ইরেকটাইল ডিসফাংশন (ইডি) সমস্যায় কার্যকরী চিকিৎসা ফিজিওথেরাপি

মো. মুজিবুল হক শ্যামল

শনিবার , ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ at ৫:১০ পূর্বাহ্ণ
18

কোন পুরুষ যখন তার সঙ্গিনীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক করতে চায়, তখন যদি তার লিঙ্গ সোজা হয় না কিংবা বেশিক্ষণ লিঙ্গ সোজা রাখতে পারে না, এর ফলে পরিপূর্ণ যৌন মিলনও সম্ভব হচ্ছে না। একজন পুরুষের লিঙ্গের উত্থানজনিত সমস্যাকে ইরেকটাইল ডিসফাংশন বা সংক্ষেপে ইডি বলে। ইরেকটাইল ডিসফাংশন সমস্যা খুবই কমন একটা সমস্যা। বিশেষ করে চল্লিশ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে এটা স্বাভাবিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে মাঝে মাঝে কোনো পুরুষের লিঙ্গেও উত্থানে সমস্যা হলেই এমনটা বলা যাবে না যে তিনি ইডি তে আক্রান্ত। এগুলো নিছকই বিচ্ছিন্ন ঘটনা। কিন্তু বিষয়টি কপালে ভাঁজের কারণ হয়ে দাঁড়ায় তখনই, যখন একজন পুরুষ ক্রমাগত এই সমস্যার সম্মুখীন হতে থাকেন। কানাডায় একটা গবেষণা চালানো হয়েছিল, যাদের বয়স ছিল চল্লিশ বা তার চেয়ে বেশি। তাদের মধ্যে অর্ধেকেরই ইরেকটাইল ডিসফাংশন সমস্যা আছে।
ইরেকটাইল ডিসফাংশন কেন হয়?
হৃদরোগ, পেলভিক ফ্লোর মাসল দুর্বল হয়ে যায়, রক্ত সঞ্চালনের অভাব হরমোনাল সমস্যা, রক্তনালী সংকীর্ণ হয়ে যাওয়া (এথেরোস্ক্লেরোসিস), স্ট্রোক, অতিরিক্ত ওজন, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, উচ্চমাত্রার ইনসুলিন গ্রহণ, কোমরের কাছে অতিরিক্ত চর্বি ও উচ্চ কোলেস্টেরল একসাথে দেখা দেয়, পারকিনসন ডিজিজ, মাল্টিপল স্কেলরোসিস, প্রোস্টেট ক্যান্সার, স্লিপ ডিজঅর্ডার বা ঘুমের সমস্যা।
ইডি’তে মনস্তাত্ত্বিক কারণ :
উত্থানের পেছনে মস্তিষ্ক সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মস্তিষ্কের থেকে পাওয়া সংকেতের মাধ্যমেই একজন পুরুষ তার দেহে যৌন উদ্দীপনা অনুভব করতে থাকেন, তার মধ্যে বিভিন্ন শারীরিক পরিবর্তন আসতে থাকে এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে তার লিঙ্গের উত্থান ঘটে। কিন্তু মস্তিষ্ক যদি স্বাভাবিক না থাকে, তার প্রভাব পড়ে লিঙ্গের উত্থানে, ফলে সমস্যা দেখা দেয়। মানসিক চাপ, অবসাদ, দুশ্চিন্তা ও অন্যান্য মানসিক সম্যাসা, অন্যমনস্কতা, সম্পর্কে অবনতি বা অধারাবাহিকতার কারনে উদ্ভুত চাপ, আত্নবিশ্বাসহীনতা, ভীতি।
ইরেকটাইল ডিসফাংশনের জন্য চিকিৎসা কি :
চিকিৎসা হিসেবে অনেকেই এটার জন্য বিভিন্ন ধরনের ওষুধ নিয়ে থাকেন। বাজারে যেটা ভায়াগ্রা নামে পরিচিত। এই ওষুধগুলো শুধু সাময়িকভাবেই কাজ করে এবং স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর ও ব্যয়বহুল। ইডির প্রাথমিক চিকিৎসা হওয়া উচিত পেলভিক ফ্লোর এক্সারসাইজ (কিগল এক্সারসাইজ) যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্ট এবং সমারসেট নাফিল্ড হাসপাতাল মিলে ইরেকটাইল ডিসফাংশনের চিকিৎসার জন্য পেলিভিক এক্সারসাইজ নিয়ে একটা গবেষণা করেছিল। পেলভিক ফ্লোর এক্সারসাইজগুলো করেছিল এই বিষয়ে এঙপার্ট ফিজিওথেরাপিস্ট। গবেষণায় দেখা গেছে প্রায় অর্ধেকের মত ইডি রোগী পেলভিক এক্সারসাইজ করে ৩ মাসের মধ্যেই সম্পূর্ণ ভাল হয়ে গিয়েছেন।
