ঈদের ছুটিতে পর্যটকের ঢল নামবে কক্সবাজারে

৮০ ভাগ কক্ষ আগাম বুকিং

আহমদ গিয়াস, কক্সবাজার

মঙ্গলবার , ৪ জুন, ২০১৯ at ১০:৩০ পূর্বাহ্ণ

এবারের ঈদুল ফিতরের ছুটিতে পর্যটকদের ঢল নামবে কক্সবাজারে। ইতোমধ্যে শহর ও সাগরপাড়ের চার শতাধিক হোটেলের প্রায় আশি ভাগ কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে। অফ সিজন হলেও এবারের ঈদের ছুটিতে সপ্তাহ জুড়ে ৫ লক্ষাধিক পর্যটক কক্সবাজারে বেড়াতে আসবেন বলে আশা করছেন হোটেল মালিকরা। এ আশায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সাজাচ্ছেন তাদের পসরা। চারিদিকে চলছে সংস্কার-চুনকাম, যেন বিয়ে বাড়ির আয়োজন। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে সেন্টমার্টিনগামী জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় এবার প্রত্যাশিত সংখ্যক পর্যটক নাও আসতে পারে বলে অনেকের শঙ্কা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিবছর দুই ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবে জমজমাট থাকে কক্সবাজার। এ সময় প্রতিদিন কক্সবাজার শহরসহ জেলার বিভিন্ন পর্যটন স্পটে লক্ষাধিক পর্যটক ভিড় করে। সমুদ্র সৈকত, রাস্তাঘাট ও বিপণিকেন্দ্রগুলো হয়ে উঠে প্রাণচঞ্চল। পর্যটন সংশ্লিষ্টদের সবচেয়ে ব্যস্ততম ও আকাঙ্ক্ষিত সময় কাটে। কক্সবাজার হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি ওমর সোলতান জানান, কক্সবাজারে সাধারণত মানসম্মত ও তারকা মানের ৩ শতাধিক হোটেল রয়েছে। এছাড়া রয়েছে রেস্ট হাউস ও কটেজ। এসব হোটেল-মোটেল ও রেস্ট হাউসে প্রায় সোয়া ১ লাখ মানুষের রাত যাপনের ব্যবস্থা রয়েছে। ঈদের ছুটিতে লাখ লাখ পর্যটক কক্সবাজারে আসবেন তাই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নেয়া হয়েছে। তিনি জানান, ইতোমধ্যে হোটেল-মোটেলগুলোর প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ শেষ হয়েছে। ব্যবসায়ীরা তাদের প্রতিষ্ঠানে সাধ্যমত সাজসজ্জা করেছেন। যাতে পর্যটকদের কাছে আরো স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ও আকর্ষণীয় করে তোলা যায়।
কক্সবাজার হোটেল-মোটেল ওনার্স এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি নুরুল আবছার বলেন, ঈদের ছুটিতে নগরীর চার শতাধিক হোটেল-মোটেল, গেস্ট হাউস ও রেস্টহাউসের শতকরা প্রায় ৮০ ভাগ কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে। ঈদের পরদিন থেকে টানা ৫ দিন কক্সবাজার জমজমাট থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তবে ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশন অব কক্সবাজার (টোয়াক বাংলাদেশ) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এসএম কিবরিয়া খান আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে সেন্টমার্টিনগামী জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় এবার অপেক্ষাকৃত কম পর্যটক আসতে পারে। এরপরও ঈদের পরদিন থেকে কক্সবাজারে লক্ষাধিক পর্যটক ভিড় করবে।
কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার ফখরুল ইসলাম জানান, ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে বিপুল সংখ্যক পর্যটকের আগমন ঘটে। সেইদিকে লক্ষ্য রেখে পর্যটন স্পটগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। এরমধ্যে শহরের ৩টি প্রধান স্পটে ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে চব্বিশ ঘণ্টা নজরদারি থাকবে। সমুদ্রে স্নানকালে কেউ বিপন্ন হয়ে পড়লে তাকে উদ্ধারের জন্য ট্যুরিস্ট পুলিশের জেট-স্কি প্রস্তুত থাকবে। তাছাড়া মেরিন ড্রাইভ ও ঝাউবাগানসহ শহরের নির্জন এলাকায় ইউনিফর্মধারী ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোষাকেও পুলিশি টহল থাকবে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন জানান, ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে লাখো পর্যটকের মিলনমেলা বসে। একথা মাথায় রেখে প্রশাসন পর্যটকদের হয়রানি রোধে কাজ করবে। .

x