আরো দুই ইসি কর্মচারী গ্রেপ্তার

এনআইডি জালিয়াতি

আজাদী প্রতিবেদন

বৃহস্পতিবার , ১৪ নভেম্বর, ২০১৯ at ২:৫৯ পূর্বাহ্ণ
57

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) জালিয়াতির ঘটনায় জড়িত নির্বাচন কমিশনের দুই কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি)। রোহিঙ্গাদের এনআইডি পাইয়ে দেয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার দুজনকে সাতদিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছে আদালত। এরা হলেন- চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারী আবুল খায়ের ভূঁইয়া (৪৫) ও মীরসরাই উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের অফিস সহকারী আনোয়ার হোসেন (৪৫)।
নির্বাচন কমিশনের অনুমতি পাওয়ার পর মঙ্গলবার তাদেরকে নিজ নিজ কর্মস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে সিএমপির কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের (সিটিটিসি) পরিদর্শক রাজেশ বড়ুয়া জানিয়েছেন। তিনি জানান, এনআইডি জালিয়াতির ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিন হেফাজতে চেয়ে চট্টগ্রামের আদালতে আবেদন করা হয়। আদালত সাতদিন হেফাজতের আদেশ দিয়েছে। এর আগে তাদের রিমান্ডের উপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এ নিয়ে আলোচিত এ মামলায় ১০ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলো।
প্রসঙ্গত: গত অগাস্টে এক রোহিঙ্গা নারী ভুয়া এনআইডি সংগ্রহ করে চট্টগ্রামে পাসপোর্ট নিতে গিয়ে ধরা পড়ার পর জালিয়াত চক্রের খোঁজে নামে নির্বাচন কমিশন। আটকে দেয় রোহিঙ্গা সন্দেহে অর্ধশত এনআইডি বিতরণ। এরই মধ্যে এনআইডি জালিয়াতিতে সম্পৃক্ততার অভিযোগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম নির্বাচন কার্যালয়ের অফিস সহায়ক জয়নাল আবেদীন নামে একজনকে তার দুই সহযোগী ও এক ল্যাপটপসহ আটক করে পুলিশে দেন কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় চট্টগ্রামের ডবলমুরিং উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা পল্লবী চাকমা বাদি হয়ে কোতোয়ারী থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তভার পায় কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। জয়নালের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে মোস্তফা ফারুক নামে প্রকল্পের অধীনে কারিগরি সহায়তা কর্মীকে এবং তার দেওয়া তথ্যে আইডিইএ প্রকল্পের কারিগরি বিশেষজ্ঞ শাহনুর মিয়াকে ২৩ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। শাহনূর দেশের বিভিন্ন উপজেলার পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে সার্ভারে প্রবেশ করতে পারতেন। তার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের এনআইডি তৈরি করা হত। এরমধ্যে কোতোয়ালী থানার ডেটা এন্ট্রি অপারেটর মো. শাহীন, বন্দর থানার ডেটা এন্ট্রি অপারেটর মো. জাহিদ এবং ডবলমুরিং থানার ডেটা এন্ট্রি অপারেটর পাভেল বড়ুয়াকেও গ্রেপ্তার করা হয়। এদের মধ্যে শাহীন শাহনূর মিয়ার স্ত্রীর বড় ভাই। গ্রেপ্তার আটজনের মধ্যে শাহনূর, মোস্তফা, শাহীন, জাহিদ, পাভেল এনআইডি প্রকল্পের অধীনে কর্মরত। বাকি দুজন জয়নালের বন্ধু। গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে আদালতে জয়নাল, মোস্তফা ও শাহনূরের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে জালিয়াতিতে কার কী ভূমিকা পরিষ্কার করেছেন বলে জানা গেছে। তাতে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা, স্থায়ী ও অস্থায়ী কর্মচারীসহ এনআইডি জালিয়াতিতে অন্তত ৩০ জনের নাম এসেছে বলে তদন্ত কর্মকর্তা জানান।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এসব কর্মচারী ২০১৪ সাল থেকে জালিয়াতি করে রোহিঙ্গাদের ভোটার করা ও এনআইডি দেওয়ার কাজ শুরু করলেও গত তা ব্যাপকতা পায়। গ্রেপ্তারকৃতরা অতীতে একসাথে কাজ করলেও টাকার ভাগ নিয়ে বছরখানেক আগে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। ভেঙে যায় ‘ঐক্য’। এরই প্রেক্ষিতে একে একে গ্রেপ্তার হয়ে আইনের আওতায় আসেন। এদিকে এ জালিয়াত সিন্ডিকেটে শুধু কর্মচারীরা আছে তা নয়। তাদের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কয়েকজন এ দলে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
কাউন্টার টেরোরিজম থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, গ্রেপ্তার মো. আবুল খায়ের ভূঁইয়া কুমিল্লা সদরের ক্যান্টনমেন্ট এলাকার মৃত আনু মিয়া ভূঁইয়ার ছেলে। গ্রেপ্তার আরেকজন আনোয়ার হোসেন নোয়াখালী জেলার সেনবাগ উপজেলার বসন্তপুর গ্রামের আরব আলীর ছেলে।

x