উত্তপ্ত হচ্ছে রাজনীতি

একই দিনে ঢাকায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের কর্মসূচি

ঢাকা ব্যুরো

বুধবার , ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ at ৬:৩১ পূর্বাহ্ণ
530

ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে দেশের রাজনীতি। আগামী শনিবার রাজধানীতে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের কর্মসূচি নিয়ে উত্তপ্ত হচ্ছে রাজনীতি। ২৯ সেপ্টেম্বর শনিবার আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪-দল ঢাকায় সমাবেশ করবে। ওই দিন বিকেল ৩টায় ঢাকা মহানগর নাট্যমঞ্চে এই সমাবেশ হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ১৪-দলের সমন্বয়কারী মোহাম্মদ নাসিম। অপরদিকে বিএনপি একই দিনে ২৯ সেপ্টেম্বর শনিবার ঢাকায় সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে। বিএনপি তাদের পূর্ব নির্ধারিত সমাবেশের তারিখ ২ দিন পিছিয়ে ২৯ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করেছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দুপুর ২টায় এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর এই সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছিল দলটি। এদিকে ওই দিন ঢাকা দখলে রাখার ঘোষণা দিয়েছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোট। জোটের মুখপাত্র ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ওই অপশক্তি যেন মাঠে নামতে না পারে। ওদের মাঠে প্রতিহত করবেন, রাস্তায় প্রতিহত করবেন। আগে থেকেই ঢাকা দখলে ছিল, ভবিষ্যতেও ঢাকা আমাদের দখলে থাকবে। শুধু ঢাকা নয়, সারা বাংলাদেশ শেখ হাসিনার দখলে থাকবে।
এদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ সরকার পতনের আন্দোলনের জন্য নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার আহবান জানিয়েছেন। তিনি পহেলা অক্টোবর থেকেই আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত থাকার ঘোষণা দিয়েছেন।
বৃহৎ এই দু দলের শীর্ষ নেতাদের এ ধরনের বক্তব্যে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনীতি উত্তপ্ত হচ্ছে। বিএনপি ও আওয়ামী লীগ অন্যান্য দলকে নিজেদের জোটে টানছে। এদিকে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া নিয়েও বিএনপি- আওয়ামী লীগ পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এ ঐক্য প্রক্রিয়াকে ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
ঢাকা দখলের ঘোষনা দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, নেতা-কর্মীরা এলাকায় প্রস্তুত থাকবেন। ওই অপশক্তি যেন মাঠে নামতে না পারে। ওদের মাঠে প্রতিহত করবেন, রাস্তায় প্রতিহত করবেন। আগে থেকেই ঢাকা দখলে ছিল, ভবিষ্যতেও ঢাকা আমাদের দখলে থাকবে। শুধু ঢাকা নয়, সারা বাংলাদেশ শেখ হাসিনার দখলে থাকবে।
নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, চক্রান্তকারীরা মাঠে নামবে। আমরা দেখব কারা মাঠে নামবে, আর কে নামবে না। তিনি বলেন, আগামী একটি মাস আপনাদের কোনো কাজ নেই। ১৪ দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে পাড়া-মহল্লায় আপনারা সজাগ থাকবেন। কোনো চক্রান্ত নৈরাজ্য হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ইনশা আল্লাহ আমরা প্রতিহত করব।
নির্বাচনী প্রচারের বিষয়ে নাসিম বলেন, নির্বাচনের প্রচারের কাজ শুরু হয়ে গেছে। আমাদের সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে ইতিমধ্যে জেলা উপজেলায় নির্বাচনী প্রচারের কাজ শুরু হয়েছে। ১৪ দলের শরিক দলগুলো দেশের বিভিন্ন জায়গায় নির্বাচনের প্রচারের কাজ শুরু করে দিয়েছে। নির্বাচনের কাজ করে যাচ্ছে। আমরা এবার চাই প্রতিদ্বনদ্বিতামূলক নির্বাচন হোক। কিন্তু যখন কোনো উত্তপ্ত রাজনীতিবিদেরা, দলছুট রাজনীতিবিদেরা, যাঁদের আদর্শের কোনো ঠিকানা নেই, দলের কোনো স্থায়ী ঠিকানা নেই, তাঁরা গণতন্ত্রের কথা বলেন, তখন আমাদের সন্দেহ হয় আবারও সেই অসৎ চক্রান্ত শুরু হয়ে গেছে।
২৯ সেপ্টেম্বর ১৪ দলের সমাবেশ সফল করার আহ্বান জানিয়ে নাসিম বলেন, আপনারা ১৪ দলের প্রোগ্রামে আসবেন। সেখানে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও ১৪ দলের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখবেন। ঢাকার প্রতিটি ঘরে ঘরে এ বার্তা পৌঁছে দিতে হবে। ২৯ তারিখ ১৪ দলের সমাবেশ। আপনারা আপনাদের এমপিকে নিয়ে ঘরে ঘরে পৌঁছে যান।
জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেনের উদ্দেশে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘আমরা এত দিন দেখেছি খেলার সময় খেলোয়াড় ভাড়া করা হয়, এখন দেখছি ড. কামাল হোসেনের মতো নেতারাও ভাড়ায় যাচ্ছেন। আমাদের সঙ্গে খেলবেন, খেলেন। কোনো সমস্যা নেই। ভাড়াটে খেলোয়াড় দিয়ে কি কখনো জয় পাওয়া যায়? যায় না। যাদের নিজেদেরই কোনো অস্তিত্ব নেই তারা অন্য দলে গিয়ে কি অস্তিত্ব পাবে? ‘
জাতীয় ঐক্যের বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘আপনারা (যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতারা) বর্ণচোরা। আপনাদের প্রতি দেশের জনগণের আস্থা নেই। আর বিশ্বাস করি আপনাদের কর্মীদেরও আপনাদের প্রতি আস্থা নেই।’
নির্বাচন বানচালের কোনো চেষ্টা সফল হবে না মন্তব্য করে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, যখনই এ দেশে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই হয়েছে, এই চেনা মুখগুলো নির্বাচনকে বিলম্বিত করার জন্য বারবার চেষ্টা করেছে। বাংলাদেশের মানুষ সব সময় গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে, সংগ্রাম করেছে। নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন হবে।
নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের নামে সেনাবাহিনীকে উত্তেজিত করা হচ্ছে দাবি করে নাসিম আরও বলেন, ‘সেনাবাহিনীকে উত্তেজিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সকলের মনে আছে ২০০১ সালে কীভাবে একটি দলকে পরাজিত করার চক্রান্ত করা হয়েছিল। পৃথিবীর কোনো দেশে তাদের সেনাবাহিনীকে এভাবে ব্যবহার করা হয় না। আমরা দেখেছি কীভাবে সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করে অতীতে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করা হয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বর্তমান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যথেষ্ট। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে কাজ করবে। নির্বাচন কমিশন যে সিদ্ধান্ত দেবে, সে অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করবে।’ তিনি বলেন, নির্বাচনের আছে মাত্র তিন মাস। অল্প কিছুদিনেই হয়তো নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে। তাদের সিদ্ধান্ত দেবে।
এদিকে গতকাল এক অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ সরকার পতনের আন্দোলন’র জন্য পহেলা অক্টোবর থেকে নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জনগণকে সাথে নিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে এবং আগামী নির্বাচনে অংশ নিয়ে আমার এ সরকারকে অপসারণ করব। শান্তিপূর্ণভাবে ভোটের মাধ্যমে কোনো ভায়োলেন্সের মাধ্যমে নয়। প্রেস ক্লাবের বক্তব্য দিয়ে কাজ হবে না, পহেলা অক্টোবর থেকে রেডি হয়ে নেন।
মওদুদ বলেন, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। মাঠে নামতে হবে। জনগণের জোয়ার এ সরকারকে দেখাতে হবে এবং দেখবে। কারণ আমরা এবার খালি মাঠে গোল দিতে দেব না। জনগণকে নিয়েই আমরা থাকব।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঐক্য প্রক্রিয়াকে প্রথমে স্বাগত জানিয়েছেন। আবার বললেন, এখানে সবাই দুর্নীতিবাজ, সুদখোর ও ঘুষখোররা মিলে ঐক্য করেছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে আমরা কখনোই এমন অশালীন বক্তব্য আশা করি না। প্রধানমন্ত্রী এ ধরনের বক্তব্য আগেও দিয়েছেন, এখনও দিচ্ছেন। এতে একটা জিনিস প্রমাণিত হয় যে এ সরকার আতঙ্কিত হয়েছে।
মওদুদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করবো, আপনার এ বক্তব্য প্রত্যাহার করেন। তা না হলে রাজনীতিতে কোনো শালীনতা থাকবে না। দুর্নীতির কথা যদি বলেন, বর্তমান সরকারের চাইতে দুর্নীতি গত ৫০/৬০ বছরে এমনকি পাকিস্তান আমল থেকে শুরু করে কোনো সরকার এমন দুর্নীতি করে নাই। আপনার নিজেদের দলের নেতাকর্মীদের দিকে তাকিয়ে দেখেন।
তিনি আরও বলেন, এই যে সেন্ট্রাল ব্যাংকের টাকা চলে গেল একজনও গ্রেফতার হলো না, কয়লা উধাও হয়ে গেল একজনও গ্রেফতার হলো না, পাথর চলে গেল কেউ গ্রেফতার হয় নাই, শেয়ার মার্কেট লুট করে নিয়ে গেল একজনও গ্রেফতার হয়নি, ব্যাংকগুলো সব ফোকলা হয়ে গেছে, হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যাংকের থেকে নিয়ে গেছে এ সরকারি দলের মদদপুষ্ট ব্যক্তিরা। আর আজকে আপনি বলছেন, দুর্নীতিবাজদের নিয়ে ঐক্য হয়েছে।’
মওদুদ বলেন, বাংলাদেশের মানুষ এত বোকা? তারা কি বোঝে না? এই ধরনের বক্তব্য দিলে আমাদের জনপ্রিয়তা কমবে না। জাতীয় ঐক্যের জনপ্রিয়তা আপনার এ বক্তব্যের পরে আরও বৃদ্ধি পাবে। কারণ, তারা জানে জাতি যদি ঐক্যবদ্ধ হয় তাহলে যে কোনো স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটানো সম্ভব।

x