উখিয়ায় আমন কাটার ধুম কৃষক কৃষাণীদের ব্যস্ততা

রফিকুল ইসলাম, উখিয়া

সোমবার , ৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ at ১১:০৬ পূর্বাহ্ণ
13

চলতি আমন মৌসুমে উখিয়ায় আশানুরূপ ফলন হয়েছে। চতুর্দিকে সোনালী ফসলের হাতছানি। এখানকার কৃষক ও কৃষাণীরা খুবই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে আমন ধান কাটা, মাড়াই, সংরক্ষণ নিয়ে। প্রাকৃতিক পরিবেশ অনুকূলে থাকায় কৃষকরা বুকভরা আশা নিয়ে সোনালী আমন ধানের মাঠে দিনরাত কাটাচ্ছে। কৃষক ও স্থানীয় কৃষি অফিস আমনের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি নিয়ে সংশয়ে রয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, চলতি বছরের শুরুতে আমন ধানের মূল্য তেমন না থাকায় তারা হতাশায় ভুগছে। কারণ প্রতি কানি আমন উৎপাদনের তাদের খরচ পড়েছে ২০/২২ হাজার টাকা। আমনের চারা, জমি চাষাবাদ, রোপণ, সার ও কীটনাশক সহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ, আগাছা পরিষ্কার, ধান মাড়াই, সংরক্ষণ ইত্যাদি খাতে এ খরচ হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে উখিয়ায় প্রতি এক’শ আড়ি বা ১২শ কেজি ধান বিক্রি হচ্ছে ১৭/১৮ হাজার টাকায়। তাদের মতে এক কানি জমিতে ৮০/৯০ আড়ির বেশীর ধান উৎপাদন হচ্ছে না। সে অনুপাতে আমনের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিয়ে কৃষকরা হতাশায় ভুগছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা এবং আবহাওয়া অনূকুলে থাকায় উখিয়ায় আমনের ফলন ভাল হয়েছে। কৃষকেরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে পুরোদমে ধান কাটা শুরু করেছে। আর গোলাভরা ধান ঘরে তুলতে পারায় অনেকটা স্বস্তিতে থাকলেও বিভিন্ন জনের কাছ থেকে নেয়া ঋণের টাকা পরিশোধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে কৃষকেরা। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৫ ইউনিয়নে ৯ হাজার ১০ হেক্টর জমিতে এবার আমন চাষাবাদে চালের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৬ হাজার ৫ মেট্রিক টন। যাহা প্রতি একরে ২.২২মেট্রিক টন ধানের উৎপাদন। কিন্তু চাহিদার তুলনায় অনেক ফলন ভাল হয়েছে। উখিয়া সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান, সময় মতো সার, কীটনাশক সহ অন্যান্য উপকরণ যথাযথ সরবরাহ ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকার কারণে আমনের ফলন ভাল হয়েছে। কিন্তু রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অতিরিক্ত সববরাহকৃত চাল, সরকারীভাবে রোহিঙ্গা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা হিসেবে সাধারন লোকজনকে ব্যাপক হারে ত্রাণের আওতায় আনায় স্থানীয়ভাবে ধান ও চাউলের মূল্য অনেকটা হ্রাস পেয়েছে। ফলে এখানকার কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে। এর পরও উখিয়ার কৃষকরা আমন চাষাবাদে তেমন ক্ষতির সম্মুখিন হবে না বলে তিনি জানান।

x