আসুন, পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হই

চঞ্চল কুমার ভৌমিক

বুধবার , ২২ জানুয়ারি, ২০২০ at ১০:৩৬ পূর্বাহ্ণ
143

পৃথিবীতে ধর্ম নিয়ে সংঘাত বহু পুরোনো। শুধু ধর্মের কারণেই অনেক দেশের সাথে অনেক দেশের যুদ্ধবিগ্রহ লেগে থাকে। বেশীরভাগ লোকেরাই নিজ ধর্মকে সেরা বিশ্বাস করে, অন্য ধর্মকে নানাভাবে হেয় করার অপতৎপরতায় সদা লিপ্ত থাকে। কেউ কেউ অন্যধর্মের সামান্য কিছু শিখে সেই ধর্মের কি কি খারাপ আছে সেগুলো বলে বিমলানন্দ উপভোগ করে। বিশেষ করে বিভিন্ন ধর্মের প্রেরিত নবী, অবতার, মহাপুরুষদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানান কুৎসা রটনা করে বিদ্বেষ সৃষ্টি করে। আমি ছাত্রজীবন থেকেই নিজ ধর্মের পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় পবিত্র গ্রন্থ এবং প্রেরিত মহামানবদের জীবনীগুলো পড়ার চেষ্টা করেছি। অনেক কিছু শেখার আছে প্রত্যেক ধর্ম থেকে। বিভিন্ন ধর্মের প্রেরিত নবী, রসুল, অবতার বা প্রেরিত মহামানবদের জীবনাদর্শ, তাদের চলাফেরা, খাদ্যাভ্যাস, বিভিন্ন উপদেশবাণী আমাদের জীবনের চলার পথকে অনেক সহজ করে দিতে পারে। আমরা যদি অন্যধর্মের খারাপ কি আছে, অমুকের ব্যক্তি চরিত্র কি পরিমাণ খারাপ ছিলো এসব মনগড়া কথা না বলে বা না লিখে যদি সত্যিকারের তাদের সম্পর্কে জেনে তাদের ভালো জীবনের নানাদিক তুলে ধরতে পারি তবে আমার মনে হয় ধর্ম নিয়ে এই যে বিদ্বেষ, হানাহানি, হত্যা, হিংসা এসব অনেক কমে আসবে। বিভিন্ন ধর্মের মানুষদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ তৈরি হবে। চলুন না আজ থেকে শুরু করি। আমি মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর খাদ্যাভ্যাসের বিষয়গুলো নিয়ে দেখছি। খুবই ভালো লাগছে। তিনি খুবই আধুনিক স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাসের বিষয়গুলো নিজে পালন করতেন এবং পরামর্শ দিতেন। কি পরিমাণ খেতে হবে, পান করার সময় কি অবস্থায় থাকতে হবে, কোন কোন খাবারে রোগ প্রতিরোধ বা জটিল রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় এসব পড়ছি। নিজে সেভাবে খাওয়ার চেষ্টা করছি। কঠিন সমস্যায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের অর্জুনকে দেওয়া পরামর্শগুলো পড়ে সান্ত্বনা নিচ্ছি। গৌতম বুদ্ধ, যিশুখ্রিস্টের জীবনীও পড়ে তাদের ভালো বিষয়গুলো অনুসরণের চেষ্টা করবো। সময় লাগবে কিন্তু এগুলো জানা দরকার। এই ছোট্টজীবনে ধর্ম নিয়ে হানাহানি করে কাটিয়ে না দিয়ে পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হই। তাতে বোধহয় আমার ধর্ম নষ্ট হবেনা। আমি অন্তত তাই মনে করি।