ইরানের জন্য নতুন চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে ইউরোপ, চীন ও রাশিয়া

সোমবার , ২১ মে, ২০১৮ at ৬:৩৪ পূর্বাহ্ণ
63

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ইরানের প্রভাববিস্তার ও দেশটির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন কর্মসূচীর লাগাম টেনে ধরার বিনিময়ে দেশটিকে অর্থনৈতিক সহায়তা দেওয়ার একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছে ইউরোপ, চীন ও রাশিয়ার কূটনীতিকরা। এর মাধ্যমে ইরান পারমাণবিক চুক্তি রক্ষার আশা করছেন তারা।

রোববার এমন একটি খবর প্রকাশ করেছে জার্মানির একটি সংবাদপত্র, জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এর আগে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচীর লাগাম টেনে ধরতে ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন, রাশিয়া ও জার্মানির সঙ্গে ইরানের একটি চুক্তি হয়েছিল। ওই চুক্তিতে তাদের ওপর আরোপিত জাতিসংঘ ও পশ্চিমা দেশগুলোর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা ক্রমান্বয়ে তুলে নেওয়ার বিপরীতে পারমাণবিক কর্মসূচী সীমিত করতে সম্মত হয়েছিল ইরান। কিন্তু ৮ মে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান পারমাণবিক চুক্তি নামে পরিচিতি ওই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন।

এতে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তার পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে আসছে সপ্তাহে ইউরোপ, চীন ও রাশিয়ার কর্মকর্তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কূটনীতিক হেলগা স্মিডের নেতৃত্বে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় বৈঠকে মিলিত হবেন বলে ইইউয়ের সূত্রগুলোর বরাতে জানিয়েছে জার্মান সংবাদপত্র ভেট আম জোনটাগ। বৈঠকে জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া ও চীনের যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র অংশ নিবে না বলে জানিয়েছে জোনটাগ। তবে এ বৈঠকে ইরান অংশ নিবে কি না তা তাৎক্ষণিভাবে পরিষ্কার হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংবাদপত্রটি। ইরান পারমাণবিক চুক্তির বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রধান অভিযোগ ছিল যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচীকে এ চুক্তির আওতায় আনা হয়নি এবং মধ্যপ্রাচ্যের যে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে পশ্চিমা দেশগুলো সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে সেসব গোষ্ঠীকে ইরানের সমর্থনের বিষয়টিও এতে বিবেচনা করা হয়নি। সংবাদপত্রটি জানিয়েছে, পারমাণবিক চুক্তি অক্ষুন্ন রেখে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নের উদ্যোগ ও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তেহরানের তৎপরতায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার বিষয়ে একটি চুক্তি করা গেলে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পকে রাজি করানো যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সংবাদপত্রটিতে ইইউয়ের এক ঊর্ধ্বতন কূটনীতিকের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, আরও অতিরিক্ত কিছু উপদান যোগ করে ‘ভিয়েনা পারমাণবিক চুক্তি’ এই নামটি থেকে সরে আসতে হবে আমাদের।

x