আশ্রয়কেন্দ্রে ৫০ হাজার মানুষ

দিনভর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা

মোরশেদ তালুকদার

রবিবার , ১০ নভেম্বর, ২০১৯ at ৩:৪৯ পূর্বাহ্ণ
58

ঘূূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’র প্রভাবে সম্ভাব্য ক্ষতি এড়াতে গতকালও দিনভর তৎপর ছিল জেলা প্রশাসন এবং সিটি কর্পোরেশনহ বিভিন্ন সেবাসংস্থাগুলো। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল, দিনভর সতর্কতামূলক মাইকিং, উপকূলীয় এলাকা থেকে লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেয়া এবং পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের সরিয়ে দেয়া। গত রাত পৌনে ৮টায় এ রিপোর্ট লেখাকালীলন সময় পর্যন্ত শহর এবং উপকূলীয় উপজেলার ৫০ হাজার লোককে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেয়ার দাবি করে জেলা প্রশাসন। এছাড়া নগরীর বিভিন্ন পাহাড় থেকে সরিয়ে দেয়া হয় আরো ৭০ থেকে ৮০ পরিবারকে। উল্লেখ্য, নগরে জেলা প্রশাসনের পক্ষে ৭২টি এবং সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে ৩৫টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়। তবে উপজেলাসহ মোট স্থায়ী-অস্থায়ী চার হাজার ৩৩টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়।
এদিকে গতকাল দিনভর নানা প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ফায়ার সার্ভিস, রেড ক্রিসেন্ট, ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) এর আওতাধীন স্বেচ্ছাসেবকগণ এবং সিএমপি। সংস্থাগুলোর পক্ষে কন্ট্রোল রুমও খোলা হয়েছে। সীতাকুণ্ড, আনোয়ারা, বাঁশখালী এবং সন্দ্বীপ উপজেলায়ও নানা প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে স্থানীয় প্রশাসন। শহর এবং উপজেলায় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত শুকনো খাবার, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটসহ নানা উপকরণ মজুদ করা হয়। এছাড়া গতকাল সন্ধ্যায় চীন থেকে এসেই কন্ট্রোল রুমে উপস্থিত হয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম মনিটরিং করেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।
তিনি দৈনিক আজাদীকে বলেন, চীনে অবস্থান করার সময়েও ঘূণিঝড়ের প্রভাবে সম্ভাবে দুর্যোগ এড়াতে প্রস্ততি নেয়ার নির্দেশনা দিয়েছি। সেই আলোকে ব্যবস্থাও নেয়া হয়। যে কোন পরিস্থিতিতে মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত আমরা।
এদিকে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’র প্রভাবে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত ঘোষণার পরও গতকাল দিনভর ‘স্বাভাবিক’ দেখা গেছে চট্টগ্রাম শহর এবং উপকূলীয় উপজেলার এলাকার লোকজনদের। অন্তত তাদের আচরণে সেটাই মনে হচ্ছিল। কারণ, প্রশাসনের পক্ষে বারবার সতর্ক করার পরও নির্ধারিত আশ্রয়কেন্দ্রে যাচ্ছিলেন না তারা। পতেঙ্গার বেড়িবাঁধ সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা ইশতিয়াক বলেন, আশ্রয়কেন্দ্রে গেলে বাসায় চুরি হওয়ার আশঙ্কা আছে। তাই যেতে মন চাচ্ছে না। তবে বাতাসের তীব্রতা বাড়লে চলে যাব। এদিকে দিনভর আশ্রয়কেন্দ্রে না গেলেও সন্ধ্যার দিকে যেতে দেখা গেছে অনেককে। সন্দ্বীপসহ অন্যান্য উপজেলাগুলোর আশ্রয়কেন্দ্রে লোকজন আশ্রয় নেয়ার খবর পাওয়া যায়।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের স্টাফ অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর ফরহাদ শামীম দৈনিক আজাদীকে বলেন, এখন পর্যন্ত (গত রাত পৌনে ৮টায় এ রিপোর্ট লেখাকালীন সময়ে) শহর এবং উপকূলবর্তী উপজেলাগুলো থেকে প্রায় ৫০ হাজার লোককে সরিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়া হয়েছে। শহরে এসিল্যান্ড এবং উপজেলায় ইউএনওদের তত্ত্বাবধানে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় দিনভর সতর্কতামূলক মাইকিং করা হয়েছে। এছাড়া গতকাল সারাদিন উপজেলাসহ জেলার সকল সরকারি অফিস খোলা রেখে ঘূর্ণিঝড় পরিস্থিতি মনিটরিং করা হয়েছে।
