ইতি শেখ মুজিবুর রহমান

ফারজানা করিম

শুক্রবার , ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ at ৫:৫৮ পূর্বাহ্ণ

প্রিয় বাংলাদেশ,
অনেক দূরের থেকে দেখছি
এতোটাই দূর যেখান থেকে ফিরে আসা যায়না চাইলেই,
তবে ঠিক চিনে নিতে পারি তোমায়
শুধু তাই নয়
প্রতিরাতে তোমার যে কান্নার ঢেউ
সেই ঢেউয়ের শব্দ ও আমার দুয়ারে এসে কড়া নাড়ে ।
দূরে চলে গিয়েছি বলে ভেবোনা
সংযোগ পাওয়া সম্ভব হচ্ছেনা।
দেহটা হয়তো দূরে কিন্তু আত্মাটা ঠিক ঘুরে বেড়াচ্ছে ।
অতৃপ্ত আত্মা কখনো কি শান্তি পায় বলতো ?
অতৃপ্ত কেন?
আমার মৃত্যুটাই তো অতৃপ্ত
এত সহজ মৃত্যু তো আমি চাইনি।
বুড়ো থুড়থুড়ে হয়েও,
তোমার সবুজ ঘাসের গায়ে পা পিছলে
পড়ে গিয়ে অসুস্থ হয়েও
তোমার আকাশটাতে চোখ রাখতে চেয়েছিলাম।
চেয়েছি ওভাবেই শেষ দিনটা আসুক
আমি তৃপ্তি ভরে তোমায় দেখে নিতাম শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত।
কিন্তু হয়নি।
থাক ওসব কথা।
প্রিয় বাংলাদেশ,
তোমার বুকের সবুজ ঘাসগুলোর
আজকাল কেমন লালচে আভা,
যেন ছোপ ছোপ রক্ত।
আচ্ছা, আমি এবং আমার পুরো পরিবারের এত লাল রক্ত
যে ঘাস রঙিন করতে পারেনি
এখন কি সেখানে বয়ে যায় আরো খুন?
আরো ধর্ষণ ?
আরো পাপ?
আরো অপরাধ?
এমনকি তিরিশ লক্ষ শহীদ যে রক্ত দিয়ে গেছে
তার রঙ কেমন ছিল?
ও আচ্ছা।
ঐ রঙ তো লাল হতে পারেনা
ঐ রঙ মাটিতে পড়েই সবুজ হয়ে যায়
কেননা ঐ একেকটা স্রোতধারাই তো আমার বাংলাদেশের
একেকটা অংশ
গ্রাম অথবা শহর।
কিন্তু আমার দেশ এখন এত লাল কেন?
অভিমানে?
যেমন করে কিশোরীর কপোল
গোধূলির মতন রঙিন হয় তেমন অভিমানে?
না না এ তো সেই অভিমান নয়।
প্রিয় জন্মভূমি আমার,
তুমি কি এখনো শৃঙ্খলিত ?
ঐ যে, ঐ যে,
আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি
তোমার সারা শরীর জুড়ে কতগুলো কুৎসিত হায়না
হাত ধরাধরি করে আছে।
তুমি নড়তে পারছনা,
প্রতিবাদ করতে পারছ না, তুমি আবার যুদ্ধে নামতে চাইছ
তুমি পারছনা।
তুমি পারছনা নিজের সন্তানের সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করতে।
প্রিয় বাংলাদেশ,
আমি যে জানলার পাশে আমার মেয়েটাকে
প্রতিদিন ক্রন্দনরত দেখতে পাই
আকুল হয়ে সে আমায় ডাকে
আমি তার দিকে হাত বাড়াই
কিন্তু এই হাত যে তার কপাল স্পর্শ করে না।
প্রিয় বাংলাদেশ আমার,
সযত্নে রেখে আসতে পারিনি বলেই কি
আজ তুমি এতোটাই ক্ষত বিক্ষত?
আচ্ছা?
আমার সব দীর্ঘশ্বাস এক করে যদি
একটা কালবোশেখি পাঠাই
তুমি পারবেনা?
পারবেনা ঐ হায়নাদের শৃঙ্খল ভেঙে আরেকবার মুক্ত হতে?
পারবেনা?
ইতি
শেখ মুজিবুর রহমান

x