আহারে আমাদের শৈশব

পান্না আহমেদ

মঙ্গলবার , ২২ অক্টোবর, ২০১৯ at ৫:০২ পূর্বাহ্ণ
66

সকাল বেলায় লিভিং রুমে ঢুকেই দেখলাম নানুপাখি কতোগুলো কয়েনের উপর জাম্প করছে আর খিলখিল করে হাসছে। সঠিক জাম্পের চেষ্টা। বড়ই সুন্দর দৃশ্য। আর নিজে নিজেই হাত তালি দিচ্ছে, বলছে ওয়াও। আমাকে দেখে বললো নন্নো ওয়াও। আমিও তার সাথে হাততালি দিয়ে ওয়াও বলতে বলতে ফিরে গেলাম শৈশবে।
আমাদের শৈশবের পারিবারিক মূল্যবোধ ছিলো আলাদা। আমরা কোন কোন জিনিস পায়ে লাগলে সালাম করতে হবে তার ছিলো লম্বা লিস্ট। আর না করতে পারলে গুনাহ্‌র ভয়ে তটস্থ থাকতাম।এইসব নিয়ে আমার ছিলো ভীষণ ভীতি। ভাইবোনদের এইসব জানা।একবার আমার আপুনি কি একটা বই আমার পায়ে লাগিয়ে কোথায় যে লুকালো। আমি তন্নতন্ন করে সারা বাড়ি খুঁজে না পেয়ে গুনাহের ভয়ে কাঁদতে শুরু করলাম। তা দেখে আপুনির দয়া হলো। তারপর নানান শর্তে সেই বই বেরুলো কোন যে গুহা থেকে আমি আজো জানিনা। আমাদের পরিবারে ছিলো ছোটবড় নানান পদের সালাম। ছোট ভাই বোনদের সাথে আমরা সবাই সেইসব সালামের ব্যবহার শিখি। টাকা পয়সায় পা লাগলে সালাম করতে হবে। বড় ছোট যার গায়েই পা লেগে যায় সালাম করতে হবে। গভীর মনোযোগের সাথে আমরা এইসব আদব কায়দা শিখছি। তো একদিন কোন যেন মেহমান এসেছেন বাসায়। পলাশের পা লেগে গেলো সেই মেহমানের পায়ের সাথে। আমাদের সবার চোখ ডিমের মতো হয়ে গেলো, যে এখন কি হবে। পলাশ দ্রুত দাঁড়িয়ে সোজা হয়ে কপালে হাত তুলে বললো আসলামুআলাইকুম। মেহমান তো থতমত। আসার এতক্ষণ পর সালামের কি মর্ম। পরে মর্ম শুনে মেহমান হেসেই সারা। এইসব মূল্যবোধ আজকাল খুঁজে পাইনা। আহারে আমাদের শৈশব।

x