এদিকে গতকাল সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে অনুষ্ঠিত দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের মনিটরিং সভায় বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান বলেছেন, চট্টগ্রাম বিভাগের প্রায় লক্ষাধিক লোককে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, সেনাবাহিনী, পুলিশ, নৌপুলিশ, কোস্টগার্ডসহ অন্য সব আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ আছে। জরুরি প্রয়োজনে তারা মাঠে নামতে প্রস্তুত।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ত্রাণ সামগ্রীও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে দুই হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, ৩৪৯ মেট্রিক টন চাল, ৬৮১ বান্ডিল ঢেউটিন এবং ৫০০টি তাঁবু মজুদ রাখা হয়েছে। যে কোনো জরুরি প্রয়োজনে জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে (ফোন নম্বর: ০৩১-৬১১৫৪৫, ০১৭০০-৭১৬৬৯১) যোগাযোগ করা যাবে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল মজুদ রেখেছে ৫০ হাজার পিস পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট এবং এক হাজার ৪০০ পিস হাইজিন কিডস। সংগ্রহ করা হচ্ছে আরো এক লক্ষ পিস পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট। সচল রাখা হয়েছে টিউবওয়েলগুলো। ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) এর ছয় হাজার ৬৬০ জন স্বেচ্ছাসেবক ও রেড ক্রিসেন্টের ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবকগণও প্রস্তুত আছেন উপকূলীয় এলাকায়। কন্ট্রোল রুম খুলেছে সিএমপিও (নম্বর-০১৬৭৬-১২৩৪৫৬, ০১৬৭৯-১২৩৪৫৬, ০৩১-৬৩৯০২২ এবং ০৩১-৬৩০৩৫২)। তিনটি ঘূর্ণিঝড় নিয়ন্ত্রণ খোলা হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরের পক্ষে। এরমধ্যে রয়েছে- নৌ বিভাগের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের নম্বর : ০৩১-৭২৬৯১৬। পরিবহন বিভাগের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের নম্বর : ০৩১-২৫১০৮৭৮ এবং বন্দর সচিবের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের নম্বর : ০৩১-২৫১০৮৬৯
গতকাল সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মো. জসীম উদ্দিন দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম-কঙবাজারের জন্য আমরা ২৯টি টিম প্রস্তুত করেছি। এর মধ্যে চট্টগ্রাম শহরে ১৩টি, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কন্ট্রোল রুমে তিনটি এবং কঙবাজারে চারটি টিম কাজ করছে। আশ্রয়কেন্দ্রে লোকজন আনা-নেয়া এবং আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে লোকজনকে সহায়তায় কাজ করছেন তারা।’
এদিকে ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় চট্টগ্রামে তিনটি যুদ্ধজাহাজসহ নৌ কন্টিনজেন্ট ও মেডিক্যাল টিম মোতায়নের জন্য প্রস্তুত রয়েছে বাংলাদেশ নৌ-বাহিনী। এছাড়া আরো দুটি জাহাজ জরুরি ত্রাণসামগ্রী নিয়ে অবস্থান করছে সেন্টমার্টিনে। সেখানে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদ আশ্রয় ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হয়।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) সুদীপ বসাক দৈনিক আজাদীকে বলেন, দিনভর আমরা সর্তকতামূলক মাইকিং করেছি। পতেঙ্গাসহ শহরে উপকূলীয় এলাকায় সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে ৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সাইক্লোন শেল্টার, ওয়ার্ড কার্যালয় এবং সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেই আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত এসব আশ্রয়কেন্দ্রে লোকজন আশ্রয় নিতে অনিহা প্রকাশ করছে। বাতাসের তীব্রতা বাড়লে তারা আশ্রয় নিবে বলে আমাদের জানায়। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে শুকনো খাবার এবং স্থানীয় কাউন্সিলরের পক্ষে রাতের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নগরবাসীকে যে কোন জরুরি সেবা দেয়ার জন্য কন্ট্রোল রুম খুলেছি। কন্ট্রোল রুমের ফোন নম্ব্বরগুলো হলো- ০৩১-৬৩০৭৩৯, ০৩১-৬৩৩৬৪৯।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির দৈনিক আজাদীকে বলেন, চট্টগ্রাম বিভাগের ১১টি জেলায় এক হাজার ২১৮টি মেডিকেল টিম গঠন করেছি। এর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় ২৮৪টি, কঙবাজারে ৯৩টি, বান্দরবানে ৪১টি, রাঙামাটিতে ৬০টি এবং খাগড়াছড়িতে ৩৮টি মেডিকেল টিম রয়েছে। এছাড়া সিভিল সার্জনসহ স্বাস্থ্য বিভাগের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারিদের কর্মস্থল ত্যাগ না করা এবং কন্ট্রোল রুমও চালু করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
