ইতিহাসের সাক্ষী

বুধবার , ১৭ এপ্রিল, ২০১৯ at ১০:৪৯ পূর্বাহ্ণ
41

নটরডেম গির্জার অর্থ ‘আওয়ার লেডি অব প্যারিস’, ফরাসি গোথিক স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন এটি। বিবিসি ওয়ার্ল্ড অনলাইনের হেনরি আস্টয়ের-এর বিশ্লেষণ অনুসারে, নটরডেমের মত অন্য কোন নিদর্শন বা জায়গা ফ্রান্সের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে না। জাতীয় প্রতীক হিসেবে এর কাছাকাছি প্রতিদ্বন্দ্বী আইফেল টাওয়ার।
১১৬৩ সালে নটরডেম গির্জার নির্মাণ কাজ আরম্ভ হয়। রাজা ষোড়শ লুইয়ের আমলে এটি তৈরি শুরু হয়। ত্রয়োদশ শতকেও একবার আগুন লেগেছিল এটিতে। ১২৩০-১২৪০ সাল পর্যন্ত সময় লেগে গিয়েছিল এটি মেরামত করতে।
গির্জার সম্পূর্ণ গঠন তৈরি শেষ হয়েছিল ১৩৪৫ সালে। অর্থাৎ একটা গির্জা প্রায় ২০০ বছরের কাছাকাছি সময় নিয়েছে শুধু তৈরি হতেই। পৃথিবীর প্রাচীনতম ক্যাথিড্রালের মধ্যে অন্যতম এটি। গির্জার অনন্য নকশার গ্লাস পেন্টিং দেখতেও ভিড় করেন দর্শকরা। ফরাসি বিপ্লবেরও সাক্ষী এই গির্জা। ১৮০৪ সালে প্রথম নেপোলিয়নকে অভিষিক্ত করা হয়েছিল এই ক্যাথিড্রালের সামনেই।
১৮৪৪-১৮৬৪ সালের নটরডেম নিয়ে ভিক্টর হুগোর বিখ্যাত উপন্যাস ‘নটরডেম দে প্যারিস’, সেখানেও উল্লেখ রয়েছে আন্তনি লাসুস এবং ইউজিন এমম্যানুয়েল ভিওলেত-লে-দুচ গির্জা পুনর্নির্মাণে সাহায্য করার কথা। ১৯০৯ সালে পোপ দশম পিয়াস এখানেই জোয়ান অব আর্কের সন্তকরণ অনুষ্ঠানও করেন। এই জোয়ান অব আর্কই ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ফ্রান্সের লড়াইয়ে সাহায্য করেন।
ত্রয়োদশ শতাব্দীতে নির্মিত, মধ্যযুগীয় ক্যাথিড্রালটিকে স্থাপত্য ও ধর্মের প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হয়। এটি প্যারিসের সব চেয়ে জনপ্রিয় আকর্ষণগুলির মধ্যে একটি, আনুমানিক এক কোটি ত্রিশ লক্ষ পর্যটক এখানে আসেন প্রতি বছর।
বিশ শতকের দুটি ভয়াবহ আগ্রাসন, বিশ্বযুদ্ধেরও সাক্ষী এটি। এই গির্জার বিখ্যাত ঘণ্টাটি ১৯৪৪ সালের ২৪ আগস্ট বেজেছিল, জার্মানির হাত থেকে প্যারিসের মুক্তির দিন; দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষের দিন। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে খুশির এবং দুর্ভাগ্যজনক ঘটনায় নটরডেমের ঘণ্টাধ্বনি তাকে স্মরণীয় করে রেখেছে।
গির্জার যে গম্বুজ দুটি প্রায় ৬৯ মিটার লম্বা, সে দুটি বেঁচে গিয়েছে আগুনের হাত থেকে। প্যারিসের আইফেল টাওয়ার তৈরি হওয়ার আগে পর্যন্ত অর্থাৎ ১৮৮৯ সাল পর্যন্ত এটিই ছিল প্যারিসের সবচেয়ে উঁচু স্থাপত্য। যীশু খ্রিস্টের কণ্টকমুকুট রয়েছে এখানেই। খ্রিস্টান ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, যীশু ক্রিস্টকে ক্রুশবিদ্ধ করার সময় তার মাথায় এই কণ্টক মুকুটটি ছিল। ফরাসি সম্রাট নবম লুই বায়েজেনটাইন সম্রাটের কাছ থেকে এটি উপহার পান দ্বাদশ শতকে। এমনটাই জানান কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্টিফেন মুরে। আগুন থেকে এই ক্রাউন অব থর্নস বা কণ্টক মুকুটটিকে রক্ষা করা গেছে বলে জানা গেছে।
স্টফেন মুরে আরও জানান, এই ক্যাথিড্রালেই রয়েছে ক্রুশের কাঠের অংশ, রয়েছে একগুচ্ছ পেরেকও, যীশুকে ক্রুশবিদ্ধ করার সময় এটি ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে সন্ত লুইয়ের টিউনিকও ছিল এতে। ছিল আরও বেশ কিছু ক্রিস্টান ধর্মের দুষ্প্রাপ্য পুঁথিও। এগুলোও রক্ষা করা গেছে বলে জানিয়েছেন আমেরিকার ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক।

x