ইসলামকে বিকৃতির হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন আহলে বায়তে রাসুল (দ.)

জমিয়তুল ফালাহ’য় শাহাদাতে কারবালা মাহফিলে নওফেল

বৃহস্পতিবার , ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ৫:৪০ পূর্বাহ্ণ
1572

জমিয়তুল ফালাহ মসজিদে ১০ দিনব্যাপী ৩৪ তম আন্তর্জাতিক শাহাদাতে কারবালা মাহফিল দেশ ও বিশ্ববাসীর শান্তি-সমৃদ্ধি কামনায় আখেরি মুনাজাতের মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার রাতে সমাপ্ত হয়েছে। মাহফিলের শেষ দিনে সিরিয়া ইয়েমেন ইরাক ফিলিস্তিন কাশ্মীরসহ দেশে দেশে নিরীহ মানুষের ওপর চলা নির্যাতন-নিপীড়ন-হত্যাযজ্ঞ থামাতে জাতিসংঘ, ওআইসি ও আরবলীগসহ বৈশ্বিক সংস্থাগুলোকে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ, নিপীড়িত রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীকে স্বদেশে পূর্ণ নাগরিক অধিকার ও নিরাপত্তা দিয়ে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ, রোহিঙ্গাদের মুক্তিসনদ হিসেবে চিহ্নিত কফি আনান কমিশনের সুপারিশ অবিলম্বে বাস্তবায়ন, হযরত ইমাম হোসাইন (রা) সহ শাহাদাতে কারবালা ও নবী পরিবারের ত্যাগের ঘটনা সকল স্তরের পাঠ্যপুস্তকে সংযোজন এবং সংঘাত-সহিংসতা ও হানাহানিমুক্ত একটি শান্তিপূর্ণ মানবিক বিশ্ব গড়তে বিশ্ব নেতৃত্বকে ত্যাগের পথে প্রতিষ্ঠিত থাকার ডাক দেন দেশি-বিদেশি আলোচক ও ইসলামী চিন্তাবিদগণ। পাঁচ বছর পেরিয়ে যাওয়া সত্ত্বেও আল্লামা শায়খ নূরুল ইসলাম ফারুকী (রহ) হত্যাকারীদের বিচার না হওয়ায় বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং অবিলম্বে চিহ্নিত খুনিদের বিচার করে আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে সরকারের প্রতি দাবি জানান। মাহফিলের সমাপনী দিনে সভাপতিত্ব করেন মাইজভান্ডার দরবার শরিফের সাজ্জাদানশিন পীরে তরিকত শাহসূফি মাওলানা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী (মজিআ)। প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষাউপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। বিদেশি আলোচক ছিলেন ইরাক বাগদাদ শরীফ বড়পীর শেখ সৈয়দ আব্দুল কাদের জিলানি (রা) এর বংশধর শাহ্‌ সূফি আল্লামা সৈয়দ আফিফ আব্দুল কাদের মনসুর আল-জিলানি আল-বাগদাদী, ভারত কাসওয়াসা দারবার শরিফের সাজ্জাদানশিন আল্লামা সৈয়দ মাহমুদ আশরাফ আল-আশরাফি আল-জিলানি ও মিশরের ক্বারী মুহাম্মদ রিদওয়ান গোম্মাহ ইউনুছ। ব্যারিস্টার নওফেল বলেন, কারবালায় দ্বীন ইসলামকে বিকৃতির হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন আহলে বায়তে রাসুল (দ) ও ইমাম হোসাইন (রা)। আজও ইয়াজিদি দোসররা থেমে নেই। কিন্তু যুগে যুগে ইয়াজিদিরা ধ্বংস হয়েছে। ইয়াজিদি খারেজিরা সুন্নিয়তের শত্রু। যারা সুন্নিয়তকে ধ্বংস করতে চায় সম্মিলিত শক্তি দিয়ে আমরা ওদের প্রতিহত করবো। আজ ১০ই মহররম এই হোক আমাদের দৃপ্ত শপথ। সুন্নিয়তের শত্রুদের আমরা কিছুতেই রেহাই দেবো না। সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী বলেন, নবী পরিবার তথা আহলে বায়তে রাসূলের (দ) সীমাহীন ত্যাগের মধ্য দিয়ে আমরা দ্বীন ইসলামের নিয়ামত লাভ করেছি। তাই, আহলে বায়তে রাসূলের (দ) স্মরণের পাশাপাশি তাঁদের জীবনাদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে আমরা নাজাতের ভাগিদার হতে পারি।
আল্লামা সৈয়দ আফিফ জিলানি বলেন, কারবালা ট্র্যাজিডি আমাদের কাঁদায়। হৃদয় হাহাকার করে ওঠে আমাদের। কারবালার চেতনায় দ্বীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আমাদের নিবেদিত হতে হবে। আল্লামা সৈয়দ মাহমুদ আশরাফ আল জিলানি বলেন, ইসলামের বুনিয়াদ প্রিয় নবী (দ) ও আহলে বায়তে রাসূলের (দ) ভালোবাসার মধ্যেই নিহিত। সকল ইবাদত আল্লাহর কাছে কবুল হওয়ার পূূর্বশর্ত হচ্ছে প্রিয় নবীর (দ) ওপর দরুদ পড়া। যে ইবাদতের আগে ও পরে দরুদ পড়া হয় তা নিশ্চয়ই আল্লাহর দরবারে গৃহীত হয়। তাই, আমাদেরকে