উপজেলার প্রস্ততি : সীতাকুন্ড, আনোয়ারা, বাঁশখালী এবং সন্বীপ উপজেলায়ও নানা প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
আমাদের আনোয়ারা প্রতিনিধি এম. নুরুল ইসলাম জানান, ৫৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তত করে উপজেলা প্রশাসন। এছাড়া মেডিকেল টিম গঠন এবং সাড়ে ৭শ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়। দিনভর এলাকায় মাইকিং করা হয়।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির শংকায় উপজেলার উপকূলীয় ইউনিয়ন রায়পুর, জুঁইদণ্ডি, বারশত, বরুমচড়া, বারখাইন ইউনিয়ন ও আনোয়ারার নিম্নাঞ্চলের দুই লক্ষাধিক মানুষ ছিল আতংকে। তবে দিনভর তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে অনাগ্রহী দেখা গেছে। আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ জোবায়ের আহমদ বলেন, চট্টগ্রামে সবচেয়ে ঝুঁকিতে আনোয়ারা উপকূল। তবে আমাদের সবধরনের প্রস্তুতি আছে। উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ তৌহিদুল হক চৌধুরী বলেন, উপজেলা পরিষদ থেকে সব ধরনের প্রস্ততি নেয়া হয়েছে। জনপ্রতিনিধিরা নিজ নিজ এলাকায় কাজ করে যাচ্ছে।
সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি লিটন কুমার জানান, উপজেলায় ৬০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সেখানে পর্যাপ্ত শুকনা খাবার ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটসহ সবধরণের সরঞ্জাম মজুদ করা হয়। নির্ধারিত আশ্রয়কেন্দ্রের বাইরে প্রয়োজনে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি অবকাঠামো দুর্যোগকালীন সময়ে আশ্রয়কেন্দ্রে হিসেবে ব্যবহার করা হবে বলে জানায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিল্টন রায়। এছাড়া গতকাল দিনভর উপকূলের সর্বত্র মাইকিং করে জনসাধারণকে সতর্ক করছে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কেন্দ্রের (সিপিপি) স্বেচ্ছাসেবগণ। সিপিপি’র ১৫টি টিমে স্বেচ্ছাসেবক আছে ৯৪৫ জন।
সন্দ্বীপ প্রতিনিধি অপু ইব্রাহীম জানান, গতকাল দিনভর সতর্কতামূলক মাইকিং করেছে সিপিপি’র সদস্যরা। উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের ১৪৬ ইউনিটের দুই হাজার ১৯০ জন স্বেচ্ছাসেবকক প্রচারণা চালায়। পরিত্যক্ত সাইক্লোন শেল্টারকে অবস্থানের উপযোগী করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিদর্শী সন্বোধী চাকমা বলেন, সন্দ্বীপে ১১০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে গতকাল বিকেল পর্যন্ত পাঁচ হাজার লোক আশ্রয় নেয় বলেও জানান তিনি। আশ্রয়কেন্দ্রে শুকনো খাবারসহ বিভিন্ন উপকরণ মজুদ করা হয় এবং খোলা হয় কন্ট্রোল রুম।
কাপ্তাই প্রতিনিধি কাজী মোশাররফ হোসেন জানান, উপজেলার চন্দ্রঘোনা, রাইখালী, চিৎমরম, কাপ্তাই এবং ওয়াগ্‌গা ইউনিয়নে ৫টি আশ্রয় কেন্দ্র খুলেছে উপজেলা প্রশাসন। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের প্রশাসনের উদ্যোগে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসা হচ্ছে। যে কোন ব্যক্তি বা পরিবার ইচ্ছা করলেই আশ্রয় কেন্দ্রে এসে আশ্রয় নিতে পারবেন বলেও উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান। এদিকে কর্ণফুলী পেপার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী ড. এম এম এ কাদেরের নির্দেশে কেপিএম এলাকায় বুলবুলের আঘাত মোকাবেলায় প্রশাসন বিভাগকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। কেপিএমের নিজস্ব দমকল বাহিনী, নিরাপত্তা বাহিনী, সকল কর্মকর্তা কর্মচারি এবং সিবিএ নের্তৃবৃন্দও প্রস্তুত রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে। বুলবুল মোকাবেলায় কেপিএমের সকল কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

x