ইরেকটাইল ডিসফাংশন সমস্যায় কার্যকরী চিকিৎসা ফিজিওথেরাপি :
ফিজিওথেরাপি সেন্টারে ইরেকটাইল ডিসফাংশনের আধুনিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতের জন্য আছে শকওয়েভ মেশিন। দেশের এক্সপার্ট ফিজিওথেরাপিস্ট সহ আধুনিক শকওয়েভ থেরাপি মেশিন এবং কিগল ব্যায়াম ও কিটস, পেলভিক ফ্লোর স্টিমুলেশন আছে। এক্সপার্ট থেরাপিস্ট দ্বারা কিগল এক্সারসাইজ এবং শকওয়েভ থেরাপি সপ্তাহে একবার করে দুই মাস নিলেই ইডি সমস্যা থাকবে না। ইরেকটাইল ডিসফাংশনের জন্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন আধুনিক বৈপ্লবিক চিকিৎসা হল শকওয়েভ থেরাপি।
কিভাবে এটি ইরেকশন হয়?
ভাস্কুলার সিস্টেম, প্যারাসিপ্যাথ্যাটিক, সহানুভূতিশীল, হরমোনগুলির সাথে সোম্যাটিক এবং সেন্ট্রাল স্নায়ুতন্ত্র এবং পেশিবহুল ব্যবস্থার মধ্যেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার মধ্যে একটি জটিল মিথস্ক্রিয়তার কারণে একটি উত্থান ঘটে। একটি উত্থান ঘটে যখন রক্তটি পুরুষাঙ্গ ছাড়ার চেয়ে দ্রুত কর্পস ক্যাভারনোসা (পুরুষাঙ্গের মধ্যে টিউবগুলি) প্রবাহিত করে এবং বদ্ধ হাইড্রোলিক সিস্টেম উত্থানটি বজায় রাখে।
শেষ কথা : কথিত আছে, ইডি’র পেছনে ৯০% হাত থাকে মনের আর ১০% শরীরের। অনেক পুরুষই এই সমস্যার কারণে মানসিক হীনম্মন্যতায় ভোগেন, এবং উপায়ন্তর না দেখে হারবাল চিকিৎসকের দ্বারস্থ হন, কিংবা রাস্তায় বিক্রি হওয়া তথাকথিত যৌনশক্তিবর্ধক ওষুধ কিনে ব্যবহার করেন। আজকাল তো অনলাইন ও টিভিতে নানা চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে লোক ঠকানোর চেষ্টা চলছে। যেহেতু এটি এমন একটি স্পর্শকাতর সমস্যা, যা নিয়ে সবার সামনে আলোচনা করা যায় না, তাই একপ্রকার অসাধু লোকও এর ফায়দা তুলতে থাকে। তাছাড়া অধিকাংশ পুরুষের ক্ষেত্রেই ইডি কোনো দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা নয়, বরং সাময়িক একটি জটিলতা মাত্র। নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের মাধ্যমেই এই জটিলতা থেকে দূরে থাকা যায়। কিন্তু ঘটনাচক্রে কারো মধ্যে যদি জটিলতা দেখা দিয়েও বসে, তাহলে তার মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে আত্নবিশ্বাস হারানোর কিছু নেই। সঠিক কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে অচিরেই তিনি শতভাগ সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন। আর এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করতে পারেন ওই ব্যক্তির স্ত্রী। তিনি যদি এমন সমস্যার ক্ষেত্রে কোনো নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে তাকে যথাসম্ভব মানসিক সমর্থন জোগান তাহলেই ওই ব্যক্তির সেরে ওঠার সম্ভাবনা অনেকাংশে বেড়ে যায়।