আশি দশকে প্রতিষ্ঠিত রাউজানের বাংলামুখ এখনো সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে ঝংকার তুলছে

মীর আসলাম

বৃহস্পতিবার , ২৪ জানুয়ারি, ২০১৯ at ৪:৫৭ পূর্বাহ্ণ
84

আশি দশকে রাউজানে প্রতিষ্ঠিত সাংস্কৃতিক সংগঠন “বাংলামুখ”এখন সুরের মুর্চনা ও রুমঝুম নাচে রাউজানকে জাগিয়ে রেখেছে। এই প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিবছর সৃষ্টি হচ্ছে নতুন নতুন শিল্পী। নাচ, গান, আবৃতি ও চিত্রাঙ্কন পাঠ নিয়ে তারা এখন বিভিন্ন অনুষ্ঠান মাতাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের অন্যতম পরিচালক হাসান মোহাম্মদ রাসেল বলেছেন বিগত তিন দশকের বেশি সময় আগে “বাংলামুখ” আত্মপ্রকাশ করার পর শত শত শিল্পী এই প্রতিষ্ঠান থেকে বের হয়েছে। বিভিন্ন কারণে মাঝ পথে প্রতিষ্ঠানটির কিছুটা ছন্দপতন ঘটলেও বিগত প্রায় এক দশক থেকে প্রতিষ্ঠানটি যোগ্য পৃষ্ঠপোষক পেয়ে রাউজানের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে জাগিয়ে রেখেছে। তিনি জানান,বাংলামুখ এখন বাংলামুখ শিল্পকলা একাডেমি হিসাবে পরিচিত। এই প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করতে বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা দিয়ে আসছেন রাউজানের সাংসদ এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী। তার পৃষ্ঠপোষকতা পেয়ে সংগঠনটি গতিশীল হয়েছে। রাউজান সরকারি কলেজ গেইটে (সুর্য সেন চত্বরে) প্রতিষ্ঠানটির কর্মকাণ্ড পরিচালনায় একটি ঘর পেয়েছে। জানা যায়, এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীর সংখ্যা তিন শতাধিক। তারা গান, নাচ, আবৃতি, তবলা, গিটার, বিভিন্ন ধরণে বাদ্যযন্ত্র, অভিনয় ও চিত্রাংকন শিক্ষা নিচ্ছে। এখানে বিভিন্ন বিষয়ের উপর শিক্ষা দিচ্ছেন অভি ঘোষ, সঞ্চিতা পালিত, রত্না দে, প্রিতম আচার্য্য. শুভ, মঞ্জু প্রমূখ। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন আশি দশকটি ছিল রাউজানের মানুষের জন্য সবচেয়ে খারাপ সময়। সন্ত্রাস নৈরাজ্যের জন্য আলোচনার কেন্দ্রবৃন্দু ছিল এই উপজেলা। উপজেলার নামের আগে জুড়ে ছিল কিলিং জোন রাউজান। সেই সময়কালের অস্থিতিশীল পরিবেশ পরিস্থিতি থেকে যুব সমপ্রদায়কে বের করে এনে শিক্ষা সাংস্কৃতিতে মনোযোগি করতে এই সংগঠনটির জন্ম হয়েছিল। “বাংলামুখের” স্বপ্নদ্রষ্ট্রা ছিলেন তৎকালিন সময়ে উদিয়মান যুবক কলেজ শিক্ষক প্রয়াত জসিম উদ্দিন। যিনি রাউজান ইউনিয়নের জারুলতলা গ্রামের সন্তান। তার সাথে ছিলেন রাউজানের প্রগতিশীল অনেক যুবক। তারা এখন সমাজে স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হলেও বাংলামুখকে সগৌরবে এগিয়ে চলার প্রেরণা জোগাচ্ছে।

x