বেশি বেশি করে প্রিয় নবীর (দ) ওপর দরুদ পড়তে হবে। মাহফিলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বক্তব্য দেন জমিয়তুল ফালাহ শাহাদাতে কারবালা মাহফিল পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এবং পিএইচপি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান সূফী মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। কুরআন মজিদের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, নিশ্চয়ই কষ্টের পর সুখ আসে। পরিশ্রম ও ত্যাগ ছাড়া সুখ আসে না। জীবনে সুখ-শান্তি চাইলে অহংকার, হিংসা ও পরনিন্দা করার অভ্যাস বর্জন করতে হবে। আমরা কারবালার শোককে শক্তিতে পরিণত করবো।
মাহফিলে বক্তব্য রাখেন, জমিয়তুল ফালাহ মসজিদের খতিব আল্লামা সৈয়দ আবু তালেব মুহাম্মদ আলাউদ্দিন, চাঁদপুর ফরিদগঞ্জ মজিদিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ ড. আল্লামা এ কে এম মাহবুবুর রহমান, ড. মাওলানা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম আজহারি, মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক। ড. মুহাম্মদ জাফর উল্লাহ ও অধ্যাপক মাওলানা জিয়াউল হক রিজভির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মাহফিলে অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুচ ছালাম, পিএইচপি ফ্যামিলির ডাইরেক্টর মোহাম্মদ আলী হোসেন ও মোহাম্মদ আকতার পারভেজ, গাউসিয়া কমিটি চেয়ারম্যান পেয়ার মোহাম্মদ, হাসান মাহমুদ চৌধুরী, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদরাসার উপাধ্যক্ষ ড. মাওলানা আবু তৈয়্যব মুহাম্মদ লিয়াকত আলী, ডেপুটি এটার্নি জেনারেল আবুল হাশেম, ব্যারিস্টার আবু সাঈদ মুহাম্মদ কাসেম, মাসুদুর রহমান আশরাফি, সাবেক কমিশনার বদিউল আলম, সৈয়দ সেহাব উদ্দীন আলম, অধ্যক্ষ আল্লামা তৈয়ব আলী, মাওলানা হাফেজ আহমদুল হক, মাওলানা হাফেজ জালাল উদ্দিন, হযরত মোহছেন আউলিয়া দরগাহ শরীফের খাদেম মাওলানা শামসুল ইসলাম, সংগঠক দিদারুল আলম চৌধুরী। কুরআন মজিদ থেকে তেলাওয়াত করেন আন্তর্জাতিক ক্বারী শাইখ আহমাদ বিন ইউসুফ আল আজহারী। হামদ ও নাতে রাসূল (দ) পরিবেশন করেন শায়ের মাওলানা মুহাম্মদ জয়নুল আবেদীন। শাহাদাতে কারবালা মাহফিল পরিচালনা পর্ষদের কর্মকর্তা ও সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিরাজুল মোস্তফা, খোরশেদুর রহমান, আনোয়ারুল হক, সৈয়দ মোহাম্মদ আবদুল লতিফ, অধ্যাপক কামাল উদ্দিন আহমদ, আবদুল হাই মাসুম, মোহাম্মদ দিলশাদ আহমদ, ছালামত উল্লাহ, মুক্তিযোদ্ধা এনামুল হক, জাফর আহমেদ সাওদাগর, আবুল মনসুর শিকদার, মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম, এস এম শফি প্রমুখ।
ছিপাতলী খানকা শরীফ : আনজুমানে কাদেরিয়া চিশতীয়া আজিজিয়ার ব্যবস্থাপনায় শায়খুল মাশায়েখ, শামসুল আরেফীন, পেশোয়ায়ে আহলে সুন্নাত আল্লামা মাওলানা মুহাম্মদ আজিজুল হক আলকাদেরী (রহ) এর বাড়িস্থ পবিত্র খানকা শরীফে পবিত্র শোহাদায়ে কারবালা স্মরণে মাহফিল মঙ্গলবার আনজুমানে কাদেরিয়া চিশতীয়া আজিজিয়া বাংলাদেশ’র সভাপতি আল্লামা শাহজাদা আবুল ফরাহ মুহাম্মদ ফরিদউদ্দীনের (মজিআ) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে তকরীর পেশ করেন ফটিকছড়ি হাদী দরবার শরীফের সাজ্জাদানশিন হযরত মাওলানা আবু ছালেহ মোহাম্মদ হানিফ, মওলানা মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন, মাওলানা মোহাম্মদ মহিউদ্দীন, মাওলানা মোহাম্মদ জসিমউদ্দিন, মাওলানা মোহাম্মদ শফিউল আজম, মাওলানা মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন খান মামুন, মাওলানা মোহাম্মদ আবু তৈয়ব ফারুকী। মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন- ছিপাতলী ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আলি আকবর, হাফেজ পেয়ার আহমদ, মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল কুদ্দুস, মুহাম্মদ আবুল কালাম, মাওলানা আবু ইউসুফ প্রমুখ।

x