উচ্চ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ : করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে

শুক্রবার , ৬ মার্চ, ২০২০ at ৫:৫২ পূর্বাহ্ণ
144

করোনাভাইরাস নিয়ে উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ। গতকাল ৫ মার্চ দৈনিক আজাদীতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ সংক্রান্ত বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়। মহাখালীতে আইইডিসিআরের সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার পরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, এখন পর্যন্ত আমাদের এখানে (আইইডিসিআর) করোনা ইস্যুতে নিজে থেকে এসে স্বাস্থ্যসেবা নিয়েছেন ৪ জন। গত মঙ্গলবার ৬ জনের নমুনা সংগ্রহসহ আমরা ১০২ জনের নমুনা সংগ্রহ করে দেখেছি। এখনো আরও ৪ জন আমাদের পর্যবেক্ষণে আছেন। তবে এদের কারোও মধ্যেই করোনা সংক্রমণ পাওয়া যায়নি। করোনাভাইারাস মোকাবেলায় জাতীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তিন স্তরের কমিটি গঠন করা হয়েছে জানিয়ে আইইডিসিআরের পরিচালক বলেন, ইতালি, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও কুয়েতের যাত্রীরা করোনা মুক্তির মেডিকেল সার্টিফিকেট ছাড়া বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারবেন না। কেউ আসতে চাইলে সেখানে থাকা আমাদের দূতাবাসে ভিসা আবেদন করেই আসতে হবে। কারণ যাত্রী যাতায়াতের দিক থেকে এখন উচ্চ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ। ইতালিতে ১ বাংলাদেশি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ইতালিতে আমাদের দেশের একজন নাগরিকের করোনাতে আক্রান্তের তথ্য আমরা নিশ্চিত হয়েছি। আক্রান্ত ব্যক্তিকে তারই বাসায় কোয়ারেন্টেনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সেখানে থাকা আমাদের দূতাবাস নিশ্চিত করেছে যে, আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসার সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে আক্রান্তের ধরন গুরুতর না তাই তাকে তার বাসাতেই রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
আসলে করোনাভাইরাসে এখন পুরা বিশ্ব দিশাহীন। প্রতিদিন নতুন নতুন দেশে ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস। এ পর্যন্ত চীনসহ ৭৫টি দেশ ও অঞ্চলে এই ভাইরাস ছড়ানোর তথ্য পাওয়া গেছে। বিশ্বের অর্ধেকের বেশি মানুষ এসব দেশ ও অঞ্চলে বাস করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পরিস্থিতিকে দিকদিশাহীন বলে বর্ণনা করেছে। এমন শ্বাসতন্ত্রের জীবাণু এর আগে দেখা যায়নি। কোনো সাধারণ নিয়ম মেনে নতুন এই ভাইরাস দেশ থেকে দেশে ছড়াচ্ছে না। প্রতিটি দেশের ক্ষেত্রে সংক্রমণের ধরন আলাদা বলেই মনে হচ্ছে। দুই মাসের মধ্যে আক্রান্ত হয়েছে ৯১ হাজারের বেশি মানুষ। তিন হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, আগেভাগে ও আগ্রাসী পদক্ষেপ নিলে এই ভাইরাসের সংক্রমণ বন্ধ এবং জীবন রক্ষা করা সম্ভব। তবে বাংলাদেশে এখনো কেউ এই ভাইরাসে সংক্রমিত হয়নি বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ‘কোভিড-১৯’ রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তিন স্তরের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে জাতীয় কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। জেলা পর্যায়ের কমিটির প্রধান থাকবেন জেলা প্রশাসক; আর উপজেলা পর্যায়ের কমিটির প্রধান হচ্ছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা জানিয়েছেন। কোভিড-১৯ রোগের সংক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে এবার চীনের পর ইতালি, ইরান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকদের জন্য আগমনী ভিসা আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি ওই তিন দেশের নাগরিকেরা বাংলাদেশে আসতে চাইলে সেখানকার মিশনগুলোতে ভিসার আবেদনের সঙ্গে বাধ্যতামূলকভাবে চিকিৎসকের সনদ দিতে হবে। কারো কারো অভিযোগ, করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সরকারের প্রস্তুতি উল্লেখ করার মতো নয়। তাঁরা বলেন, আমাদের সরকার এখনও বুঝতে পারছেনা যে ভাইরাসটি খুবই দ্রুত ছড়ায়, অন্তত দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালির সামপ্রতিক অবস্থা থেকেও তারা শিক্ষা নিতে পারে। ইতালিতে এক সপ্তাহের মধ্যে কত জন আক্রান্ত হয়েছেন, কতজন মারা গেছে, সেটা জেনে নিলে হয়। যদিও তারা সাথে সাথেই ব্যবস্থা নিয়েছে কিন্তু একটি হাসপাতালে দুর্ভাগ্যজনকভাবে এক রোগীর মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়ায়, যিনি কখনোই চীন ভ্রমণ করেননি তাই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিভ্রান্তির কারণে এখন এটা বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। আমাদের দেশের হাসপাতালগুলোর অবস্থা নিয়ে নতুন ভাবে কিছু বলার নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দুই মাস থেকেই বিভিন্ন দিক নির্দেশনা, পরামর্শ দিয়ে আসছেন সরকারগুলোকে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয় নিয়ে। কিন্তু সরকার এখনও তেমন অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। আমরা এর ভয়াবহতা সম্পর্কে এখনও অজ্ঞ। এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।