ইচ্ছে ভূতের গল্প

মাহবুবুর রশিদ

বুধবার , ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ at ১১:১৬ পূর্বাহ্ণ
52

বিজ্ঞানের এ যুগে এসে তুই শুনাচ্ছিস ভূতের গল্প, পারিসও বটে তুই। সত্যি বলছি বিশ্বাস কর এক বিন্দু মিথ্যা বলছি না অমিকে বোঝানোর চেষ্টা করে চলেছে রাতুল। অমিও নাছোড়বান্দা কিছুতেই সে বিশ্বাস করবে না রাতুলের কথা। শেষমেষ সব চেষ্টা ক্ষান্ত দিল রাতুল। চিৎ হয়ে শুয়ে আকাশের উড়ে যাওয়া মেঘ দেখতে লাগলো। অমি বুঝতে পারলো রাতুল অভিমান করেছে। এবার একটু ভাব জমানোর চেষ্টা করল সে, বল দেখি তোর ভূতের গল্প। না থাক। থাকবে কেন? বল শুনি কী হয়েছে? অমির আগ্রহ দেখে রাতুল নড়ে চড়ে বসল। শোন তবে গতকাল রাতে আকাশে যখন থালার মতো চাঁদ উঠল ঠিক তখনের কথা। আমি জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখি ধোঁয়ার মতো কী যেন ভাসছে ঠিক জানালার বাইরে। অমি এতটুকু শুনেই নিজেকে আর ধরে রাখতে পারল না, বলল আরে বোকা ওগুলো গাড়ির ধোঁয়া ছাড়া আর কীইবা হবে। তুই ও না তালকে তিল বানিয়ে ফেলিস। রাতুল ওকে থামিয়ে দিয়ে বলল আরে শোন প্রথমে আমিও তাই ভেবেছিলাম কিন্তু ধোঁয়ার কুণ্ডলিটা আস্তে আস্তে ঘন হয়ে বিরাট এক ভূতের আকার নিল আর কটকটে লাল চোখে আমার দিকে তাকাতে লাগল। কী বলিস তুই। সত্যিই বলছি ভয়ে তো আমার হাত-পা জমে যাওয়ার অবস্থা। কী হলো এরপর? ধোঁয়ার কুণ্ডুলিটা আস্তে আস্তে আমার ঘরে প্রবেশ করল, তখন আমার গলা শুকিয়ে একেবারে কাঠ। টু শব্দ করব যে তারও ক্ষমতা নেই। এরপর? তারপর হঠাৎ করে ধোঁয়ার কুণ্ডুলি থেকে কেউ যেন বলে ওঠল খোকা ‘ভয় পেও না’। আমি ইচ্ছে ভূত। তোমার সকল ইচ্ছে পূরণ করে দেব। এ কথায় আমার মনের ভয়টা কিছুটা কমল আমি আস্তে আস্তে বললাম যা চাইব তাই দিবে! হ্যাঁ, খোকা। তা তুই কী চাইলি, অমি জানতে চাইলো। নিশ্চয়ই দামি কিছু। আমি হলে কিন্তু তাই চাইতাম। আরে না, আমি নিজের জন্য কিছু চাইনি। তবে? চেয়েছি আমাদের মতো ছোট আছে যারা তাদের সবার জন্য। কী চেয়েছিস? অমির আর তর সইছে না জানার জন্য। ধীরে বন্ধু ধীরে রাতুল রসিয়ে রসিয়ে বলতে লাগলো। আমি ইচ্ছে ভূতকে বললাম, আমাদের দেশের সব শিশু যেন বছরের প্রথম দিন নতুন বইয়ের আনন্দে মেতে ওঠে। নতুন বইয়ের ঘ্রাণে যেন বেড়ে যায় জানার ইচ্ছে। আর বই পড়ে সবাই যেন জানতে পারে অজানাকে। অমি বলল, ইচ্ছে ভূত কী বলল? ইচ্ছে ভূত বলল, তবে তাই হোক। দেখ ইচ্ছে ভূত কথা রেখেছে বছরের প্রথমে সবার হাতে নতুন বই, সবাই কত খুশি! অমিও মাথা নেড়ে বলল সত্যিই বলছিস তুই।