(আমি কেন লেখালেখি করি?)

সৈয়দা সেলিমা আক্তার

শুক্রবার , ১৯ জুলাই, ২০১৯ at ৭:১৭ পূর্বাহ্ণ
87

: একদা স্নানের /আগারে পশিয়া/হেরিনু মাটির/ ঢেলা হাতে নিয়া/দেখিনু তাহারে/সুবাস রয়েছে /মেলা কহিলাম তাহারে /কস্তুরী তুমি/তুমি কি আতর দান/তোমার গায়েতে/সুবাস মেলা/তুমি কি গুলিস্তান? -শেখ সাদী
মায়ের মুখে শোনা শৈশবের এ কবিতায় একটি মাটির টুকরো পেলেন কবি স্নান করতে গিয়ে। হাতে নিয়ে সুবাসে বিমোহিত হয়ে তিনি, এ কবিতা লিখেছেন। কবির স্তুতির উত্তরে মাটির টুকরো বলেছিলো- ওইসব কিছু নহি/আমি অতি নিচু /মাটি/ফুলের সহিত থাকিয়া/তাহার সুবাসে হইনু/ খাঁটি। ফুলের সাথে থেকে মাটি ও সুবাসিত। সৎ ব্যবহার,খোদার সৃষ্টি জীবের প্রতি দয়া, সৌন্দর্য সব কিছুর অপরূপ সমন্বয় দেখেছি আমার মায়ের মধ্যে। বাবা ছিলেন দৈনিক মিছিল পত্রিকার সম্পাদক। মনোযোগ দিয়ে লেখা পড়তেন।লেখার পেপার কাটিংস না করে জেরোঙ করতে বলতেন। নানী ও ছিলেন স্বশিক্ষিত বিদুষী মহিলা। বই পড়তে ভালোবাসতেন। আমার বাবা -ভাই-বোনদের বইয়ের সংগ্রহ ওপাঠ অভ্যাস, বইপড়া লেখালেখির দিকে টানতো আমায়। আর একটা ব্যাপার না বললেই নয় আমার কল্পনা প্রবণ মন সাঁতার কাঁটতো পুকুরে হাঁস হয়ে অথবা, ফুলের সুগন্ধে বিমোহিত হয়ে যেতাম। ক্লাস থ্রিতে পড়ার সময়’ পুকুরে -বাগানে’ শিরোনামে চার লাইনের ছড়া লিখে ফেলি। লেখাটা ‘ময়ূখ’ ম্যাগাজিনে ছেপেছিলেন আমার বড় ভাই মুহাম্মদ আলীশাহ্‌। সেই থেকে লেখালেখির পোকাটা অজান্তে ঢুকে গেছে মাথায়।সেই উৎসাহে আজও লিখি। আমার জীবন সঙ্গীও লেখক। লেখক হতে চাওয়াই যেনো আমার ধ্যান-জ্ঞান।

x