তাই যুগ যুগ ধরে অগ্নিদুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উত্তর মহেশখালীবাসি। বর্তমানে মহেশখালীর চালিয়াতলী স্টেশন সংলগ্ন সরকারি জায়গায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন করলে কালারমারছড়া, শাপলাপুর, মাতারবাড়ি ইউনিয়নের অগ্নিদুর্ঘটনার ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে। এছাড়াও চকরিয়া উপজেলার বদরখালী বাজারে বেশ কয়েকবার অগ্নি দুর্ঘটনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। দূরত্বের কারণে চকরিয়া থেকে আসার পূর্বে আগুনে ভস্মিভুত হয়ে যায় ব্যবসায়ীদের স্বপ্ন। চালিয়াতলী স্টেশনের সাথে বদরখালী সামান্য দূরত্বে হওয়ায় চালিয়াতলীতে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপিত হলে বদরখালীর অগ্নি দুর্ঘটনায় যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হবে। ইতিপূর্বে মহেশখালীর উত্তরের ইউনিয়ন গুলোতে প্রতিবছর অগ্নি দুর্ঘটনায় জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও কাজে আসেনি গোরকঘাটায় অবস্থিত ফায়ার সার্ভিস। তাই উত্তর মহেশখালীর অগ্নি দুর্ঘটনারোধে ফায়ার সার্ভিসের মতো গুরুত্বপূর্ণ জনদাবি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের সুদৃষ্টি কামনা করেন এলাকাবাসী। তবে কয়েক মাস পূর্বে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ মাতারবাড়িতে ফায়ার সার্ভিস স্থাপনের লক্ষ্যে সরেজমিন পরিদর্শন করেছিল। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জামিরুল ইসলাম জানান মাতাবাড়িতে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন হবে। তা যাতে দ্রুত বাস্তবায়ন হয় এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণে প্রয়োজনীয় কাজ করবেন তিনি।

x