আসছে আরো ৬০ হাজার টন পেঁয়াজ

বিমানে প্রথম চালান আসবে মঙ্গলবার

হাসান আকবর

রবিবার , ১৭ নভেম্বর, ২০১৯ at ৮:৩০ পূর্বাহ্ণ
306

উড়োজাহাজে চড়া পেঁয়াজের প্রথম চালান আসছে মঙ্গলবার। ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এই পেঁয়াজ মঙ্গলবারেই বাজারে আসবে। প্রথম চালানে ছয়শ টনের মতো পেঁয়াজ আসলেও সরকারি বেসরকারি উদ্যোগে আরো ৬০ হাজার টনের মতো পেঁয়াজ শীঘ্রই বাজারে আসছে। ইতোমধ্যে বেসরকারি আমদানিকারক এস আলম গ্রুপের কর্মকর্তারা পেঁয়াজ শিপমেন্ট তদারকির জন্য মিশরে অবস্থান করছেন বলেও জানা গেছে। উড়োজাহাজে পেঁয়াজ আমদানির খবরে দাম কিছুটা কমলেও স্বস্তি নেই বাজারে। দেশে পেঁয়াজের দর নিয়ে নানা কারসাজি চলে আসছে। সরকারি নানা
অভিযানেও বাজারে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হচ্ছে না। পচা পেঁয়াজ নদীতে ফেলে দেয়ার মতো ঘটনা ঘটছে অথচ বাজার জুড়ে পেঁয়াজ সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে। পেঁয়াজের কেজি দুইশ টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার নজিরবিহীন ঘটনা সাধারণ মানুষকে দিশেহারা করে তুলেছে। ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়ায় বাংলাদেশের পেঁয়াজের বাজার অস্থির হয়ে উঠে। পেঁয়াজের জন্য ভারত নির্ভরতা কমাতে স্থায়ী পদক্ষেপ নেয়া এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন অনেকে।
বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বাজার নিয়ন্ত্রণে নিতে সরকারি এবং বেসরকারি উদ্যোগে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পেঁয়াজ সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে মিশর, তুরস্ক, আফগানিস্তান, উজবেকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন এবং মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হচ্ছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে টিসিবির মাধ্যমে সরাসরি তুরস্ক থেকে এবং এস আলম গ্রুপ মিসর থেকে পেঁয়াজ আমদানি করছে। এই দুইটি দেশ থেকে কার্গো বিমানে করে পেঁয়াজ আনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এস আলম গ্রুপের পেঁয়াজ নিয়ে প্রথম চালানটি আগামী মঙ্গলবার ঢাকা পৌঁছাবে। এ ব্যাপারে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকায় অবতরণের পর জরুরি ভিত্তিতে কাস্টমস আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে এই পেঁয়াজ ওইদিনই বাজারে ছাড়া হবে। একই সাথে চট্টগ্রামেও বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ নিয়ে আসা হবে। চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমেও বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ আসছে নানা দেশ থেকে।
পেঁয়াজ আমদানির ঋণপত্র খোলার আগে আমদানি অনুমতিপত্র বা ইমপোর্ট পারমিট নিতে হয় কৃষি বিভাগের উদ্ভিদ সংগনিরোধ দপ্তর থেকে। চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ দপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, ইতোমধ্যে ৬৬ হাজার ১৬২ টন পেঁয়াজ আমদানির জন্য পারমিট নেয়া হয়েছে। এরমধ্যে মিশর, চীন, তুরস্ক, মিয়ানমার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও পাকিস্তান থেকে আসা প্রায় ৬ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি করে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে খালাস করা হয়েছে। বাকি ৬০ হাজার টনেরও বেশি পেঁয়াজ দেশের পথে রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে যে ৬৬ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতিপত্র নেয়া হয়েছে তারমধ্যে বেশিরভাগই এস আলম গ্রুপের। এছাড়া সিটি গ্রুপ এবং বিএসএম গ্রুপ ৫ হাজার টন করে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি নিয়েছে। বড় আমদানিকারকদের পেঁয়াজ আমদানির ঘোষণার প্রেক্ষিতে পাইকারিতে পেঁয়াজের কেজি ৮৫ টাকা এবং খুচরা বাজারে ১০০ টাকায় নেমে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছিল। তবে গতকাল পর্যন্ত পেঁয়াজের অস্থির বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়নি। গতকালও পাইকারি বাজারে ১৭৫ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে।
মঙ্গলবার এস আলম গ্রুপের পেঁয়াজের চালান উড়োজাহাজে দেশে পৌঁছলে বাজার পরিস্থিতি বদলে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। এস আলম গ্রুপের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আমাদের একটি টিম ইতোমধ্যে মিশর গিয়ে পেঁয়াজের শিপমেন্ট শুরু করেছে। গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদ গতকাল দৈনিক আজাদীকে কার্গো বিমানে পেঁয়াজ আমদানির কথা স্বীকার করে বলেন, খুব দ্রুতই বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ বাজারে আসছে।
দেশের পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল করতে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানিতে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিষেধাজ্ঞা দেয়ার উপর গুরুত্বারোপ করে ব্যবসায়ীরা বলেছেন, ভারত প্রতিবছরই বাংলাদেশের পেঁয়াজের বাজার নিয়ে খেলছে। তাদের এই খেলা বন্ধ করতে হলে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ করতে হবে। ওই সময় দেশের ব্যবসায়ীরা বিকল্প উৎস থেকে পেঁয়াজ আমদানি করবেন। ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করার সাথে সাথে যদি বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা বিকল্প উৎস থেকে পেঁয়াজ নিয়ে আসতেন তাহলে এই ধরনের সংকট তৈরি হতো না। কিন্তু অনিশ্চয়তার জন্য দেশের ব্যবসায়ীরা বিকল্প উৎস থেকে পেঁয়াজ আনতে আগ্রহী হন না। কারণ ব্যবসায়ীরা বিকল্প উৎস থেকে পেঁয়াজ আনার সাথে সাথে ভারত যদি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় তাহলে তারা ক্ষতির মুখে পড়বেন। গত কয়েকবছর এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। ভারতীয় পেঁয়াজ আসবে না এই নিশ্চয়তা পেলে বহু ছোট ছোট আমদানিকারক বহু বেশি পেঁয়াজ আমদানি করতেন। এতে দেশের পেঁয়াজের বাজার এত বেসামাল হতো না বলেও মন্তব্য করেছেন একাধিক আমদানিকারক। তারা বলেন, শুধু ঝুঁকি নিতে পারিনি বলেই পেঁয়াজ আমদানি করিনি। অবশ্য বড় শিল্প গ্রুপগুলো পেঁয়াজ আমদানির যেই উদ্যোগ নিয়েছে তা দ্রুত কার্যকর করা গেলেই বাজার স্থিতিশীল হয়ে উঠবে।
অপর একটি সূত্র বলেছে, মিয়ানমার বাংলাদেশের পেঁয়াজের বড় উৎস হতে পারে। ভারত বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি নিষিদ্ধ করার পর মিয়ানমার থেকে ৩১ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। আরো পেঁয়াজ আসার অপেক্ষায় রয়েছে।

x