ঈদের আনন্দ ফিকে মনমরা অনুষ্ঠানে দুর্বল পরিকল্পনা, গৎবাঁধা ধারণা

আয়শা আদৃতা

বৃহস্পতিবার , ১৩ জুন, ২০১৯ at ৬:০৪ পূর্বাহ্ণ
59

ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ। কিন্তু সে আনন্দ পুরোপুরি দিতে পারেনি বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের ঈদের অনুষ্ঠান। যথারীতি গৎবাঁধা ধারণার ওপর নির্মিত কয়েকটা অনুষ্ঠান দিয়েই পার হয়েছে রাষ্ট্রীয় চ্যানেলটির ঈদ আয়োজন। ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে যখন অন্যান্য চ্যানেলগুলো, স্বয়ং বিটিভিও সপ্তাহব্যাপী অনুষ্ঠানমালা প্রচার করেছে, সেখানে চট্টগ্রামের এ কেন্দ্রটি হাতেগোণা কয়েকটি অনুষ্ঠান দিয়েই শেষ করেছে তাদের ‘বর্ণাঢ্য’ আয়োজন।
যেখানে নতুন অনুষ্ঠানের চেয়ে নিয়মিত অনুষ্ঠানগুলোকেই ‘ঈদের বিশেষ’ অনুষ্ঠান বলে চালানো হয়েছে। সাথে ছিল ঢাকা কেন্দ্রের অনুষ্ঠান ও পুনঃপ্রচার অনুষ্ঠান।
ঈদ উপলক্ষে বেশ কয়েকটি গানের অনুষ্ঠান প্রচার করেছে কেন্দ্রটি। কিন্তু সেসব সঙ্গীতানুষ্ঠানগুলো দেখলে যে কেউই টেলিভিশন সেট বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবেন। যাচ্ছেতাই মানের এসব অনুষ্ঠান নির্মাণ করে শুধু শুধু সরকারি অর্থের অপচয় করা হচ্ছে। শিল্পীদের কণ্ঠে না আছে সুর, না আছে তাল, না আছে গায়কী। তবু দিনের পর দিন এসব শিল্পীরাই ঘুরে ফিরে দখল করে রেখেছেন টেলিভিশনের পর্দা। এসব সঙ্গীতানুষ্ঠান আর শিল্পীদের সম্পর্কে এত বেশি লেখা হয়েছে যে, আর নতুন করে কিছু বলার নেই। নিজেদের মৌলিক গান তো শোনার মত নয়ই, খ্যাতিমান গীতিকার-সুরকার-শিল্পীদের গানও এসব শিল্পীরা গেয়েছেন অত্যন্ত বাজেভাবে।
প্রজন্মের ঈদ নামে একটা ফ্যাশন শো’র অনুষ্ঠান প্রচার করা হয়েছে ঈদের পরদিন। অংশগ্রহণে শিশু একাডেমির শিল্পীবৃন্দ বলা হলেও শিশুদের পাশাপাশি কিশোর-তরুণদেরও এ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেখা গেছে। নতুন কোনো পোশাকের বাজারজাত করণের উদ্দেশে ক্রেতার দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টায় যে আয়োজন তাকেই সাধারণত ফ্যাশন শো বলা হয়। কিন্তু শপিং মল থেকে কিছু পোশাক কিনে এনে কিংবা ‘মডেলদের’ (!) নিয়মিত পোশাক পরিয়েই ক্যাটওয়াক করানোকেই ফ্যাশন শো বলা যায় না। তাও যদি সবাই ক্যাটওয়াক করতে জানতেন। যাই হোক, চট্টগ্রাম এমনিতেই সবদিক থেকে পিছিয়ে আছে। সেটাকে আরো পিছিয়ে দেওয়ার জন্য বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের এমন আয়োজন যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
পুরো ঈদ আয়োজনে শুধু ছোটদের অনুষ্ঠানগুলোই কিছুটা মন জুড়িয়েছে। বিশেষ করে ঈদের খুশি নামে শিশু শিল্পীদের পরিবেশনায় একটি অনুষ্ঠান এবং ঈদের দিন সন্ধ্যায় প্রচারিত ছোটদের একটি অনুষ্ঠান বেশ ভালো হয়েছে। বিশেষ করে শিশু শিল্পীর উপস্থাপনা, দলীয় কণ্ঠে গান, দলীয় নৃত্য বেশ উপভোগ্য।
তবে যথারীতি ঈদের বিশেষ কোনো নাটক না থাকা হতাশার সৃষ্টি করেছে। সাধারণত, দর্শক এখন নাটকের জন্যই টেলিভিশনমুখী হয়। বেসরকারি চ্যানেলগুলো যেখানে দিনে সাত থেকে আটটি পর্যন্ত নাটক টেলিফিল্ম প্রচার করছে সেখানে বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্র থেকে একটিও ঈদের নাটক দেখতে পায়নি দর্শকরা। তবে, একটি মঞ্চ নাটক প্রচার করা হয়েছে। তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যয়ের পাঠকপ্রিয় উপন্যাস ‘কবি’ অবলম্বনে অরিন্দম নাট্য সম্প্রদায়ের পরিবেশনায় প্রচারিত হয় মঞ্চনাটক কবি। জনপ্রিয় এ উপন্যাসটি মঞ্চে তুলে আনা বেশ কঠিনই। সে কঠিন কাজটি বেশ ভালোভাবেই সম্পাদন করেছে নাটকের এ দলটি। তারাও প্রশংসার দাবি রাখে।

x